পড়ালেখায়ও চ্যাম্পিয়ন আকবর

পড়ালেখায়ও চ্যাম্পিয়ন আকবর

প্রকাশিত: ১১-০২-২০২০, সময়: ১১:১৩ |
খবর > খেলা
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : অনন্য নেতৃত্বে ও দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে বাংলাদেশকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছেন আকবর আলী। বিশ্ব দরবারে লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বভাবতই তাকে নিয়ে গর্বিত কোটি বাঙালি।

এরই মধ্যে ক্রিকেটবিশ্বে আকবর দ্য গ্রেট নামে পরিচিতি পেয়ে গেছেন ১৮ বছরের এ টিনএজার। তবে এ সাফল্য এমনি এমনি আসেনি। এতদূর আসতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। করতে হয়েছে অসাধ্য সাধন।

সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি আকবর। প্রতিনিয়ত দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। তবে দমে যাননি তিনি।

২০০২ সালে রংপুর মহানগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া হনুমানতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আকবর। বাবা ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোস্তফা ও সাহিদা বেগম দম্পতির চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট তিনি। মাত্র ছয় বছর বয়সে পাড়ার গলিতে টেপ টেনিস বল আর ভাঙা ব্যাটে খেলা শুরু করেন আকবর। খেলতে খেলতে বড় ভাইয়ের পরামর্শে একাডেমিতে অনুশীলন শুরু করেন।

ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আসক্ত ‘আকবর দ্য গ্রেট’। ক্রিকেটে ছেলের আসক্তি দেখে বাবা তাকে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে অসীম মেমোরিয়াল ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করে দেন। একাডেমির কোচ অঞ্জন সরকারের হাত ধরে ক্রিকেটে তার সত্যিকারের হাতেখড়ি। সেখানে তিনি তিন বছরের অধিক প্রশিক্ষণ নেন।

২০১২ সালে দেশের সেরা ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে ভর্তি হন আকবর। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শুধুই এগিয়ে গেছেন। প্রথমে খেলেন বিকেএসপির বয়সভিত্তিক দলে। সেখানে দারুণ পারফরম্যান্সের বদৌলতে সুযোগ পেয়ে যান জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে তার।

শুধু ক্রিকেট নিয়েই পড়ে থাকেননি আকবর। পড়াশোনাটাও দুর্দান্তভাবে সামলেছেন তিনি। রংপুর বেগম রোকেয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিশু নিকেতন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন তিনি। পরে ভর্তি হন লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বিকেএসপিতে সুযোগ পান।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া ও খেলাধুলা একসঙ্গে চালান আকবর। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান তিনি। এইচএসসির রেজাল্টও মন্দ নয়। ২০১৮ সালে এতে জিপিএ-৪.৪২ পান ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক। শুধু খেলাধুলা নয়, পড়ালেখায়ও চ্যাম্পিয়ন তিনি।

Leave a comment

উপরে