আরএমপিকে জমি ছাড়তে রাজি নয় জেলা পরিষদ

আরএমপিকে জমি ছাড়তে রাজি নয় জেলা পরিষদ

প্রকাশিত: ১৭-০৯-২০১৯, সময়: ১৭:২১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সদর দপ্তর নির্মাণে জেলা পরিষদের জমি দখলের সত্যতা পেয়েছে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে কমিটির সদস্যরা রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ওই জমিতে সরেজমিন তদন্তে গিয়ে তারা এই সত্যতা পান।

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম-সচিব শায়লা শারমিন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আজিজ হায়দার ভুঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই জমিটি মাপজোখ করে দেখা যায়, আরএমপির ভবন নির্মাণের জন্য অনেকটা জমি দখল করা হয়েছে। সেই জমিতে পাইলিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে।

জমি মাপজোখের সময় মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া কমিটির আহ্বায়ক বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার, আরএমপির কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব প্রমুখ।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, সবার উপস্থিতিতেই জমি মাপজোখ করা হয়। এতে দেখা গেছে যে, জমি দখল করা হয়েছে। এই জমিতে ভবন নির্মাণ না করার জন্য আমরা বার বার বারণ করেছিলাম। আমাদের কথা কর্ণপাত করা হয়নি। এখন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা বিষয়টি দেখলেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আমরা জমি ছাড়তে রাজি নই।

আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আমি বাইরে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।

প্রসঙ্গত, সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিলো জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর আরএমপির কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দপ্তরের কার্যক্রম। কিন্তু পুরো জমিটি দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়।

এ নিয়ে গত ২২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য ওই কমিটি গঠন হয়। এরপরই এই কমিটি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলো।

উপরে