নানা সমস্যায় ধুঁকছে রাবির গ্রন্থাগারের কম্পিউটার ল্যাব

নানা সমস্যায় ধুঁকছে রাবির গ্রন্থাগারের কম্পিউটার ল্যাব

প্রকাশিত: ০৩-০৮-২০১৭, সময়: ১৮:২০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আছে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য একটি কম্পিউটার ল্যাব। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অবহেলায় শোচনীয় অবস্থা দেখা দিয়েছে ল্যাবটির। মান্ধাত্মা আমলের কম্পিউটার, নষ্ট এসি ও তীব্র গরমের কারণে ল্যাবটি ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঠিক হস্তক্ষেপের অভাবে ল্যাবটিতে জীর্ণতার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কম্পিউটার ল্যাবটিতে তীব্র গরমে ঘামতে ঘামতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। ল্যাবটি কম্পিউটারে ভর্তি থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশের অচলাবস্থা চলছে। ল্যাবে দীর্ঘদিন ধরে দুটি এসিই নষ্ট হয়ে আছে।
কম্পিউটার ল্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রন্থাগারের ল্যাবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য প্রায় অর্ধশতাধিক কম্পিউটার আছে। তবে বেশিরভাগ পুরনো মডেলের। ল্যাবের দুটি এসি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় প্রচণ্ড গরমের কারণে শিক্ষার্থীরা ল্যাবে আসতে চান না। অনেকবার ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে চিঠি দেওয়ার পরও এসিগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেয়া হয় নি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, দেশের দ্বিতীয় প্রাচীন এই বিশ^বিদ্যালয়টির সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। অথচ গ্রন্থাগারের কম্পিউটার ল্যাব মান্ধাতার আমলের কম্পিউটার দিয়ে ভরা। এগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। কম্পিউটারগুলোতে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড ঢুকালেই ভাইরাস আক্রমণ করে। এসিগুলোও নষ্ট। তীব্র গরমে ল্যাবে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রশাসকের রুমে এসি চলে কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনী এসি গুলোই নষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্য চলে আসলেও গ্রন্থাগার প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।
আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যার জানান, আইসিটি সেন্টারের কম্পিউটার ল্যাব বন্ধ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে স্থাপন করা হয়েছে। কারণ গ্রন্থাগারে যেহেতু শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে আসেন তাই এখানে ল্যাব থাকলে তাদের ব্যবহারে সুবিধা হয়। এই ল্যাব দেখাশোনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রশাসকের।
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মুনীর বলেন, কম্পিউটারগুলো আমাদের এখতিয়ারে পরে না। তবে এসি সংস্কারকারে আমাদের লোকবল না থাকার ফলে বাইরে থেকে মেকানিক ভাড়া করে এনে কাজ করতে হয়। তাই একটু সময় লাগছে। খুব শীঘ্রই এসিগুলো সংস্কার করার হবে।
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক সুভাষ চন্দ শীল বলেন, আমি তো কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা ল্যাব ব্যবহার করতে না আসলে কিছু করার নেই। ল্যাবের এসিগুলো সংস্কারে প্রকৌশল দপ্তর দায়িত্ব নিয়েছে। একদিনের তো কাজ না, একটু সময় লাগবে।
বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আসলে আমি তো বেশিদিন হলো দায়িত্ব পাইনি। তাই বিষয়টা তেমন জানা নেই। এটা নতুন পড়ে আছে তা নয়, অনেকদিন থেকেই হতে পারে। পূর্ববর্তী প্রশাসক যিনি ছিলেন তার এ বিষয়ে দেখা উচিত ছিলো। দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

উপরে