রাবিতে ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা

রাবিতে ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ২০-১২-২০১৬, সময়: ১৮:২৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাতে ৩৬০ কোটি টাকার ৫০ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ফলাফল, সনদপত্র প্রদান, নিয়োগ প্রক্রিয়া, মেডিকেলে চিকিৎসা, হলে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধসহ সার্বিক কাজ সম্পন্ন হচ্ছে ডিজিটাল প্রক্রিয়াতে। এসব প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাবি ক্যাম্পাস।
মাস্টার প্ল্যান : বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বাড়ছে আর বিশ্বের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান। মাস্টারপ্ল্যান বিষয়ক কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছর মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার মধ্যে আছে ১০ তলা দুটি আবাসিক হল, শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা একটি আবাসিক ভবন, ২০ তলা একটি একাডেমিক ভবন নিমার্ণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চারপাশের দেওয়াল, ফুট ওভারব্রিজ এবং ড্রেনেজ প্রকল্পকে নেওয়া হয়েছে মাস্টারপ্ল্যানের ভিতরে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও কৃষি অনুষদের জন্য আলাদা একটি ডীন্স কমপ্লেক্স গবেষণার জন্য ল্যাব নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রম উন্নত করার জন্য প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। সবকিছু মিলিয়ে এই প্রকল্পের প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।
পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন : বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মোহা. মাইনুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্ট্যান্ড প্রাঙ্গনকে আধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিটোল টাটার সহযোগিতায় একটি আধুনিক মানের বাসস্ট্রান্ড ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ডিজাইনে বাসস্ট্যান্ড প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণ পাকা করা হবে। প্রতি ১০ বছর অন্তর অন্তর নতুন গাড়ী ও চালক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। ২০১৫ সালের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোন তেল পাম্প ছিলো না। বাইরে থেকে তেল ক্রয় করে পরিবহন খাত চালানো হতো। বর্তমান প্রশাসন ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি নিজস্ব পাম্পের ডিলারশীপ নেয়। পরিবহন ব্যবস্থায় প্রতিমাসে ৯ হাজার লিটার তেল দরকার হয়। যা বাইরে থেকে কিনতে ৯০ হাজার টাকা বেশি গুনতে হতো। বর্তমানে এই অর্থ সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাতে জমা থাকছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এতোদিন চলেছে পরিকল্পনাবিহীন। তাই সবকিছু ঢেলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাজাতে আমরা মাস্ট্যারপ্ল্যান হাতে নিয়েছি। আর এতে আমরা সরকারের সার্বিক সদিচ্ছার আশ্বাস পেয়েছি। ভর্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ সব কিছুতে স্বচ্ছতা আনতে আমাদের হাতিয়ার হলো ডিজিটালাইজেশন।
শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ : দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবি ড.শামসুজ্জোহার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর ও জোহা স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়কে এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ড. সুখরঞ্জন সমাদ্দার, শহীদ ড. হাবিবুর রহমান ও মীর আব্দুল কাইয়ূমের স্মৃতিকে ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক। প্রায় ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকটি।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা বলতে গিয়ে সংসদ সংদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সেই স্মৃতি সংরক্ষণ না করার কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীরাই এই ইতিহাস জানে না। শিক্ষার্থীরা যেন মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান জানতে পারে সেই জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কিছু অনুদান দেয়ার চেষ্টা করেছি।
তিন স্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া : মেধাবী ও যোগ্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে তিন স্তরের নিয়োগ ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে প্রথমে লিখিত পরীক্ষা দ্বিতীয় পর্যায়ে জব টেস্ট এবং এই তিন স্তর পার করে আসা আবেদনকারী মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হবে। শুধু তাই নয় তিন পরীক্ষার জন্য আলাদা তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন ব্যক্তির হাতে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না রেখে যোগ্যদের তুলে আনতে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আর শিক্ষক নিয়োগে চারটিতে প্রথম শ্রেণি ছাড়া আবেদন না করা যাওয়ায় দুর্নীতি এবং তোষামোদের জায়গাও কমে যাবে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে এবং পরের চার বছরের চালচিত্র তুলে ধরে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘২০১৩ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব নিই তখন চারদিকে ছিলো অব্যবস্থাপনা, নৈরাজ্য, অনুন্নয়ন ও ঋণের বোঝা। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে তুলে আনতে আমরা স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কাজে ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োগে আমরা হাতেনাতে পেয়েছি ফলাফল। আর এর ধারাবাহিকতায় মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছি।

উপরে