বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

বুয়েট শিক্ষার্থী ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ০৭-১০-২০১৯, সময়: ১৭:৩৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্র সংগঠন

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত তারা মহাসড়কে অবস্থান করে দুই পাশের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে যাত্রীরা বেশ ভোগান্তিতে পড়ে। অনেককেই হেঁটে শহরের দিকে যেতে দেখা গেছে। মহাসড়ক অবরোধের আগে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছি করে।

বেলা ২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান এসে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক ছেড়ে চলে যেতে বললে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আধা ঘণ্টা অবস্থান করে তারা চলে যাবেন।”

দুই পাশে ভোগান্তিতে পড়া চালক-যাত্রীরা বিরক্ত হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা ব্যাখ্যা করে দেন কেন তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

মতিহার থানার ওসি হাফিজুর রহমানও তাদেরকে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু তারা রাস্তাতেই অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এতে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেয়। তারা স্লোগান দেয় ‘আবরার মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আবরার ফাহাদকে তার শিক্ষাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের ধরে অতিসত্ত্বর বিচার করা হোক। এছাড়াও শিক্ষাঙ্গনে সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর হোক।’

বেলা আড়াইটার দিকে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ছাত্র ইউনিয়ন রাবি শাখার সভাপতি শাকিলা খাতুন বলেন, ‘এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনে যারা আহত হয়েছে প্রশাসন তাদের চিকিৎসার কোন দায়-দায়িত্বও নেয় না। এভাবে সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়েই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে মুখ বন্ধ করে দেয়ার একটা বিষয় তৈরি হয়েছে। এমনকি তাদেরকে খুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এমন একটি ফ্যাসিবাদী পর্যায়ে চলে গেছে। সকল দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক।’

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জু হাসান বলেন, ‘আমরা এখানে কেনো দাঁড়িয়ে তা আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন। বুয়েটের এক শিক্ষার্থীর লাশ পড়ে ছিল সিড়ির নিচে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনে দিনে অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের রাষ্ট্র আমাদেরকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

বাসচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা জানতাম না এখানে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আগে জানলে বাইপাশ দিয়ে চলে যেতাম।’

যাত্রী জান্নাতুল বলেন, ‘তারা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছে, কিন্তু তা আমাদেরকে ভোগন্তিতে ফেলে।’

Leave a comment

উপরে