রাজশাহীতে ছাত্রকে থানায় আটকে নির্যাতনের পর মুক্তিপন দাবি

রাজশাহীতে ছাত্রকে থানায় আটকে নির্যাতনের পর মুক্তিপন দাবি

প্রকাশিত: ১১-০৯-২০১৯, সময়: ২৩:৩৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাস্তা থেকে ধরে গাড়িতে আটকে রাখার প্রতিবাদ করায় নির্যাতন। এর পর মাদক মামলা দেয়ার হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; সেই টাকা না পেয়ে কলেজছাত্রকে মাদক মামলায় হাজতে পাঠিয়েছে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানা পুলিশ। শুধু তাই নয়, সেই ছাত্রের বাবাকে নিয়ে রাতভর নগরজুড়ে ঘুরেও বেড়িয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।

মাদক মামলায় হাজতে পাঠানো ছাত্র ফয়সাল আলী সাগরের (১৭) মা রোকসানা পারভীন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, চন্দ্রিমা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীনুর ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, কনস্টেবল রেজাউল করিম ও রায়হান ফকির।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাগর নগরীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের (বরেন্দ্র সরকারী মহাবিদ্যালয়) ব্যবসা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার খেলাধুলা করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফিরছিল সে। এসময় শিরোইল কলোনীর ৩ নম্বর গলি খোদাবক্স মোড়ের কাছে অবস্থানরত একদল পুলিশ সাগরকে থামায়। সেখানে তার দেহ তল্লাসী করে। কিন্তু কিছু না পেয়েও তাকে আটক করে রাখে। অকারনে আটকে রাখায় বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করে কলেজছাত্র সাগর। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই শাহীনুর ইসলাম তার জামার কলার ধরে গাড়ির নিচে ফেলে দেয়। এর পর সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়।

রোকসানা পারভীন আরও জানান, রাত ৯টার দিকে সাগরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় সাগরকে নির্যাতন করা হয়। এর পর পুলিশ সাগরকে বলেন, বাবা-মাকে ফোন দিয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় দেখা করতে বল। টাকা না দিলে হেরোইন মামলায় হাজতে পাঠিয়ে দেবার হুমকি দেন তারা। কিন্তু সাগরের গরীব মা-বাবার পক্ষে ২ লাখ টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশ মাদক মামলায় সাগরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

সাগরের বাবা হোটেল কর্মচারি সাহেব আলী জানান, ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য গেলে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে সারারাত এখানে সেখানে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ান। আর টাকা দেন বলে। এ সময় আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমার ছেলে কোনভাবেই মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে জড়িত না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের মূখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, এ বিষয়ে আমি এই মূহুর্তে বলতে পারছি না। যদি অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তদন্ত করার নির্দেশ দিই। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিই।

Leave a comment

উপরে