স্থায়ী আবাসন পাচ্ছে সেই পাখিরা (ভিডিওসহ)

স্থায়ী আবাসন পাচ্ছে সেই পাখিরা (ভিডিওসহ)

প্রকাশিত: 17-11-2019, সময়: 16:42 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থায়ী আবাসন পাচ্ছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের সেই আমবাগানের পাখিরা। এ জন্য সেই আমবাগানসহ ১০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই এই জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক।

তিনি বলেন, গত ৫ নভেম্বর বাগানে পাখির বাসা রাখার জন্য বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বাগান মালিককে দেয়ার বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে গত বুধবার মন্ত্রণালয় থেকে চলতি বছরের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেয়। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব পাখিদের জন্য স্থায়ীভাবে আমবাগানটি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠাতে চিঠি দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্থায়ী অভয়ারণ্য করা গেলে পাখিরা আর অন্য কোথাও যাবে না। পাখিদের স্থায়ী আবাসন তৈরি করা হলে তাদের কেউ বিরক্তও করবে না। এজন্য প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি বলেন, বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বাগানে গিয়ে জরিপ করেছেন। ওই বাগানে ৩৮টি আমগাছে পাখিরা বাসা বেঁধেছে। তারা এই গাছগুলোর আমের সম্ভাব্য দাম ও পরিচর্যার ব্যয় নিরূপণ করেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাগান মালিককে বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রতিবেদন দিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই এলাকা পাখিদের জন্য অভয়ারণ্য করা যায় কিনা সেটিসহ ওই বাগান ও আশপাশের ১০ বিঘা জমি অধিগ্রহন করার জন্য জরিপ করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরিবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোটেক লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, মূলত: সাত বছর ধরে পাখিগুলো এ বাগানে আসা যাওয়া করে। জুন মাসের দিকে পাখিগুলো আসে। সেখানে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়ে আবার ডিসেম্বরের দিকে চলে যায়। তবে গত চার বছর ধরে বেশ কিছু পাখি সারা বছর এখানে থাকছে। এই পাখি আমাদের অতিথি। তাদের আমরা তাড়িয়ে দিতে পারিনা। তারা যেন বিরক্ত না হয় সে জন্য জমি অধিগ্রহন করে বাগানটি অভয়ারণ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এদিকে, বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এই পাখিরা প্রতি বছর একই গাছে বাসা বাঁধে না। চার বছর আগে এই গ্রামের আমবাগানে এসেছে। আগামী বছর আবার অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। এ জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা করা ঠিক হবে কি না সেটা বিবেচনায় রাখা উচিত। চার বছর আগে বাঘার পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া গ্রামের আমবাগানে বাসা বেঁধেছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, আম ব্যবসায়ীরা বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে কয়েকটি গাছের পাখীর বাসা ভেঙ্গে দেয়। এতে হুমকির মুখে পড়ে হাজারো শামুকখোল পাখি। স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়ে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন আম ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়ের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকাকে কেন অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে না- তা জানাতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পাখির বাসাগুলো ভাঙা যাবে না বলে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ক্ষতির পরিমান জানতে চেয়ে চল্লিশ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর পর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ওই বাগান নজরদারিতে রেখেছেন।

Leave a comment

উপরে