গ্রামে গ্রামে সবজির ছড়াছড়ি

গ্রামে গ্রামে সবজির ছড়াছড়ি

প্রকাশিত: 09-11-2019, সময়: 12:43 |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : বাড়ির চালায় সেজে আছে বড় বড় চাল কুমড়া। বাঁশে তৈরি মাছানে মাছানে ঝুলছে ছিম। ধরে আছে সজনা। কোথাও আবার বাড়ির পাশ ঘিষে পটল ,কল্লা, শষা,বেগুন লাল শাক সহ নানা রকমের নতুন নতুন শীতের সবজি রয়েছে ক্ষেতে।

সবজির এমন দৃশ্য বরেদ্র অঞ্চলে যে কোন গ্রামে আসছেই দেখা মিলবে হরহামাসেই। এসব সবজি চাষ করে অনেক চাষী অল্প সময়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। অনেক পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা।

বাড়ি এসব সবজি চাষ করতে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়না, উৎপাদন খরচ কম পরে। এতে লাভের পাল্লা বেশি থাকে। এছাড়াও সবজিতে পরিবারে চাহিদায় মেটাচ্ছে। এসব কারণে দিনে দিনে গ্রামে সবজি চাষ বেড়েই চলছে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর হাজিপাড়া গ্রামের দিনমুজুর খলিলুর রহমান। পাঁচ বছর আগে মাত্র দুই শতক জমির উপরে মাটি দিয়ে দুই কক্ষের একটি বাড়ি করে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাই করেছেন তিনি।
স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। দিনমুজুরের কাজ করে চার জনের সংসারে চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়তো। সংসারে অভাব-অনটন ছিল তার নিত্য সঙ্গী।

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বাড়িতে সবজি চাষে অভাব-অনটন যেন বহুদুরে পালিয়েছে খলিলুরের।
খলিলুর বলেন,মাত্র দুই শতক জমি তার উপরে বাড়ি। চালে টুয়ে চাল কুমড়া। বাড়ির পাশে লাল শাক,সজনা গাছ,লাউ,ঝিঙ্গা কাঁচা মরিচের গাছসহ যে সময়ে যে সবজি হয় তা তিনি অল্প অল্প করে চাষাবাদ করেন। বাড়িতে সবজি চাষে কোন খরচও হয়না। চাষ করা এসব সবজি পরিবারের চাহিদা মেটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় জমা হয় তার।

এ গল্প শুধু দিনমুজুর খলিলুর রহমানে একাই নয়, বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতেই এখন কোন না কোন সবজি চাষ হচ্ছে। বাড়ির পাশে এসব সবজি চাষ করে নিজেদের সবজির চাহিদা পুরণ করছেন আবার অতিরিক্ত হলে বাজারে বিক্রি ও করছেন অনেকে। যার কারণে অনেক অসচ্ছল পরিবারে এখন সচ্ছলতা দেখা দিয়েছে।

এখানেই শেষ কথা নয়,বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিত রাজশাহীর তানোর,
গোদাগাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচোল,রহনপুর,নওগাঁর জেলায় শত শত কৃষক এখন ধান চাষ ছেড়ে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ শুরু করেছেন। সবজি চাষে বরেন্দ্রে মাটিতে যেন এক নীরব বিপ্লব ঘটছে।

এদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে আট বছর ধরে রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধান ছেড়ে অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদেরা বলছেন, পানিসাশ্রয়ী ফসলের চাষ বাড়াতে গিয়ে এ বছর রাজশাহী জেলা সবজি উৎপাদনে দেশসেরা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজশাহীতে ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ১৮ দশমিক ১২ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা জানান,অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বোরো ও আমন ধান চাষাবাদ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধান চাষে বেশি খরচ পড়ে। বোরো আবাদে পানির সমস্যাতেও পড়তে হয়।

এছাড়া বাজারে ধানের দাম না পেয়ে কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনতে হচ্ছিল। তাই ধান চাষ বাদ দিয়ে অনেক কৃষক ৩/৪ বছর আগে সবজি চাষ শুরু করেছেন। সফলতাও পাচ্ছেন তারা।

তানোর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সমশের আলী জানান,বরেন্দ্রের মাটিতে এখন প্রচুর পরিমানে সবজি চাষ হচ্ছে। প্রতিদিনি কৃষকেরা তাদের ক্ষেতের টাটকা সবজি তুলে স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠাচ্ছে। সবজি চাষ করে অল্প জমি থেকে বেশি আয় সম্ভব হওয়াই দিনে দিনে এর পরিধি বাড়ছে।

Leave a comment

উপরে