বাগমারায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

বাগমারায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৭-১১-২০১৯, সময়: ২৩:০৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলীর বিরুদ্ধে তার কলেজের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যৌন নিপিড়নের শিকার ছাত্রী তার মাসহ উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে ওই ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী ছাত্রীদের দারিদ্রতা ও লেখাপড়ায় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের পরীক্ষায় সুবিধা করে দেয়ার প্রলোভন দিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ ভাবে বেশ কিছু ছাত্রীর জীবন নষ্ট করেছেন তিনি। কিন্তু তারা লোক লজ্জা বা ভয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি। সম্প্রতি দরদামাড়িয়া মহল্লার অভিযোগকারী ওই ছাত্রীও তার শিকার হয়েছেন। অবশেষে তিনি প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন যাবত ওই ছাত্রী তার লালসার শিকার হয়ে বর্তমানে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। নিজেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়েছেন কলেজ ছাড়তে। কিন্তু পিছু ছাড়ে না অধ্যক্ষ শিবলী। সম্প্রতি ওই ছাত্রীর পুলিশ বাহিনীতে চাকুরীর ভেরিফিকেশন আসলে অধ্যক্ষ শিবলী তাতেও হস্তক্ষেপ করেন। দুটি বিয়ের প্রস্তাবও ভণ্ডুল করে দিয়েছেন তিনি। এভাবে অধ্যক্ষের একের পর এক উৎপীড়নের শিকার হয়ে ছাত্রী ও তার পরিবার বিমর্ষ হয়ে পড়ে।

অধ্যক্ষের প্রভাব প্রতিপত্তি ও হুমকির কাছে অসহায় হয়ে অবশেষে ওই ছাত্রীসহ তার পরিবার রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তারা শিবলীর নানা কুকীর্তির বর্ণনা তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে ওই ছাত্রী ও তার মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে ইউএনও তাদের সুবিচারের আশ্বাস দিয়ে শান্ত্বনা দেন।

ওই ছাত্রীর মা জানান, অধ্যক্ষ শিবলী শুধু তার মেয়ে নয়, বছরের পর বছর ধরে তার কলেজের গরীব অসহায় সুন্দরী মেয়েদের টার্গেট করে যৌন হয়রানি করে থাকেন। যেসব ছাত্রী তার প্রস্তাবে রাজী হয়না শিবলী তাদের শিক্ষা জীবন নষ্ট করে দিতেও দ্বিধা করেন না। এছাড়া তিনি কম মেধাবী ছাত্রীদের নকল সরবরাহ ও খাতা পাল্টিয়ে পাবলিক পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার প্রলোভন দিয়েও তিনি লালসা চরিতার্থ করেন। জেডিসি পরীক্ষায় তার জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ায় তাকে ওই কেন্দ্র সচিব থেকে দুই বছরের জন্য বরখাস্ত করা হয়।

নিজেকে নিরাপরাধ ও সরল মানুষ দাবি করে অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলেছে। এর অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলা হয়েছে। অভিযোগকারি ওই ছাত্রী তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই অধ্যক্ষ।

বাগমারার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, আতাউর রহমান শিবলী উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ উঠায় তার পদ স্থগিত করা হয়।

তিনি বলেন, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে অধ্যক্ষ শিবলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে সে অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। থানায় অভিযোগ আসলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, একজন ছাত্রী তার অফিসে এসে অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলীর বিরুদ্ধ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিষয় তদন্ত করা করে সত্যতা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a comment

উপরে