রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ দখলমুক্ত হচ্ছে

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ দখলমুক্ত হচ্ছে

প্রকাশিত: ১০-১০-২০১৯, সময়: ২২:৫৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সংস্কার নেই দীর্ঘদিন। উপরন্তু অবৈধ দখলসহ দেখভালের অভাবে নাজুক বাঁধের পুরনো অংশ। এখন ভরা পদ্মায় প্রবল স্রোত। এতে চাপ বেড়েছে বাঁধের উপর। ইতোমধ্যে পদ্মার টি-গ্রোয়েনসহ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, এই শহর রক্ষা বাঁধ দখলে নিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজ নিজ আবাস্থলের পাশে দখলদারিত্বে নিয়েছেন বাঁধের জায়গা জমি। বাঁধের ওপর বিভিন্ন স্থানে ঘাট স্থাপন, দোকানঘর ও বসার জায়গা করেছেন স্থানীয়রা। এমন অবস্থার উত্তরণ ও বাঁধের সংস্কার না হলে সেদিন দুরে নয়, যেদিন পদ্মার পেটে চলে যাবে শান্তি ও শিক্ষার নগরী রাজশাহী।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী পুলিশ লাইন থেকে শুরু করে বুলনপুর ঘোষপাড়া, কেশবপুর পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় বাঁধের ওপরে দখল নিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব স্থানে রান্নাঘর, বসার জায়গা করেছেন তারা। অপরদিকে পঞ্চবটির মাজারের পাশ থেকে শুরু করে মহলদার পাড়া এলাকার দিকে দোকানঘর, ঘাট স্থাপনসহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনাও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে পদ¥ার পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা কোথাও বের হতে পারছি না। আমাদের জায়গা জমিও নেই বললেই চলে। সাংসারিক কাজের ক্ষেত্রে আমরা অনেক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। হাস-মুরগি, গরু-ছাগল পালনে আমাদের কোনো জায়গা নেই। উপায় না পেয়ে এসব জায়গাগুলোতে রান্ন্ঘর, বসার জায়গাগুলো তৈরি করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তারা।

পদ্মা একটা সর্পিল বা সাইনাস রিভার। ১৮৫৬ সালের দিকে বৃটিশরা যে বাঁধ দিয়েছিল তা রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নামে পরিচিত। এর মধ্যে নগরীর বুলনপুর থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত ভাঙন উম্মুখ বলা হয়। বর্ষাকালে বাঁধের ওপরে লোক চলাচলসহ সব ধরনের দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ওপরে অবৈধ উচ্ছেদের ব্যাপারে কিছু এলাকা নিয়ে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী বুলনপুর এলাকা জেলা প্রশাসনের আওতায়।

তিনি আরো বলেন, আমরা বাঁধের ওপরে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পদ্মার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়াতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারি নাই। যেহেতু পদ্মার পানি বেড়ে গেছে তাই এখন উচ্ছেদ অভিযান চালালে মানবিক দিক থেকে তা দৃষ্টিকটু হবে। পদ্মার পানি কমলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পাউবো’র এই কর্মকর্তা।

Leave a comment

উপরে