অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় স্বামী কারাগারে

অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় স্বামী কারাগারে

প্রকাশিত: ০৬-১২-২০১৯, সময়: ১৬:১৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের দ্বন্দ সেই সাথে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় স্বামী অলিউল্লাহ (৩৩) কারাগারে প্রেরণ হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে রাজশাহী জেল হাজতে প্রেরণ করে।
যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলার আসামী অলিউল্লাহ গোদাগাড়ী পৌর এলাকার লালবাগ কোকড়া পাড়া গ্রামের মফিজুলের ছেলে।

এছাড়াও একই মামলায় অলিউল্লার মা চেনুয়ারা বেগম, ভাই কারিমুদ্দিন মাঝি, ভাতিজা ওয়াজিব ও শরবরি বেগম কে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অলিউল্লার প্রথম স্ত্রী সানজিদা রহমান বিথির দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানাযায়, গত ২ বছর পূর্বে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে বিয়ে করে । এর আগে সানজিদা রহমান বিথির পূর্বের স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

বিয়ের পর হতেই স্বামী অলিউল্লাহসহ সকল আসামীরা সানজিদা রহমান বিথিকে যৌতুকের জন্য পরিবারের নিকট হতে টাক পয়সাসহ মোটরসাইকেলের দাবি এবং শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে অলিউল্লাহ কে বাসার বাজার করে আনিতে বললে যৌতুক বাবদ নগদ দুই লক্ষ টাকা বাবার বাড়ী হতে এনে না দিলে বাজার করিবে না বলে লোহার রড দিয়ে বুকে আঘাত করে এবং দুই হাত দিয়া মুখ মন্ডলসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাথাড়ী ভাবে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তাহার ডাক ও চিৎকার শুনে মেয়ে সামিরা হোসেন রশনি আসিয়া অলিউল্লার হাত হতে রক্ষ করে। এই সময় আশে পাশের অনেক লোকজনও তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়।

সানজিদা রহমান বিথি আরো জানান, গত ৩ ডিসেম্বর তার স্বামী অলিউল্লাহ আমার অনুমতি ছাড়াই ফরিদা পারভিন নামের এক নারীকে বিয়ে করে। আমি এসব কৈফিয়ত জানাতে চাইলে আবারও আমার সাথে ঝগড়া বিবাদ লাগাইলে আমি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়ে নিজেকে বাঁচার জন্য ৪ ডিসেম্বর গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা দায়ের করি।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশকে আমি অভিযোগ দিতে গেলে গোদাগাড়ী মডেল থানার তদন্ত ওসি নৃত্যপদ দাস মামলা নিতে গড়িমসি করে হয়রানি করে। থানায় কিছু নেতা ও দালারের প্ররচণায় তিনি আমাকে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে। পরে রাজশাহী জেলা পুর্লিশ সুপারকে জানালে তিনি মামলা দিতে বাধ্য করে। মামলা দায়েরের পর হতে অলিউল্লার ভাইসহ তাদের আত্নীয় স্বজনদের হুমকি অব্যহত আছে বলে জানান।

এই বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নৃত্যপদ দাস বলেন, থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পরই ১ নং আসামী অলিউল্লাহকে আটক করে বৃহস্পতিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে । মামলার তদন্ত কাজ অব্যহত আছে অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানান।

উপরে