বেদে সম্প্রদায়ের যাযাবর জীবন যাত্রা

প্রকাশিত: মে ৯, ২০১৯; সময়: ২:৩০ pm |

নুরনবী মিয়া, কুড়িগ্রাম : “বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস বাপুরে, অায় বাবা দেখে যা , দুটি সাপ রেখে যা” কবির এ চেনা চরণগুলো অাবহমান গ্রামবাংলার সাপখেলার এক ঐতিহ্য বহন করে অাসছে অন্তকাল ধরে। ঐতিহ্যবাহী সাপ খেলা ও বানরের খেলা দেখিয়ে গ্রামবাংলার মানুষকে অানন্দদানে বিমোহিত করে তোলে এই বেদে সম্প্রদায়।

বাংলাদেশ ও ভারতের একটি যাযাবর জনগোষ্ঠী হলো এই বেদে সম্প্রদায়। এরা আগে সাধারনত নৌকায় বসবাস করতো। বর্তমানে অাধুনিকতার ছোঁয়ায় যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারনে নৌকা ছেড়ে স্থল পথে নেমে পড়েছেন। তাছাড়াও নদ-নদীর পানি কমে গেলে নৌকা চলাচল করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায়। এ কারনে বেচে নিয়েছা স্থল পথেকেই। ভ্রাম্যমাণ স্থল পথে ঘুরে বেড়ায় আর বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে তাঁবু গেড়ে তাঁবুতেই বসবাস করে । তাঁবুতে রান্না, খাওয়া থেকে শুরু করে তাঁবুতেই সবকিছু।

অামাদের কথা হয় তেমনই কয়েকটি বেদে পরিবারের সাথে। তারা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা পুলেরপাড় বাজার সংলগ্ন নীলকমল নদের তীরে অস্থায়ী বসতি গড়েছে। ৯-১০ টি পরিবার সেখানে ১২/১৪ দিন থেকে চলে যাবেন। তাদের সকলেরই বাড়ি যশোর জেলায়। পরিবারগুলো জানায় বছরের ৬ মাস জীবিকার জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান অার ছয় মাস স্থায়ীভাবে গ্রামের বাড়ীতেই থাকেন। অধিকাংশ সময়ে যাযাবর জীবন-যাপন করার কারণে তাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাবঞ্চিত হয়। যার ফলে জীবিকা হিসাবে বেচে নেয় পূর্বপুরুষের পেশাকে।

বেদে প্রধান বাপ্পারাজ বলেন, তারা গ্রামে-গ্রামে ঘুড়ে সাপ ধরা, সাপের খেলা, বানরের খেলা দেখানো, যাদুবিদ্যা প্রদর্শন করাসহ বিভিন্ন রকম কর্মকান্ডের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে নিজেদের বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাদের চিকিৎসা গুলোর মধ্য অন্যতম হলো শরীরের বিষ -ব্যাথা সিংগা দিয়ে নামানো। বিভিন্ন রোগের তাবিজ -কবজ প্রদান করা ইত্যাদি। তবে বেদেরা সবচেয়ে বেশি পরিমানে উপার্জন করে থাকেন বিভিন্ন রকমের সাপের খেলা দেখিয়ে। এছাড়াও মানুষকে সাপে কাটলে শরীর থেকে সাপের বিষ নামিয়ে দেন।

বেদে সম্প্রদায়ের স্বপন মিঞা, মিলন মিঞা ও রনি মিঞা জানান, খেলা দেখিয়ে আগের মতো তেমন অার অায় রোজগার হয় না। দিনে খেলা দেখিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই’শ থেকে তিন’শ টাকা অায় হয়। তা দিয়েই তাদের কোনরকমে দিন চলে যায়।

নারগিস বেগম ও সামিনা বেগম জানায়, বেদে সম্প্রদায়ভুক্ত নারীরাও গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাপের খেলা দেখায়। তাবিজ -কবজ ও বিভিন্ন ঔষুধি গাছের ছাল, বাকল, শিকড় বিক্রি করেন। বিভিন্ন রোগের রোগীদের ঝাড়ফুঁক করে অর্থ উপার্জন করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • নজিপুর বাসস্ট্যান্ড বনিক কমিটির নির্বাচনে সভাপতি বেন্টু ও সম্পাদক মিজান
  • নাচোলে জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে সংঘর্ষে আহত ৩
  • জয়পুরহাটে মাসব্যাপি তাঁতবস্ত্র, হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন
  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : পোরশায় খাদ্যমন্ত্রী
  • শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত
  • শিবগঞ্জে বিদুৎষ্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
  • জয়পুরহাটের আ’লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র মেয়র নারী প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
  • পাবনায় ‘পুলিশের বন্ধু বঙ্গবন্ধু’ নামে স্থিরচিত্রের উদ্বোধন
  • ফুলবাড়ীতে হাছেন আলী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
  • রাণীনগরে সাংবাদিকদের সাথে থানার নবাগত ওসি’র মতবিনিময়
  • চার দিনেও সন্ধান মেলেনি অজ্ঞাত শিশুর পরিবারের
  • আশুলিয়ায় শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে পাবনায় মানববন্ধন
  • সাঁথিয়ায় জাল দলিল তৈরী করে জমি দখলের অপচেষ্টা
  • ভাগ্নের হাতুড়ির আঘাতে মামা খুন
  • নওগাঁয় ৩৭ শিক্ষার্থীকে ‘শশীভূষণ চক্রবর্ত্তী মেধা শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান
  • উপে