দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলেনকারীকে জোরপূর্বক জিডি সংশোধনের অভিযোগ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলেনকারীকে জোরপূর্বক জিডি সংশোধনের অভিযোগ

প্রকাশিত: 15-10-2019, সময়: 14:04 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : নিজের নিরাপত্তা চেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী করা সাধারণ ডায়েরি জোরপূর্বক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে প্রেস ব্রিফিং করে এ দাবি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল মজিদ অন্তর।

তিনি বলেন, বর্তমান উপাচার্য ও উপ-উপাচাযের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে অংশ নেয়ায় আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এজন্য গতকাল (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করি। তারপর থেকে আমার কাছে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসতে থাকে জিডি উঠিয়ে নেয়ার জন্য। একপর্যায়ে মতিহার থানা থেকে আমকে ফোন দিয়ে দ্রæত থানায় যাওয়া জন্য বলা হয়। কিন্তু আমি রাতে একা থানায় না যাওয়ার কথা বললে মতিহার থানা পুলিশ আমার অবস্থান জানতে চায় এবং গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে।

অভিযোগ করে অন্তর বলেন, এসময় আমি প্রক্টর স্যারকে কল দিয়ে সমস্যার কথা জানালে প্রক্টর বলেন, ‘‘তোমার যা খুশি কর, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’’

অন্তর আরও বলেন, পরে সহকারী প্রক্টরকে কল দিলে তিনিও কোন ঝামেলায় জড়াতে চান না বলে জানান। পরে রাত এগারটার দিকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এবং জোরপূর্বক জিডির ভাষা পরিবর্তন করে, প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট এভাবে লিখে নতুন ডায়েরীভুক্ত করেন।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

তবে থানা গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল মজিদ অন্তর ১৩ই অক্টোবর ৫.৫০ মিনিটে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর ৫৮৭, সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরপর আবরার হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলে ছাত্রলীগের নেতারাও ফেসবুকে হুমকি দিচ্ছে। ০৬ই অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তুলে নিয়ে আন্দোলনের না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া তার সঙ্গে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থী বসে চা খাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদেরকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি নিরপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন বলে ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে ওই দিনই সন্ধ্যা ৬.৫৫ তিনি ওই জিডি সংশোধন করেন যার নম্বর ৫৯০। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আজ সন্ধ্যা মতিহার থানায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করি। জিডিতে অনাকাঙ্খিতভাবে রাবি প্রশাসনিক দুর্নীতি ও প্রক্টরের বিরুদ্ধে আনিত হুমকির বিষয়টি ছিল মূলত ভিত্তিহীন, এবং গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তুলে নেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে তারা গোয়েন্দা সংস্থার লোক ছিল না। বিষয়টি অর্ন্তভূক্ত করা হল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ডিউটি অফিসার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজল রেখা বলেন, আমি আজ সকাল আটটার থেকে ডিউটিতে আছি। এর আগের বিষয় আমি কিছু বলতে পারবো না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, অন্তর আমাকে রাতে ফোন করে কিন্তু আমি ওই সময় রিসিভ করতে পারি নি। পরে আমি নিজে ফোন করলে অন্তর জানায় সে থানায় জিডি করেছে। যার প্রেক্ষাপটে আমি বলি, ‘তোমার যা খুশি কর, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

উপরে