রাজশাহীতে ছাত্রীর যৌন হায়রানির দিন তালাবদ্ধ ছিল কলেজ

রাজশাহীতে ছাত্রীর যৌন হায়রানির দিন তালাবদ্ধ ছিল কলেজ

প্রকাশিত: ০৭-০৯-২০১৯, সময়: ১৭:২৭ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ছাত্রীর যৌন হায়রানির অভিযোগে রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি আদর্শ কলেজের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে মামলায় যেদিন ঘটনার কথা বলা হয়েছে সেইদিন কলেজ ছুটি ছিল। ছুটির দিনে কলেজ তালাবদ্ধ থাকে। ওই দিন কেউ কলেজে যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন।

গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে নিয়ে তার মা থানায় গিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে রাতেই পুলিশ বাড়ি থেকে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। মামলা নং ০৯, মামলার তারিখ- ০৬/০৯/২০১৯।

কাটাখালি পৌরসভার বেলঘরিয়া গ্রামের ওই কলেজছাত্রীর মা ও মামলার বাদি তার এজাহারে অভিযোগ করেন, ‘‘তার মেয়ে মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তবে ভর্তির সময় ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে ভূগোল পাঠক্রমে অন্তভূক্ত করে। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম গায়ে পড়ে আমার মেয়ের সাথে একাকী কথা বলার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আমার মেয়েকে তার খুব ভাল লাগে তা জানায়। আমার মেয়ে ওই সকল কথাবার্তা শুনে চুপ থাকে। গত ২২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আমার মেয়ে কলেজে গেলে সিরাজুল ইসলাম আমার মেয়েকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে ভূগোল বইয়ের বিষয়ে কথাবার্তা শুরু করে। কথাবার্তা বলতে বলতে এক পর্যায়ে তাকে হাত ধরে টেনে তার কমরের পিছনে হাত দিয়ে স্পর্শ করে এবং কুপ্রস্তাব প্রদান করে। আমার মেয়ে বিবাদী সিরাজুলের কথায় রাজি না হলে ভয়ভিতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে। এর পর আমার মেয়ে দ্রুত বাড়ি চলে এসে কান্নাকাটি করে সমস্ত বিষয় আমাকে খুলে বলে। পরিবর্তিতে গত ২৮ আগস্ট আমার মেয়ে কলেজে গেলে তার বান্ধুবিরা তাকে জানায় যে, সিরাজুল ইসলাম সারের সাথে তাহার নাকি শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলে স্যার প্রকাশ্যে বলেছে।’’

অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদনি জানান, কোরবানীর ঈদের আগে তার কলেজের সর্বশেষ কার্যদিবস ছিল ৮ আগস্ট। ৯ আগস্ট ছিল শুক্রবার। ১০ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ঈদের ছুটি ছিল। ২৩ আগস্ট শুক্রবার ছিল। ফলে কলেজ খুলেছে ২৪ আগস্ট।

অধ্যক্ষ বলেন, ২২ আগস্ট কলেজ ছুটি ছিল। ছুটির দিনে কলেজ তালাবদ্ধ থাকে। ওই দিন কলেজে কারও আসার কথা নয়। কলেজে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের কোন কক্ষ নেই। শিক্ষকদের কক্ষেই তিনি বসেন। এছাড়াও কলেজে এ ধারণের ঘটনার আগে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে যেদিন রাতে মামলা হয় সেদিন বিকেলে তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বাদির ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী এজাহার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই দিন কলেজ ছুটি ছিল কিনা তা পুলিশের জানার কথা নায়। তবে মামলার তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের বাড়ি কাটাখালি পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামে। তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহব্বায়ক কমিটির সদস্য। গত পৌরসভা নির্বাচনে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম কাটাখালি পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও অধ্যাপক সিরাজুল শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সম্প্রতি এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নির্বাচিত হন।

কাটাখালি থানা সুত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী নিজের গাড়িতে করে আদর্শ কলেজের এক ছাত্রীসহ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় যান। এর পর ওই ছাত্রী অধ্যাপক সিরাজুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ গিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৫ জুলাই শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে মেয়র আব্বাস আলী ও অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এ নির্বাচনে আটটি পদেই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল ইসলামের প্যানেল বিজয়ী হয়।

সূত্রগুলো আরও জানায়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে ওই স্কুলের সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মেয়র আব্বাস তার পক্ষের একজনকে সভাপতি করার জন্য সিরাজুল ইসলামে প্রস্তাব দেন। মেয়রের সে প্রস্তাবে সিরাজুল ইসলাম রাজি হননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। যার কারণে পরিচালনা কমিটির ভোটের একমাসের বেশী সময় পার হয়ে গেলেও সভাপতি পদে নির্বাচন হয়নি।

Leave a comment

উপরে