রাজসিক নাটোরে মিলছে ঐতিহ্যের দূর্লভ স্মৃতিচিহ্ন!

রাজসিক নাটোরে মিলছে ঐতিহ্যের দূর্লভ স্মৃতিচিহ্ন!

প্রকাশিত: ০৯-০৩-২০১৮, সময়: ২২:০৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : আনুমানিক ১২০ বছর আগে দিঘাপতিয়ার রাজকন্যা ইন্দুপ্রভার লেখা এবং গোপনে তুলে রাখা ২৮৫টি প্রেমপত্র এখন নাটোর জেলা প্রশাসনের সংগ্রহশালায়। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত চাবিহীন একটি ট্রাঙ্ক থেকে সম্প্রতি দূর্লভ এই ঐতিহানিক নিদর্শনগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে ট্রাঙ্ক থেকে আরো মিলেছে তাঁর অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের পা-ুলিপি, দিনলিপি, রুপার ফ্রেমে বাঁধানো ছবি, রাজকীয় দোয়াত-কলমসহ অনেক কিছু।

এর আগে গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাজবাড়ির সিন্দুক, রাজা-রানির ছবি, মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজমুকুট, রাজপরিধেয় সহ অমূল্যসব জিনিসপত্র। আজ থেকে এগুলো উত্তরা গণভবন সংগ্রহশালায় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মূলত ১৯৫৬ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তিরর পর এই রাজপরিবার ভারতে চলে যায়। এর পর থেকে হারাতে থাকে মূল্যবান জিনিসগুলো।

সম্প্রতি নাটোরের রাজসিক ঐতিহ্য ফেরাতে জেলা প্রশাসন খোঁজা শুরু করে দিঘাপতিয়ার রাজার স্মৃতিচিহ্ন। গণভবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে খোঁজ করে উদ্ধার করা হয় সিন্দুক, রাজা-রানির ছবিসহ অনেক কিছু। তন্মধ্যে, জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে একটি ট্রাঙ্কের ওপরে লেখা রয়েছে রাজকুমারী ইন্দুপ্রভা। ট্রেজারিতেই পাওয়া যায় মহামূল্যবান পাথরখচিত রাজার মুকুট, জরির জামা, হাতির দাঁতের হাতল লাগানো ছুরি, দামি পাথর কেটে তৈরি রাজবাড়ির থালাবাসনসহ অনেক কিছু। এরই মধ্যে একটি ছবিও পাওয়া যায়। এটি রুপার ফ্রেমে বাঁধানো। ছবিটির পরিচয় খুঁজতে গিয়ে ফ্রেম খোলা হয়। এর পর দেখা যায়, ফ্রেমে আড়াল হয়েছিল রাজকুমারী ইন্দুপ্রভার নাম। রাজবংশের চতুর্থ পুরুষ প্রমথনাথের কন্যা ছিলেন ইন্দুপ্রভা। গত সোমবার ট্রাঙ্ক থেকে বের করা হয় ইন্দুর হাতের লেখা ১০টি ডায়েরি। এর মধ্যে একটিতে শুধু কবিতা। অন্যগুলোতে তাঁর আত্মজীবনী। ইন্দুর কাছে বিয়ের আগে ও পরে ২৮৫টি চিঠি লিখেছেন মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী।

প্রতিটি চিঠির শেষে লেখা রয়েছে, ‘তোমারই মহেন্দ্র’। ইন্দুকে সম্বোধন করা হয়েছে ‘প্রিয়তমে’ হিসেবে। চিঠির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে মান-অভিমান। ইন্দুপ্রভা কলকাতায় থাকার সময় তাঁকে তিনটি ঠিকানায় চিঠি দিয়েছেন। আবার ইন্দু যখন রাজবাড়িতে থেকেছেন, তখনো কলকাতা থেকে মহেন্দ্র তাঁকে চিঠি লিখেছেন। দিঘাপতিয়া চিঠিপত্রে তাঁর নাম কখনো রাজকুমারী ইন্দুপ্রভা, কখনো শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা দেবী আবার কখনো শ্রীমতী ইন্দুপ্রভা চৌধুরানী লেখা পাওয়া গেছে। মহেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ইন্দুপ্রভার স্বামী। তবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

ছোট্ট ছোট্ট খামে ভরা চিঠিগুলো খুবই যতেœ ভাঁজ করে রাখা। প্রায় ১২০ বছর বা তার কাছাকাছি সময় ধরে চিঠিগুলো ওভাবেই খামের ভেতরে রয়েছে। চিঠিগুলো এখনো পড়া যাচ্ছে। একইভাবে ইন্দুর হাতের লেখা কবিতা ও তাঁর আত্মজীবনীও পড়া যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগর কবিতায় ইন্দুপ্রভা লিখেছেন, ‘সচঞ্চল নীল জল করিছে কি ঝলমল/জ্যোৎস্না মাখিয়া গায় সমুজ্জ্বল নিরমল’। ডায়েরির অনেক লেখাই তিনি রাজশাহীতে বসে লিখেছেন। ১৩১১ বঙ্গাব্দের নববর্ষের দিনের কথা লিখেছেন রাজশাহীতে বসে। রাজশাহীকে তখন রামপুর লেখা হতো। প্রতিটি লেখার সঙ্গে তিনি বাংলা ও ইংরেজি তারিখ বারসহ লিখেছেন।

১৩০৪ সালে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির প্রাইভেট সেক্রেটারির প্যাডে মহেন্দ্র কলকাতার ঠিকানায় ইন্দুকে লিখেছেন। বারবার তাগাদা দিয়ে খাম পাঠিয়েও ইন্দুর চিঠি পেতে দেরি হওয়ায় মহেন্দ্র তাঁর চিঠির শেষ বাক্যে লিখেছেন, ‘একবার কলকাতায় যেতে পারলে বাঁচি’।

তখন যে দোয়াত-কলম ব্যবহৃত হতো সেগুলোও অবিকল রয়েছে ইন্দুর ট্রাঙ্কে। এমন দূর্লভ স্মৃতিচিহ্নের সন্ধানে দারুণ খুশি নাটোরের মানুষ। তারা জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আরও খবর

  • আড়াইশ’ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত
  • রাজশাহীতে আম ১২ টাকা কেজি!
  • নতুন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের যত সাফল্য
  • রাসিকের মেয়র একক, কাউন্সিলরে তিন প্রার্থীর নাম যাচ্ছে কেন্দ্রে
  • রাসিকে বিএনপির প্রার্থী বুলবুল, মনোনয়নপত্র তুলবেন সুইট
  • রাজশাহীতে আষাঢ়ে চৈত্রের রূপ
  • ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পানি সংকটের মুখোমুখি ভারত
  • রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন
  • ঈদ ও ঈদের নামায
  • পাকিস্তান দূতাবাসে বিএনপি নেতাদের বৈঠক
  • বিশ্বকাপের চোখ ধাঁধানো উদ্বোধন
  • রাজশাহীর বিউটি পার্লারগুলোতে সাজ-সজ্জায় মেতেছে নারীরা
  • রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এর সময়সূচী
  • এবারের ঈদে ঘরে-বাইরে ভোটের আমেজ
  • পাঁচ বছরে দেউলিয়া রাসিক


  • উপরে