এখনো বহাল তবিয়তে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সেই দুই প্রকৌশলী

এখনো বহাল তবিয়তে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সেই দুই প্রকৌশলী

প্রকাশিত: ১৪-০৯-২০১৯, সময়: ১৬:২৯ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষিভিত্তিক স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৮১টি চেক টেম্পারিং করে লোপাট করা হয়েছে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা। আর প্রমাণ গায়েব করতে পুড়িয়ে দেয়া হয় অফিসের নথিপত্রও। তদন্তে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি ধরা পড়লেও অভিযুক্তরা এখনো বহাল তবিয়তে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করলেও তা আমলে নেয় নি বিএমডিএ। এক বছর পার হয়ে গেলেও ওই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেনি বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ।

প্রায় তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাতে বিএমডিএ’র রাজশাহীর গোদাগাড়ী জোন-২ কার্যালয়ে ক্যাশ শাখায় হঠাৎ আগুন লাগে। এ ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসে কীভাবে ১৮১টি চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে সরকারী টাকা লোপাট হয়েছে। ঘটনা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে বিএমডিএ’র দুটি ও পরে অধিকতর তদন্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের টিম।

৬৫৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিএমডিএর প্রকৌশলী খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমানের মদদে ওই কার্যালয়ের সহকারী হিসাব রক্ষক মতিউর রহমান ও সহকারী কোষাধ্যক্ষ খাবিরুদ্দিন কীভাবে লাখ লাখ টাকা লোপাট করেছেন। ১৫৪ টাকার চেক টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে ৮৯ হাজার ১৫৪ টাকা, ৪৫০ টাকার চেক করা হয়েছে এক লাখ ৪৫০ টাকা ও ৬২১ টাকার চেকে লেখা হয়েছে এক লাখ ৬২১ টাকা। এভাবেই ২০১১-২০১২ অর্থবছর হতে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৩২১ টাকা। তবে চেকের মুড়ির অংশগুলোতে ঠিকঠাক রয়েছে প্রকৃত টাকার অংক।

বিএমডিএ’র অডিট অফিসার শ্রী বাসুদেব চন্দ্র মহন্ত জানিয়েছেন, চেক টেম্পারিংয়ের প্রমাণাদি ধ্বংষ করতে খাবিরুদ্দিন আগুন লাগিয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে তিনটি তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই। এছাড়াও প্রথম টেম্পারিং করেছিল মতিউর। এরপর খাবিরুদ্দিন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত খাবিরুদ্দিন ও মতিউর রহমান তদন্ত কমিটিগুলোর কাছে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, এর পেছনে ছিলেন তৎকালীন দুই সহকারী প্রকৌশলীও।

এ বিষয়ে মতিউর রহমান বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আমাকে শাস্তি দিয়ে এক রকম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এর নিষ্পত্তি চাই। এজন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছি। তবে তার দাবি, তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশেই তিনি এ কাজ করেছিলেন। তিনি সেই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। খাবিরুদ্দিনের দাবিও প্রায় একই।

তবে এ ধরণের ঘটনার পরও পিএফ ফান্ড থেকে খাবিরুদ্দিনকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছে বিএমডিএ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও কীভাবে ঋণ পেলেন তা নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এ দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও জিএফএম হাসনুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে। ওই প্রতিবেদনে অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশও রয়েছে। কিন্তু সে পথে আর হাঁটেনি বিএমডিএ। আনোয়ার হোসেন বর্তমানে আত্রাই ও হাসনুল মোহনপুরে বিএমডিএর কার্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত।

তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অ্যাকশন নেয়া হয় নি। এছাড়া খাবিরুদ্দিন ঋণ বরখাস্ত হওয়ার আগেই আবেদন করেছিল। তাই ঋণ পেয়েছে।

উপরে