রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৯-০১-২০২০, সময়: ১৮:৪৯ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় জাল মুক্তিযোদ্ধার সাটিফিকেট দিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে এক প্রতারক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে সুবিধা ও ভাতা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জাল সনদ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বাঘা উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা আনোয়ার হোসেনের এমন রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকান্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রানলায়ের মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়ে এ অভিযোগ দেন শহিদুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সনদ তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন।

তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন শহিদুল ইসলাম। রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার ২ নং গড়গড়ি ইউনিয়নের আশরাফপুরগ্রামে মৃত হাজী ঝড়ু প্রামানিকের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন বাঘা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে সনদ দেয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষটি এলাকায় জানাজানি হলে সে আত্নগোপনে চলে যায়। অভিযোগটি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রানলায়ের মন্ত্রী আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনসহ রাজশাহী পুলিশ সুপার কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এঘটনায় প্রতারণার শিকার বাঘা উপজেলার দাদপুর গ্রামের করিম সরদার, পিতা আকবার সরদার, আরিফ মন্ডল পিতা মৃত আমির, উপজেলার কালিদাসখালী গ্রামের মৃত কটি শেখের ছেলে আয়নাল শেখ, মৃত ওমেদালীর ছেলে রশিদ বেপারী, দিয়াড়কাদিরপুর গ্রামের মৃত নাশের আলীর ছেলে আহাম্মদ আলী শেখ। প্রতারক মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষটি তদন্তে গত ১৬ জানুয়ারি ২০২০ সকাল ১১ টার সময় রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর ইফতেখায়ের আলম প্রতারণার শিকার ৫ জনের জবানবন্দি নেয়। এসময় ভুক্তভোগীরা লিখিত ভাবে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।

প্রতারণার শিকার বাঘা উপজেলার দাদপুর গ্রামের মৃত আমির মোন্ডলের ছেলে আরিফ মন্ডল ও রশিদ বেপারী জানান, আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুইবার ভাতা পেয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে এক মুক্তিযোদ্ধা বাদী হয়ে অভিযোগ করলে আমার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় আমি আমার থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেনের কাছে ২০১৩ সালে দিকে যায়।

আমি তাকে বিষয়টি খুলে বললে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সুবিধা পেতে হলে কিছু কাগজ পত্র তৈরি করতে হবে এবং ৫১ হাজার টাকা লাগবে। তার কথা মতো ৫১ হাজার টাকা তার বাড়িতে গিয়ে নগদ দিয়েছি। তার কিছু দিন পরে সে আমাকে একটি মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেয়। তার পরেও আমার ভাতা চালু হয়নি।

কিছু স্থানিয় ব্যক্তি আমিসহ আরো কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাগন অনুসন্ধান করেন। এরপরে প্রতারক আনোয়ার হোসেন কতৃক আমাকে দেয়া সার্টিফিকেট টি জাল প্রমানিত হয়। এর পরে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রাষ্ট্রীয় সকল সুবাধা থেকে বঞ্চিত হই। গত ১৫ জানুয়ারি রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কাছে লিখিত জবানবন্দী দেই। এমন ভাবে বাঘা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আরো ৪ জন কে জাল মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বানিয়ে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে পালিয়ে আছে এলাকা থেকে প্রতারক আনোয়ার হোসেন। দ্রুত তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তোভোগীরা।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষটি অস্বীকার করে এ প্রতিবেদক কে বলেন, কোন টাকা পায়সা আমি কাউ কে থেকে নেয়নি। কাউকে কোন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ও দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে অনিতো অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম জানান, বাঘা উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জাল মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে মোটা অংঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের হয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মন্ত্রানলায়ের একটি নির্দেশনা পেয়েছি।

সেই অভিযোগের ভিত্তিত্তে প্রতারনার শিকার ৫ জনের সাক্ষ গ্রহনের জন্য ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬০ ধারা মোতাবেক গত ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর নোটিশ ইসু করে গত ১৬ জানুয়ারি করিম সরদার, আরিফ মন্ডল, আয়নাল শেখ, রশিদ বেপারী, আহম্মদ আলী শেখের কাছে থেকে জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত রিপোর্ট মন্ত্রানলায়ের পাঠানো হলে অভিযোগ কারির বিরুদ্ধে মন্ত্রানলায় থেকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা আশবে বলে জানান এ তদন্তকারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

উপরে