টেলিগ্রাম এখন শুধুই স্মৃতি

টেলিগ্রাম এখন শুধুই স্মৃতি

প্রকাশিত: ২১-০৪-২০১৯, সময়: ১২:০৫ |
Share This

ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : বাংলাদেশ ডাক বিভাগ গ্রাম আর শহরের দূরত্ব কমাতে পোষ্ট ই-সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে হাজার ডাকঘর অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকার চিন্তা থেকে বেরিয়ে এই অবস্থানে ফিরে এসেছে। কিন্তু অপর একটি খাত নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের চিন্তা ভাবনা নেই। আর তা হচ্ছে জেলা শহরের টেলিগ্রাম অফিস। পাশাপাশি প্রায় অর্ধ-সহস্রাধিক উপজেলার টেলিগ্রাম অফিস এখন একেবারে অকেজো ভুতুড়ে অবস্থার মধ্যে পড়ে রয়েছে। যার সম্পত্তির পরিমান কয়েক হাজার কোটি টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫ কাঠা জমির উপর বিশাল ভবন আছে। কয়েকটি রুম রয়েছে এই ভবনে স্টাফ রয়েছেন প্রায় দুই জন। এদের এই মূহুর্তে কোন কাজ নেই। ৬৪ জেলায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। এইসব অফিসের যিনি প্রধান কর্মকর্তাতার কোন কাজ নেই। তাই তিনি মাসে দুই/এক দিন আসেন। আর অপর ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ভবন দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভবনের প্রধান ফটকের গেট বন্ধ রাখেন ২৪ ঘন্টায়। মনে হলে চলে যান দেশের বাড়ি। এইসব অফিসে এক সময় ছিল টেলিগ্রাম করার টরে-টক্কা মেশিন। পরবর্তীতে যোগ হয় টেলিফোন। দুটোই এখন অকেজো।

সেই টেলিগ্রাম করতে কেউ আসেনা। তেমনি বিদেশে থাকা কোন আত্মীয় স্বজনের জন্য টেলিফোন ও করতে আসেনা। এমন কি দেশ ও দেশের বাহির থেকে কেউ টেলিফোনও করেনা। অনরূপ ভাবে একই অবস্থা উপজেলা পর্যায়ের অফিসেও। শুধু বসে বসে কাজ ছাড়াই বেতন গুনছে। এই হচ্ছে এক ধরনের অপচয়। এই সরকার বাধ্য হয়ে তাও চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার বলছে পোষ্ট অফিস থেকে আয় একেবারে উঠে গিয়েছিল। কোন আয় ছিলনা পোস্ট অফিস গুলোতে। তাই পোষ্ট ই-সেন্টার চালু করার লক্ষে প্রতিটি পোষ্ট অফিসে বা সেন্টারে ৩টি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার, ১টি মডেম ও ১টি স্ক্যানার দেয়া হয়েছে। আরো অনেক কিছু উপকরণ দেয়ার প্রকিয়া চলছে। পোষ্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ডিজিটাল পার্থক্য দূর হবে।

এই একই লক্ষ নিয়ে টেলিগ্রাম অফিস গুলোতে পোষ্ট ই-সেন্টারের মতো সামগ্রী সরবরাহ করলে ও টেলিফোন টি পুনর্জীবীত করলে জনগণ কম খরচে আত্মীয় স্বজনের সাথে কথোপকথনের সুবিধা পূর্বের মতো ফিরে পেত। পাশাপাশি অনলাইন সুবিধাদি বৃদ্ধি পেত। ওয়েব কেমের মাধ্যমে বিদেশে কথা বলতে পারতো। একই সাথে ই-মেইল চালু করা যেতে পারে। একই সাথে পোষ্টাল ক্যাশ কার্ড ইএমটিএস ও মোবাইল ব্যাংকিং দিলে পূর্বেও মতো সরোব হয়ে উঠতো অফিস। পাশাপাশি বৃদ্ধি পেত আয়। গ্রামের মানুষ আবার ছুটে আসতো পুরাতন টেলিগ্রাম অফিসে নানান ধরনের সুবিধা পেতে। শুধু যোগ করতে হবে একই সাথে কয়েকটি মোবাইল ফোন। যার মাধ্যমে বিদেশে কথা বলতে পারতো আত্মীয় স্বজনদের সাথে। যা সুবিধা পোষ্ট অফিসে ই-সেন্টারে চালু রয়েছে বা করতে যাচ্ছে তার সব গুলোই পুরান টেলিগ্রাম অফিসে চালু করলে জন-সাধারণ দরুন ভাবে উপকৃত হওয়া সহ অফিসটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেত। এমনকি বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদদাতারা পূর্বের মতই টরে টক্কা ব্যবহার না করে ইমেল সুবিদা পেত। শুধু বাড়তি রাখতে হবে একজন টাইপের লোক। যিনি কাগজে লিখে যাওয়া বক্তব্য টাইপ করে ইমেল করে দিতে পারতো।

একদিকে একজন সাংবাদদাতাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়াসহ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনতে হবেনা। বিধায় আর দেরি না করে পুরান টেলিগ্রাম অফিস গুলোতে পোষ্ট ই-সেন্টারের সব সুযোগ সুবিধা সন্নিবেশিত করলে গ্রাম ও শহরের দূরত্ব কমবে। পাশাপাশি পোষ্ট অফিসে একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যেই কাজ সেরে নিতে হবে। তার পর ছুটি হয়ে যাবে। কিন্তু পুরান টেলিগ্রাম অফিসে ই-সেন্টার চালু করলে রাতদিন ২৪ ঘন্টা চালু থাকতো এই সেবা। বিধায় দেরি না করে এই ধরনের সেবা খাতকে পুরা টেলিগ্রাম অফিসে চালু করলে ৬৪ জেলাসহ প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক উপজেলার ভবনসমূহ পড়ে না থেকে জনগনের সেবায় নিয়োজিত হতে পারতো।




উপরে