বাঘায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে শ্রীঘরে যুবক

বাঘায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে শ্রীঘরে যুবক

প্রকাশিত: 07-11-2019, সময়: 19:11 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : পরিচয় সুত্রে বান্ধবীর বাসায় আড্ডায় গিয়েছিলেন সোহান ইসলাম (২৬) নামের এক যুবক। সেখানে যাওয়ার পর চক্রের ফাঁদে পড়েন। চক্রটির লক্ষ্য ছিল সোহানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ‘ব¬্যাকমেল’ করা। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে আত্নরক্ষা করে সোহান।

এসময় চক্রের লোকজন তাঁকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় একজন তাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে হেফাজতে নেয়। পরে সেখান থেকে পুলিশ থানায় নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সংশি¬ষ্টরা ঘটনার এমন বর্ণনাই দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বুধবার (৬-১১-১৯) সন্ধ্যার পর চুপিসারে গৃহবধু তনুশ্রীর বাসায় দেখা করতে যায় যুবক সোহান ইসলাম। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধাওয়া করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। এসময় পালিয়ে আত্নরক্ষার চেষ্টা করে সোহান ইসলাম।

পরে নিজ বাড়িতে তাকে হেফাজতে নেয় স্থানীয় নাজমুল ইসলাম। পুলিশ তার বাড়ি থেকে সোহানকে উদ্ধার করে থানায় নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে।

এ ঘটনায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে বুধবার (০৬ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের সুজিত কুমার সরকারের স্ত্রী গৃহবধু তনুশ্রী বাদি হয়ে সোহান ইসলাম (২৬) সহ তার বন্ধু মিঠু (২৭)’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সোহান ইসলাম উপজেলার হিজলপল্লী গ্রামের কামরুল ইসলামের ছেলে ও মিঠু একই উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দেড় বছর আগে সোহানের সাথে পরিচয় হয়। এর পর থেকে তাকে বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করতো এবং কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি স্বামীকে জানানোর পর, এধরনের আচরন থেকে বিরত থাকার জন্য সোহানের বাবাকে অবগত করেন। এমনকি মোবাইলের ৩-৪টা সিম পরিবর্তন করেন। পরে মিঠুর সহায়তায় সেই নম্বর সংগ্রহ করে একই ধরনের আচরন করতো।

এদিকে নিজ বাড়িতে ঘটনাস্থল দেখিয়ে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় তলার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ওড়না ধরে টান দেয়। চিৎকার দিলে তার স্বামীর দুই ভাইয়ের স্ত্রী-জুলেখা ও তনুশ্রী এগিয়ে যায়। এসময় দোতলার ছাদ থেকে নীচ তলায় লাফ দেয় সোহান। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী রবিউল ইসলাম জানান, এইদিন সন্ধ্যার পর চুপিসারে বাদি তনুশ্রীর বাসায় দেখা করতে যায় যুবক সোহান ইসলাম। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ধাওয়া করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। স্থানীয় নাজমুল জানান, পালিয়ে আত্নরক্ষার সময় জনতার হাত থেকে রক্ষার জন্য আমার বাড়িতে সোহানকে হেফাজতে নেন। পুলিশ জানায়, তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়ার পরে তনুশ্রী মামলাটি দায়ের করেন ।

সোহান ইসলাম জানান, আমার সাথে বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে কথা বলতো তনুশ্রী। পুর্ব পরিচয়ের সুত্র ধরে তার ডাকে দেখা করতে যায়। বের হয়ে আসার সময স্থানীয় যুবকরা চোর চোর বলে ধাওয়া করে। অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আতিকুর রহমান জানান,সোহান ইসলামসহ সহায়তার অভিযোগ এনে মিঠুকেও আসামী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a comment

উপরে