বাগমারায় ‘আওয়ামী লীগার’ হওয়ার ধান্ধা বাংলাভাইয়ের সেই সহযোগীর

বাগমারায় ‘আওয়ামী লীগার’ হওয়ার ধান্ধা বাংলাভাইয়ের সেই সহযোগীর

প্রকাশিত: ১৬-১১-২০১৯, সময়: ২৩:২১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর বাগমারায় সেই বাংলাভাইয়ের ঘনিষ্ট সহযোগী, ‘জামায়াত শিবির ক্যাডার’ ও স্থানীয় সুদ ভিত্তিক সংস্থা আত-তিজারার চেয়ারম্যান আবদুল হালিম এবার উপজেলার ভবানীগঞ্জ ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে’ বিশালাকায় টেলিভিশন উপহার দিয়ে ‘পাক্কা আওয়ামী লীগার’ হওয়ার ধান্ধা করছেন। সম্প্রতি ৪২ ইঞ্চি একটি স্মার্ট টিভি তার কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন ভবানীগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র আবদুল মালেক মন্ডল। এ ঘটনায় বাগমারা উপজেলায় আবারো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এর আগে এই আবদুল হালিম এবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কার গ্রহন করেছেন। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের তোলপাড়ের মধ্যেই এবার তার কাজ থেকেই মুক্তিযুক্ত স্মৃতি জাদুঘরে নেওয়া হলো টেলিভিশন। অভিযোগ উঠেছে শ্রেষ্ঠ সমবায়ীর পুরস্কার পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের খুশি করতেই এই টেলিভিশন উপহার দিলেন বাংলাভাইয়ের ঘনিষ্ট সহযোগী আবদুল হালিম।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাগমারার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল হালিম একজন জেএমবি ক্যাডার। সে বাংলাভাইয়ের ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৪ সালে বাংলাভাইয়ের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে আবদুল হালিম সক্রিয় অংশ নিয়ে মানুষকে হত্যা, নির্যাতন করে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে কোটি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেন। পরে বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি কার্যকর হলে সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো। পরে এলাকায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় লুটপাটের টাকা দিয়ে ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়ে চড়াসুদের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নাম দেন আত-তিজারা লি.।

বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানটি ফুলে ফেপে ওঠেছে। অর্থলগ্নি এ সংস্থার মাধ্যমে কোটিপতি বনেছেন এই আবদুল হালিম। এখন আব্দুল হালিম নিজের ‘কলঙ্কিত ইতিহাস’ আড়াল করতে শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতা ও কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে নানান উপহার দিয়ে খুশি করে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আবদুল হালিম গত সপ্তাহে ভবানীগঞ্জের আওয়াম ীলীগ দলীয় কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর কমপ্লেক্সে বিশালাকায় স্মার্ট টেলিভিশন উপহার দিয়েছেন। তার হাত থেকে টিভিটি গ্রহন করেছেন ভবানীগঞ্জ পৌর মেয়র ও পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল।

এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা। তারা বলেন, যে কমপ্লেক্স জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মিত হয়েছে। সেখানে জাতীয় পিতা ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি রয়েছে। সেখানে জেএমবি’র কুখ্যাত ক্যাডার ও জামায়ত শিবিরের দেওয়া উপহারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, পর পর তিনবার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ কী দেওলিয়া হয়েছে যে আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের সঙ্গে বিরোধীতাকারী দলের একজনের কাছে থেকে টেলিভিশন উপহার নিতে হবে। তারা অভিলম্বে সুদের ফসল টেলিভিশনটি ফেরত দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার সাহার আলী বলেন, আবদুল হালিমের মত লোকদের অনুপ্রবেশের কারনে আওয়ামী লীগে আজ নিন্দিত হচ্ছে। এসব বিতর্কিরা গোপনে আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করেন। আগামীতে তারাই আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগে ২২ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। তখন আমরা খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আজ তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। কী এমন অভাব পড়েছে যে একটি ঘৃনীত সংগঠনের বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে সামান্য টেলিভিশন উপহার নিতে হবে। তিনি বহুরুপী ও সর্বগ্রাসী কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সমালোচনা করে বলেন, তাদের পেটে গোটা বাংলাদেশ ঢুকিয়ে দিলেও তাদের ক্ষুধা মিটবে না।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবদুল মালেক বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের আসা জনগনের জন্য খুশি হয়ে টেলিভিশন দিয়েছেন। তিনি জানতেন না আবদুল হালিম জেএমবির ক্যাডার ও বাংলাভাইয়ের সহযোগী। তাহলে তিনি টেলিভিশনটি গ্রহণ করতেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম সরওয়ার আবুল বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে সমবায় দিবসের মেলায় তার (আত-তিজারা) দেওয়া একটি স্টলে এমপি প্রকৌশলী এনামুল হক পরিদর্শনে গেলে আবদুল হালিম তাঁকে একটি টেলিভিশন উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। হয়তো সেই টেলিভিশনটি হস্তান্তর হয়েছে পৌর মেয়রের মাধ্যমে। এ টেলিভিশনটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আত-তিজারা লি, এর চেয়ারম্যান ও বাংলাভাইয়ের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আবদুল হালিম বলেন, এবারের সমবায় দিবস উপলক্ষে তার স্টলে টেলিভিমনটি ছিলো। স্টল পরিদর্শনে এসে এমপি এনামুল হক টেলিভিশনটি বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে লাগিয়ে দিতে বলেন। তাই খুশি হয়ে আমি সেখানে টেলিভিশনটি উপহার দিয়েছি। এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এমপি এনামুল হক ফোন রিসিভ করেন নি।

Leave a comment

উপরে