গোদাগাড়ীর পদ্মায় এক সপ্তাহে ৭০ ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন

গোদাগাড়ীর পদ্মায় এক সপ্তাহে ৭০ ঘর-বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন

প্রকাশিত: ১৮-০৯-২০১৯, সময়: ১১:৩৭ |
Share This

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চর অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে ভাঙ্গন আরো তীব্র হচ্ছে। এক সপ্তাহে ছয়টি গ্রামের ৭০টি বাড়ীঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর পাড়ের বসবাসকারীরা আতংকিত হয়ে বাড়ীঘর সরিয়ে নিচ্ছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সরকারী সাহায্য পৌছেনি। স্থানীয় লোকজন জানায় নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর বয়ারমারী, আমিন পাড়া, ঢেঙ্গা পাড়া, নিছু বয়ারমারীসহ ৩টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আদর্শপাড়া পাড়ার এক সপ্তাহে ৩৫ টি বাড়ী ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে এতে করে আরো হুমকিতে অনেক ঘর বাড়ী।

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুদ রানা উজ্জ্বল বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মার পানি কমে যাওয়ার ফলে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে করে চর বয়ারমারী আমিনপাড়া গ্রামের ৩৫ টি বাড়ীঘর সম্পূর্ণ পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে। গ্রামটির আরো ১৫ টি বাড়ি বিলীন আশংকা রয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। নদীর তীর থেকে ৫০ গজ দূরে রয়েছে দিয়াড় মানিকচক বোয়ালমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র (ফ্লাট সেন্টার)।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিব বলেন, ভাঙ্গন অব্যহত থাকলে আর কয়েক দিনের মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বিদ্যালয়ের ভবন ও ফ্লাট সেন্টার। চর আষারিয়াদহ ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত, ডেঙ্গা পাড়া, আমিন পাড়া, আদর্শ গ্রাম-১(অধিকংশ), ও নিচু বয়ারমারি সম্পর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আরও বেশকিছু গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভাঙনে ওই গ্রামগুলোর শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো গৃহহীন হয়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। বাড়িঘর, নলকূপ-গবাদিপশু, গাছপালা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সংকট দেখা দিয়েছে হাহাকারে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে। দিনরাত এখন তাদের নিত্যসঙ্গী নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ। অনেক পরিবার তড়িঘড়ি করে তাদের ঘরবাড়ি অন্য এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদীর ভাঙনে দিশেহারা গোদাগাড়ীর চরাঞ্চলের মানুষ। আষারিয়াদহ ইউনিয়নের ডেঙ্গা পাড়ার সিরাজুল ইমলাম, আমিন পাড়ার এরফান আলী, আদর্শ গ্রাম-১, ও নিচু বয়ারমারীর মুনসুর রহমানসহ আরো বেশকিছু মানুষের ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, হঠাৎ নদীতে পানি কমে স্রোত বাড়ে ভাঙনের মুখে কোনো মতে বেচে আছি। বসতভিটাসহ বসতি সবই নদীতে চলে গেছে। হঠাৎ হঠাৎ করে বড় বড় পাড় ভেঙে পড়ছে। ছেলে সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে সংসার করছি।এ পর্যন্ত ওই ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা ফসলি ও বসতভিটার জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

দিয়াড়মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রশিদ বলেন, ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবরে আবেদন করেছি। এ বিদ্যালয়টিতে সবমিলে ৪০০ জন ছাত্র ছাত্রীলেখা পড়া করে। তিনি আরও বলেন আমরা এখন খুবই আতংকের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাশ নিচ্ছি। আষারিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, আমার ইউনিয়ন পদ্মা নদীর ভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে থাকতে হয় হতদরিদ্র মানুষের। এবার বর্ষার শুরুতেই নদীর পাড় বেশি ভাঙন দেখায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে দিয়াড়মানিকচক বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রাম। এতে করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে লোকজন।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, চর আষারিয়াদহ ইউনিয়নের দিয়াড় মানিকচক প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বাড়ী ঘর ও ফসলী জমি জন্য তেমন কোন বরাদ্দ নেই।

Leave a comment

উপরে