গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

প্রকাশিত: ১১-০৬-২০১৯, সময়: ১৬:২৯ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন মাইলফলক স্থাপনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে শিগগিরই গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। এর ফলে তৃণমূলের মানুষকে আরও বেশি ডিজিটাল সেবার আওতায় নিয়ে আসার পথও সুগম হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক স্থাপনে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই শেষ হবে পুরো প্রকল্পের কাজ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের দুটি বেসরকারি এনটিটিএন কোম্পানি- ফাইবার অ্যাট হোম ও সামিট কমিউনিকেশন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আর এ প্রকল্পে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে চীনের হুয়াওয়ে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সমকালকে জানান, চলতি জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে প্রকল্পটি আরও ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

একনজরে ইনফো সরকার-৩ :তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প হাতে নেয় ২০১৬ সালে। এর আগে বিসিসি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অফিসে ব্রডব্যান্ড সেবা দেওয়ার জন্য ইনফো সরকার-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্প নেওয়া হলেও দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে এটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্নিষ্টদের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ২২৭ কোটি টাকা এবং সরকার বহন করছে ৭৭২ কোটি টাকা।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ৬৩টি উপজেলার ৪৪৮টি উপজেলার দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এ প্রকল্পের অধীনে ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩২ জেলার ২৪৭ উপজেলার এক হাজার ৩০৭টি ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ফাইবার অ্যাট হোম। বাকি ৩১ জেলার এক হাজার ২৯৩টি ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সামিট কমিউনিকেশন। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী কোম্পানি দুটি পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করবে এবং ২০ বছর মেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ করবে। প্রকল্পে ট্রান্সমিশন লিঙ্ক স্থাপনে সর্বাধুনিক ডিডব্লিউডিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্পের বর্তমান চিত্র :প্রকল্প সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাস পর্যন্ত ফাইবার অ্যাট হোম এক হাজার ৩০৭টি ইউনিয়নের মধ্যে এক হাজার ৬৯টি ইউনিয়নের কাজ শেষ করেছে। আর সামিট কমিউনিকেশন এক হাজার ২৯৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯৫০টির কাজ শেষ করেছে। প্রকল্পে ট্রান্সমিশন লিঙ্ক নির্মাণে ১০০ জিবি সক্ষমতার ডিডব্লিউডিএম কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। এরই মধ্যে যেসব ইউনিয়নে লিঙ্ক স্থাপন এবং নেটওয়ার্ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, সেসব ইউনিয়নে এখনই ব্রডব্যান্ড সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে সেবাদানের কাজও চলছে।

সূত্র জানায়, পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করে নেটওয়ার্কের সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার পরই সাধারণ পর্যায়ে এ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য উদ্বোধন করা হবে। যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে প্রকল্প থেকে :প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশ

নির্মাণের পথে নতুন একটি মাইলফলক। বিশেষ করে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে সত্যিকারের ব্রডব্যান্ড সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। ফলে শহর আর গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য দূর হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের সফলতার ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল সেবা আরও বিস্তৃত করতে ইনফো সরকার-৪ প্রকল্পও নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি এনটিটিএন কোম্পানি ফাইবার অ্যাট হোমের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স আব্বাস ফারুক সমকালকে বলেন, গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড সেবা নিশ্চিত হওয়ার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল, কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া গ্রাম পর্যায়ে ওয়াইফাই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনামূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া যাবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

উপরে