নির্বাচনকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং ডিসেম্বরে!

নির্বাচনকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটরিং ডিসেম্বরে!

প্রকাশিত: ২৯-১১-২০১৮, সময়: ১৭:৫৯ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মধ্য নভেম্বর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নজরদারি (মনিটর) করার কথা থাকলে যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় দেরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টেস্ট রান সম্পন্ন হলে মধ্য ডিসেম্বর থেকে মনিটরিং শুরু করবে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের এ-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শেষ হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এ-ও বলছেন, সমন্বিতভাবে না হলেও বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে মনিটরিংয়ের কাজ চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও শুরু হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্লগ ও ওয়েবসাইট মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বিতর্কিত পোস্ট, ঘৃণাসূচক বক্তব্য প্রচার ও কদর্য ভিডিওবার্তা প্রচার করে কেউ যেন সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টুইটারে সরকারবিরোধী অপপ্রচার যেন কেউ চালাতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লগসহ এ ধরনের ওয়েবসাইটে যেন কেউ কোনও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালাতে না পারে, বিনা কারণে উসকানি দিতে না পারে, সেদিকেও চোখ রাখা হবে।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ছিল মধ্য নভেম্বর থেকে মনিটরিংয়ের কাজ শুরু করা। সেটাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি, মধ্য ডিসেম্বর থেকে তা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটর করার জন্য আমরা টেস্ট রান চালাবো। টেস্ট রানে সক্ষমতা অর্জন করলে পূর্ণাঙ্গ মনিটরিং শুরু হবে। তখন কে কী অ্যাপ ব্যবহার করছে, কী ধরনের তথ্য অনলাইনে আপলোড করছে বা কে অনলাইনে খারাপ কী কাজ করছে, তার আমরা দেখতে পারবো, চিহ্নিত করতে পারবো। আমাদের বিভাগের সেই সক্ষমতা দাঁড়াবে।’

তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটা ডিজিটাল ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বলে একটা অংশ আছে কিন্তু বেশিরভাগ বাবা-মা তা ব্যবহার করতে পারেন না বা জানেন না। এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা এমন একটা ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি যেন অনেক সাইট আমাদের দেশে ওপেন (খুলবে) হবে না।’

সরাসরি পর্নোগ্রাফি বন্ধের কথা না বললেও সেই বিষয়ে ইঙ্গিত করে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী  বলেন, ‘যেসব সাইটের কারণে তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে, সেগুলো চালু থাকার দরকার কী।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অনেক সাইট বন্ধ করা হয়েছে কিন্তু কোনও সুফল দীর্ঘ মেয়াদে পাওয়া যায়নি। কারণ হ্যাকাররা বিভিন্ন উপায়ে ‍ওইসব সাইট আবার চালু করে ফেলেছে। মনিটরিং ডিভাইস বসালে তা আর সম্ভব হবে না।’

জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ডট (ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম), এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার) ও র‌্যাব নির্বাচনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটর করবে। তিনটি বিভাগ সমন্বিতভাবে মনিটর করবে না পৃথকভাবে করবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সবাই পৃথকভাবে করলেও একটা সমন্বয় তো থাকবেই। ধরা যাক, ডট যে অংশটুকু মনিটর করবে, র‌্যাব বা এনটিএমসি তা করবে না। ওরা যেটা করবে না, সেটা আমরা করবো। এই সমন্বয় তো কাজে থাকবেই।’ তবে মন্ত্রী এ-ও উল্লেখ করেন, ‘আমাদেরটা তো নির্বাচনকালীন বা স্বল্প সময়ের জন্য নয়। সব সময়ই এটা চলমান থাকবে। ফলে সমন্বয়ের বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটর করা হতে পারে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারভিত্তিক দু’ভাবেই মনিটর করা হতে পারে। অনেক সময় ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়ার মাধ্যমে সরকার নজরদারি করতে পারে। সরকার যেমন বিভিন্ন সময়ে তার প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়ে থাকে। এবারও সেভাবেই সব ঘটতে পারে। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সক্ষমদের মাধ্যমে ফেসবুক নেটওয়ার্ক মনিটর করা হতে পারে।

জানা গেছে, বিদেশে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য পৃথক পৃথক কোম্পানি রয়েছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশেও দুই-একটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে থাকে। গবেষণার প্রয়োজনেই প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক যোগাযোম মাধ্যম মনিটর করে সমসাময়িক ট্রেন্ড বোঝার জন্য। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও নিতে পারে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রেনিওর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সরকারের কোনও পক্ষ থেকে এ ধরনের তথ্য আমাদের কাছে চাওয়া হয়নি।’

সরকার থেকে কোনও ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে আইআইজি প্রতিষ্ঠান (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) ঢাকা হাবের প্রধান নির্বাহী আমিনুল হাকিম বলেন, ‘সরকার থেকে আমরা এ বিষয়ে কোনও নির্দেশনা পাইনি। পেলে যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হবে।’ তিনি জানালেন, ‘মনিটর বা ব্লকের কোনও বিষয় হলে নির্দেশনা আইআইজি লেভেলেই আসবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ ধরনের নির্দেশনা যেতে পারে। তার আগে আইআইজিগুলোতে ডিপিআই (ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন) ডিভাইস বসানো হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নজরদারি করে কোনও কিছু পেলে এই ডিভাইস দিয়ে ফিল্টারিং করা হবে। মনিটরিং হবে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকম মিনটরিং সেল) ও ডটের (ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম) মাধ্যমে। আইআইজির পার্টটা ডট করবে বলে জানা গেছে।

Leave a comment

আরও খবর

  • অসুস্থ মিনুর পাশে নাদিম
  • রোকেয়া পদক পেলেন রাজশাহীর জিনাতুন নেসা তালুকদার
  • বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন মনির খান
  • মাশরাফিকে জয় উপহার দিল টাইগাররা
  • সরকারি চাকরিতে ‘ডোপ টেস্ট’ বাধ্যতামূলক
  • নাটোরের সিংড়ায় আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১২
  • রাজশাহীতে ভোটের মাঠে লড়বেন ২৫ প্রার্থী
  • উন্নয়নের পক্ষে রায় দেয়ার আহ্বান মেয়র লিটনের
  • দুর্গাপুরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের সভায় হাতাহাতি
  • রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল আউট, নাদিম ইন
  • ‘মেয়র পদে থেকেই সংসদ নির্বাচন করা যাবে’
  • ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিনিধিত্ব করছে তরুণ প্রজন্ম’
  • রাজশাহীতে শিবিরের ওয়ার্ড সহ-সভাপতিসহ আটক ৭৪
  • একমাত্র রাষ্ট্রপতিই খালেদা জিয়াকে ক্ষমা করতে পারেন : কাদের
  • মিনুর পাশে নেই বুলবুল


  • উপরে