কর্মসংস্থান ও আবাসন সংকটে রাজশাহীর হরিজনরা

কর্মসংস্থান ও আবাসন সংকটে রাজশাহীর হরিজনরা

প্রকাশিত: ০৯-১০-২০১৯, সময়: ১৭:৫৫ |
Share This

ফাতিন ইশরাক নিয়ন : রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) এগারো নম্বর ওয়ার্ডের একটি এলাকা হরিজন পল্লী। ৬.৬ একরের এই হরিজন পল্লীতে রয়েছে একটি পুকুর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাকি অংশে বসবাস করছে ২৫০ পরিবার। যুগ যুগ ধরে হরিজন সম্প্রদায়ের আদি বাসস্থান এটি।

হরিজন সম্প্রদায়ের উন্নয়ন হলেও সংকট থাকছে তাদের কর্মসংস্থানের। স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য ন্যূনতম যে কাজের প্রয়োজন হরিজন সম্প্রদায়ের হওয়ায় সে কাজ পাচ্ছে না তারা।

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকে এলাকাটিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা। সাথে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট। এছাড়াও এই পল্লীতে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা ছিলো তা এই পল্লীর বসবাসরত দেড় হাজার বাসিন্দার জন্য ছিলো মাত্র চারটি টয়লেট। ফলে ভোগান্তি আর দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করতে হয়। কিন্তু গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এসকল সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও পিছু ছাড়ছে না ভোগান্তি। এখন পল্লীর বেশ কিছু বাড়িতে টয়লেট থাকলেও কমেনি জলাবদ্ধতার সমস্যা।

হরিজন বিজয় বয়েজ ক্লাবের সভাপতি শ্রী হরি লাল বাবু বলেন, আমাদের এই পল্লীতে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ পরিবারের বসবাস। যার মধ্যে ৮টি রয়েছে মুসলিম পরিবার। বাকি সকল পরিবার হরিজন সম্প্রদায়ের।

হরি লাল বলেন, আমাদের এখানে বিভিন্ন সমস্যা ছিলো। কিন্তু বর্তমান সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন নির্বাচিত হওয়ার পর এই পল্লীর কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান সমস্যা হলো বাসস্থান এবং কর্মসংস্থান। আমরা যে পল্লীতে বসবাস করি সে পল্লীর কোনো জায়গার মালিকানার কাগজ আমাদের নাই। যার জন্য ছোট একটি ঘরের মধ্যে কাপড় দিয়ে ঘিরে পরিবারের সকল সদস্য কোনোভাবে জীবন কাটাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে খায়রুজ্জামান লিটন আমাদের পল্লীতে এসেছিলেন এবং আশ্বাস দিয়েছিলেন আমাদের এই পল্লীতে ছোট ছোট ঘর আর থাকবে না। এসব ঘর ভেঙ্গে ফ্ল্যাট করা হবে। যাতে করে হরিজন সম্প্রদায়ের ভোগান্তি না থাকে। কিন্তু সেই বার নির্বাচনে তিনি হেরে যাওয়ায় হরিজন পল্লীর এ কাজগুলো বাধা পড়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটন জয়ী হন এবং পল্লীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও সম্পাদন করেছেন। কিন্তু ফ্ল্যাটের আশ্বাসটি এখনো আশ্বাসই আছে।

এ পল্লীর বাসিন্দা ভারত বাবুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষসহ হরিজন পল্লীর বাসিন্দারা তিনশ’ বছর থেকে এখানে বসবাস করছি। এ পল্লীর জনসংখ্যা বেড়েছে কিন্তু কর্মসংস্থান এবং বাসস্থান বাড়েনি। ছোট্ট ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঠাসাঠাসি করে বসবাস করছেন মানুষ।

হরিজন পল্লীর আরেক বাসিন্দা মালতি রাণী বলেন, আগে হরিজন পল্লীর শিশুরা পড়াশোনা করতো না। কিন্তু এখন প্রায় শিশু স্কুলে যাচ্ছে, পড়াশোনা করছে। এ পল্লীর মেয়েরা ছেলেদের থেকে বেশি পড়াশোনা করছে। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে ছেলেরা পিছিয়ে পড়ছে।

দিপী রাণী নামে এক গৃহবধূ জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে কোনো খাবার হোটেলে তাদের কাজ দেয়া হয় না। এছাড়াও এ সম্প্রদায়ের হওয়ায় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম তজু বলেন, বেকার সমস্যা পুরো দেশজুড়েই। তবে তাদের আবাসন সমস্যা খুবই অমানবিক। এর আগে নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের পুনর্বাসনের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসিক মেয়র পবিবর্তনের জন্য যোগাযোগের অভাবে সেটি ভেস্তে গেছে। আবারো চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রাসিকের কাছে তাদের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর বস্তি ও হরিজন পল্লীর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছিলো। ইতোমধ্যে উন্নয়ন কাজের প্রায় বেশির ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ফ্ল্যাট করে দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মেয়র আশ^াস দিয়েছেন এটি সঠিক। হরিজন পল্লী নিয়ে মেয়রের একটি আলাদা পরিকল্পনা আছে।

উপরে