দেশেই তৈরি হবে রেলের আধুনিক বগি

দেশেই তৈরি হবে রেলের আধুনিক বগি

প্রকাশিত: ১৮-১২-২০১৭, সময়: ১৫:৪৩ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দেশের রেলখাত প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। বিদেশ থেকে প্রতিবছর বগি (কোচ বা ক্যারেজ) ও ইঞ্জিন কেনা বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। উপরন্তু এ দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রচুর সময়ও ব্যয় হয়। এতে রেলে বগি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেই রেলের বগি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এজন্য নতুন কারখানা স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। যার সিংহভাগ আসবে ভারতের প্রতিশ্রম্নত ঋণ থেকে। দেশের প্রথম এ কারখানা স্থাপন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সবকিছু ঠিক আগামী চার বছরের মধ্যে দেশে উৎপাদিত বগিতেই চলবে এদেশের রেলগাড়ি।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় রেল ওয়ার্কশপ সৈয়দপুরে অবস্থিত। যদিও স্বাধীনতার আগে থেকে মেরামতের পাশাপাশি এখানে সীমিত আকারে কিছু কোচ তৈরি করা হতো। তবে ১৯৯৩ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় ১১২ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এ ওয়ার্কশপে এখন রেলের বিদ্যমান পুরাতন ক্যারেজগুলো পুনর্বাসন করা হয়। বিদ্যমান সৈয়দপুর রেল ওয়ার্কশপের বিশাল এলাকা থাকায় সেখানে ক্যারেজ তৈরির পর্যাপ্ত জায়গাও পাওয়া যাবে। এসব বিবেচনায় একটি রেলওয়ে কোচ কারখানা স্থাপনের প্রস্ত্মাব করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা যায়যায়দিনকে বলেন, যাত্রী সেবার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দেশে রেলের কোচ নির্মাণের কাজ হাতে নিচ্ছে। বিদ্যমান কারখানাটি অনেক পুরনো, এখানে শুধুমাত্র কোচ মেরামত করা হয়। এজন্য বগি নির্মাণে নতুন নির্মাণ কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে একদিকে রেল খাতে নতুন প্রযুক্তির সংযোগ ঘটবে। অপর দিকে দেশের রেল খাতের সক্ষমতাও বাড়বে। আবার দেশের উৎপাদনের ফলে বগি সংগ্রহের ব্যয়ও কমে আসবে। প্রাথমিকভাবে বছরে ৬টি বগি তৈরি করা সম্ভব হবে এ কারখানায়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত রেল কোচগুলো মেরামত ও পুনর্বাসনে প্রচুর অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়। আবার নতুন কোচ আনতে প্রচুর সময় ক্ষেপণ হয়। এতে কোচ সংকটে প্রায়শই রেলের সেবা ব্যহত হয়। বিকল্প হিসেবে দেশে উৎপাদন করা গেলে সব সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করা যাবে। কর্মসংস্থান বাড়বে, আমদানি ব্যয়ও কমবে। এজন্য প্রস্ত্মাবিত ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ সৈয়দপুর ক্যারেজ তৈরি কারখানা নির্মাণ’ মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭৫৩ কেটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ থেকে ৬২৩ কোটি টাকা এবং সরকারি তহবিল থেকে আসবে ১৩০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতা কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন জনবল তৈরি, তাদের দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান, অবকাঠামো উন্নয়ন, মেকানিক্যাল পস্ন্যান্ট ও এর মেশিনারি স্থাপন, ইলেক্ট্রিক্যাল পস্ন্যান্ট ও মেশিনারিজ স্থাপন ইত্যাদি। প্রকল্পের উদ্দেশ্য যাত্রীবাহী রেল ক্যারেজের স্বল্পতা দূর করা, আমদানি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থসাশ্রয়, পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ক্যারেজ প্রতিস্থাপন করে নতুন ক্যারেজ সংযোজন, রেলের আয় বৃদ্ধি ও দেশের রেলখাতে স্বয়ংসম্পণূতা ও সক্ষমতা বাড়ানো।

প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তৈরি হবে যাত্রীবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন। বর্মতানে এ কারখানায় বছরে ৫৭০টি মিটারগেজ ও ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ ও ৪৩০টি পণ্যবাহী ওয়াগন মেরামতের সক্ষমতা রয়েছে। তবে কারখানাটি ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মেশিনারি যন্ত্রপাতির কার্যসক্ষমতা অনেক কমেছে। একই সঙ্গে জনবল রয়েছে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এর ফলে মেরামতের অপেক্ষায় থাকা কোচ-ওয়াগনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

রেলওয়ে সূত্র আরও জানায়, কোচ বা বগির চাহিদা বাড়ায় গত তিন-৪ বছরে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ শতাধিক কোচ কেনা হয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ কোচ কেনা প্রক্রিয়াধীন। গড়ে প্রতিটি বগির জন্য ৫ কোটি টাকা খচর হলেও এতে রেলের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে উৎপাদন করা গেলে এ ব্যয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে কোচ আমদানিকালে প্রায়শই বেশি অর্থ প্রাক্কলনের অভিযোগ উঠে। নতুন প্রকল্প নেয়া, দরপত্র আহ্বানসহ সংশিস্নষ্ট কাজে কয়েক বছর সময় নেয়। আবার প্রকল্প সংশ্ল্নিষ্টদের বেতন ভাতা, কোচ কেনার জন্য বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ, গাড়ি ও আসবাব কেনাসহ প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এতে কোচকেনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। এজন্য আমদানির বিকল্প দেশে বগি তৈরি সব দিক থেকেই সময়োপযোগী।

উল্লেখ্য দেশে রেলপথ আছে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশই মিটারগেজ। ব্রডগেজ মাত্র ২৩ শতাংশ। বাকি পথে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলতে পারে। রেলওয়ের দৈনন্দিন পরিচালনা-সংক্রান্ত্ম তথ্য থেকে জানা যায়, সারাদেশে প্রায় ৩০০ যাত্রীবাহী ট্রেন চলে। বগি আছে ১ হাজার ৬০০টি। কিন্তু সব সময় ব্যবহারের উপযোগী বগি পাওয়া যায় ১ হাজার ৫০টি। ব্রডগেজে বড় সমস্যা না হলেও মিটারগেজে বগি সংকট লেগেই থাকে।

আরও খবর

  • তফসিলের আগেই রাজশাহীর ভোটের মাঠ আ.লীগের
  • খেলাধুলায় শেখ পরিবার
  • ‘তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি’
  • জাতিসংঘে বাংলাদেশের মানবপাচার রোধে জিরো টলারেন্স’র তথ্য
  • চলতি সপ্তাহে আসছে চমক
  • রাজশাহীর কোন আসনে কত ভোটার ও ভোটকেন্দ্র
  • নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিসি-এসপিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
  • রাজশাহী-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ১১, ভোটের মাঠে ৩
  • নির্বাচন বিজয় দিবসের পরপরই
  • ওমরাহ পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • বাসের হেলপার থেকে যেভাবে কোটিপতি গোদাগাড়ীর রাসেল
  • মহানবী (সা.) এর রওজা জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ডিজিটাল বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার উপহার
  • অটিজম মোকাবেলায় সরকারের সাফল্য
  • দুর্গোৎসবে ভোটের রাজনীতি


  • উপরে