কলসিন্দুরের মেয়েদের সামনে বিশ্বকাপের হাতছানি!

কলসিন্দুরের মেয়েদের সামনে বিশ্বকাপের হাতছানি!

প্রকাশিত: 06-07-2019, সময়: 18:45 |
খবর > খেলা
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কলসিন্দুরের মেয়েরা সেপ্টেম্বরে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়া কাপ খেলতে যাবেন৷ তাঁরা আশা করছেন এশিয়া কাপ জিতে সাফল্যের মুকুটে আরো একটি পালক যোগ করবেন৷ আর এই খেলার মাধ্যমে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হতে পারে৷

ঢাকায় ফুটবল ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করছেন কলসিন্দুরের ১৩ জন মেয়ে৷ এখান থেকেই থাইল্যান্ডে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দল গঠন করা হবে৷ দল হবে ১৯ জনের৷ তাতে শেষ পর্যন্ত কলসিন্দুরের কমপক্ষে ১০ জন মেয়ে থাকার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানি ছোটন৷ তিনি জানান টিমের নেতৃত্ব দেবেন কলসিন্দুরেরই মেয়ে মারিয়া মান্ডা৷

থাইল্যান্ডে ১৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপ একই সঙ্গে ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব৷ ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে এশিয়া থেকে তিনটি টিম অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে৷ স্বাগতিক দেশ হিসেবে থাকবে ভারত৷ সঙ্গে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন এবং রানার আপ দলও থাকবে৷

গোলাম রব্বানি বলেন, ‘‘আগেও আমরা এশিয়া কাপ খেলেছি৷ তবে এবার আরো ভালো করার আশা আছে৷ আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখি৷ কলসিন্দুরের মেয়েরাই আমাদের সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছে৷’’

এই দলের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন কালসিন্দুরের মেয়ে পূর্ণিমা বাটপর৷ দশম শ্রেণিতে পড়া পূর্ণিমার আশা তিনি শেষ পর্যন্ত টিকে যাবেন৷ খেলতে যাবেন থাইল্যান্ডে৷ চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলা শুরু করেছেন৷ তাঁর বড় বোনও ফুটবল খেলেন৷ তাঁকে দেখেই খেলা শুরু৷ পূর্ণিমা বলেন, ‘‘আমাদের আশা আমরা এবার এশিয়া কাপ জিতবো৷ তারপর বিশ্বকাপে যাবো৷ কলসিন্দুরের মেয়েরা তাদের খেলা দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চায়৷’’

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের স্কুলে এখন মোট ৫০ জনের মতো মেয়ে খেলছেন৷ তাঁরা স্কুল ফুটবল থেকে শুরু করে জাতীয় টিমেও আছেন৷ কলসিন্দুরের ফুটবলের কোচ জুয়েল মিয়া জানান, ‘‘জাতীয় নারী ফুটবল দলে কালসিন্দুরের ৬ জন আছেন৷ আর এখন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের জন্যও প্রস্তুতি চলছে৷ তারও প্রশিক্ষণ হচ্ছে৷ বয়সভিত্তিক সব জাতীয় দলেই কলসিন্দুরের মেয়েরা আছেন৷’’

কলসিন্দুর ফুটবল দলের ম্যানেজার মালা রানী সরকার জানান, ‘‘২০১১ সালে আমরা শুরু করি৷ এখন বাংলাদেশের ফুটবল মানে কলসিন্দুরের মেয়েরা৷ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা কাপ জিতে আমাদের মেয়েদের যাত্রা শুরু৷ আমাদের মেয়েরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফুটবল খেলেছে- থাইল্যান্ড, চীন, কাজাখস্তানসহ আরো অনেক দেশে৷’’

মালা রানী কলসিন্দুর স্কুল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক৷ তিনি নিজেও একসময় ফুটবল খেলতেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মেয়েদের অনুরোধে স্কুলটি সরকারি হয়েছে, বিদ্যুৎ এসেছে৷ কিন্তু এটা যে কত পশ্চাদপদ এলাকা কেউ বাস্তবে না আসলে তা বুঝতে পারবেনা৷’’

তিনি বলেন, ‘‘ওরা যখন স্কুল ফুটবলে জাতীয় পার্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে হাইস্কুলে উঠল তখন আমরা ভাবলাম ওরা এখন কী করবে? শুরু করে দিলাম পরের ধাপের কাজ৷ ওদের চেষ্টা আর আমাদের সহযোগিতায় আজকের পর্যায়ে এসেছে কলসিন্দুরের ফুটবলার মেয়েরা৷’’

কলসিন্দুরের মেয়েরা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোল্ডকাপ ফুটবলে জাতীয় পর্যায়ে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন৷ সেই দলের ফুটবলার আমেনা আক্তার৷ এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমরা কলসিন্দুরের মেয়েরা ফুটবল ছাড়া আর কিছু ভাবিনা৷ এখানে ফুটবল খেলায় কোনো বাধা নেই৷ সবাই অনুপ্রেরণা দেয়৷ আমি আমার ফুটবল খেলা চালিয়ে যতে চাই৷ সানজিদা আপু, মারিয়া আপুর মতো আমিও জাতীয় দলে খেলতে চাই৷’’

তারপরও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে৷ গত ১৪মে ভোরে কলসিন্দুর স্কুলের অফিস কক্ষে আগুন দেয় দৃর্বৃত্তরা৷ সেই আগুনে পুড়ে যায় ফুটবলারদের মেডেল, সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র৷ কলসিন্দুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন মিয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তদন্তে এটা নিশ্চিত যে কে বা কারা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে৷ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে৷ কিন্তু এখনো আগুনের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি৷ দুর্বৃত্তরা গ্রেপ্তার হলে তাদের উদ্দেশ্য জানা যাবে৷

উপরে