তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা

তারাবীহ জামাতের সাথে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা

প্রকাশিত: 24-05-2019, সময়: 00:32 |
খবর > ধর্ম
Share This

হোছাইন আহমাদ আযমী : তারাবীহর নামায ও মাসায়েলঃ রমযান মাসে ইশার নামাযের পর ইশার ওয়াক্তের মধ্যে যে বিশ রাকাআত সুন্নাতে মোয়াক্কাদা পড়তে হয় তাকে তারাবীহর নামায বলে। নারী পুরুষ উভয়ের জন্য তারাবীহর নামায সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ। তারাবীহ শব্দের অর্থ বিশ্রাম করা। পারিভাষিক অর্থে রমজান মাসে তারাবীহের নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর কিছু সময় বিশ্রাম করাকে তারাবীহ বলা হয়। সেই দৃষ্টিকোন থেকে সম্পূর্ণ নামাজটাই তারাবীহ নামে অবিহিত হয়ে গেছে। তারাবীহ শব্দটি বহুবচন। আরবীতে বচন তিন প্রকার, এক বচন, দ্বি-বচন, বহুবচন। সেই দিক থেকে সর্বনিম্ন ১২ রাকাত তথা তিন বার বিশ্রাম করলেই সেই নামাজকে তারাবীহ (বহু বচন) নামকরণ যথাযথ হবে। রাসূল স. এর থেকে বর্ণিত হাদীসে তারাবীহের রাকাত সংখ্যা বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। তাই সাহাবায়ে কেরামের আমলের দিকে তাকালেই রাসূলের প্রকৃত ও সিন্ধান্তমূলক আমল আমাদের জানা হয়ে যাবে। হযরত উমর রা., হযরত উসমান রা., হযরত আলী রা. সহ প্রায় সকল প্রসিদ্ধ সাহাবীগণই বিশ রাকাত তারাবীহ পড়েছেন। তারই ধারাবাহিকতা আজ অবদি মসজিদে হারাম কাবা প্রাঙ্গন ও মসজিদে নববীসহ বিশে^র কেন্দ্রিয় মসজিদগুলোতে ২০ রাকাত তারাবিহ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১. বিশ রাকাআত তারাবীহ পড়া সুন্নাতে মোয়াক্কাদা।
২. তারাবীহর নামায জামাতের সাথে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদায়ে কেফায়া।
৩. প্রতি চার রাকাআত তারাবীহর পর এবং বিশ রাকাআতের পর বিতরের পুর্বে চার রাকাআত নামায পড়ার সময় পরিমান বিশ্রাম নেয়া মোস্তাহাব। কিন্তু মুসল্লিদের কষ্ট এবং মুসল্লি হ্রাস পাওয়ার আশংকা হলে এত সময় বিশ্রাম না করে অল্প বিশ্রাম করবে। (বেহেশতি জেওর)
৪. উক্ত বিশ্রামের সময় চুপচাপ বসে থাকা, তাসবীহ তাহলীল, তিলাওয়াত, দুরুদ শরীফ পড়া, বা নফল নামায পড়া সবই জায়েয। আমাদের দেশে প্রচলিত সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি……. তিনবার পড়ার যে প্রচলন আছে তাও জায়েয। এটাই পড়তে হবে এমন কোন কথা নেই। কেননা এই দোয়াটা হাদীস দ্বারা প্রমানীত নয়। এর চেয়ে “সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুল্লিাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার” বার বার পড়তে থাকা উত্তম। এসব দোয়া নিরবে পড়তে থাকা মোস্তাহাব। (ফতুয়ায়ে দারুল উলুম ৪র্থ খন্ড)

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা-১৫
জার্মান, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি টিম রোযা সংক্রান্ত এক পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে কোন এক মুসলিম দেশে গেল। তাদের গবেষনা ছিল, কিভাবে রমযানুল মুবারক মাসে কান নাক ও গলার রোগ-ব্যাধি হ্রাস পায়। উক্ত অনুসন্ধানের জন্য তারা সে দেশের তিনটি শহর নির্বাচন করে। উক্ত সার্ভে রিপোর্টের সার সংক্ষেপ হল- মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রামযান মাসে অধিক গুরুত্ব নিয়ে তা আদায় করে, এ কারণে অযুও করে গুরুত্বের সাথে। এই অযুর কারণে তার নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তার মস্তিষ্ক এবং হার্ট রোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক জং-১৯৮৮)

উপরে