রাজশাহী সীমান্তে বিট খাটাল নবায়নে জালিয়াতি

রাজশাহী সীমান্তে বিট খাটাল নবায়নে জালিয়াতি

প্রকাশিত: ১৯-০৮-২০১৯, সময়: ১৯:০৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় গবাদিপশু আমদানির জন্য বিট খাটাল নবায়নে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ও বালু ব্যাবসায়ী আনোয়ার হোসেন জালিয়াতি করে দুইটি বিট খাটাল পরিচালনা করছেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। জেলার পবা উপজেলার চরমাঝারদিয়াড় এলাকার গরু ব্যবসায়ী কাওসার আলী এ অভিযোগ করেন।

এছাড়াও বিট খাটাল অনুমোদন নেয়ার জন্য নিবন্ধিত গরু ব্যবসায়ী হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হলফনামায় তথ্য গোপন করে বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বিট খাটাল অনুমোদন নেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই কাওসার আলী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ অভিযোগ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও গরু ব্যবসায়ী কাওসার আলীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় গবাদিপশু আমদানির জন্য ২০১৮ সালে পদ্মা নদীর দক্ষিন পাশে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় অবস্থিত মাঝারদিয়াড় বিওপি সংলগ্ন বিট খাটাল অনুমোদন পান বুলনপুর এলাকার আব্দুল কাদের ছেলে বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন। ২০১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারদিয়াড় বিওপি সংলগ্ন বিট খাটাল বসানোর অনুমোদনের আদেশ জারি করে গত বছরের ৭ জুন চিঠি ইস্যু করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত শাখা-২ এর উপসচিব আলমগীর হোসেন।

২০১৯-২০ সালের জন্য মাঝারদিয়াড় বিওপি সংলগ্ন বিট খাটালটি নবায়নের জন্য গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন নগরের বুলনপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন নবায়নের সুপারিশ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠায়। জেলা প্রশাসনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে মাঝারদিয়াড় বিওপি বিট খাটাল নবায়নের সুপারিশ করে গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

গত ১৩ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত শাখা-২ এর উপসচিব আরিফ আহমেদ খান সাক্ষরিত এক আদেশে বিট খাটালটি ২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত নবায়ন করেন। তবে নবায়নের আবেদনে মাঝারদিয়াড় বিওপি সংলগ্ন বিট খাটাল উল্লেখ করা হলেও আদেশে মাঝারদিয়াড় বিওপি ও মাঝারদিয়াড় চেকপোস্ট এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারি কাওসার আলী জানান, তিনি একজন নিবন্ধিত গরু ব্যবসায়ী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিতিমালা অনুযায়ী ২০১৯-২০ সালের জন্য পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চরমাঝারদিয়াড় বিওপি চেকপোস্ট সংলগ্ন বিট খাটাল অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে তার নামে বিট খাটাল অনুমোদন না হয়ে এটি আনোয়ার হোসেনের নামে নবায়ন করা হয়েছে। এর পর থেকে আনোয়ার হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিতিমালা লংঘন করে দুইটি বিওপি এলাকায় বিট খাটাল পরিচালনা করছেন। এছাড়াও বিট খাটাল মালিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক জোড়া গরুর জন্য এক হাজার ১০০ টাকার পরিবর্তে জোরপূর্বক ২৪ হাজার ২০০ টাকা আদায় করছেন বলে জানান গরু ব্যবসায়ী কাওসার আলী।

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিট খাটাল অনুমোদনের নিতিমালার ৪ এর খ অনুচ্ছেদ এর ২ ধারায় উল্লেখ রয়েছে আবেদনকারিকে নিবন্ধিত গরু ব্যবসায়ী হতে হবে। কিন্তু আনোয়ার হোসেন ইট-বালু ব্যবসায়ী হয়ে হলফনামায় তথ্য গোপন করে গরু ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে ইট-বালু সরবরাহকারি হিসেবে। তার নামে পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চরমদনপুর, চরকসবা ও চরহরিপুর তিনটি মৌজার বালুমহাল ইজারা রয়েছে বলে জানান কাওসার আলী।

বিষয়টি জানতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিট খাটাল নবায়নের আদেশের চিঠির নিচের টেলিফোন নম্বরে সংশ্লিষ্ট উপসচিব আরিফ আহমেদ খান এর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। মাঝারদিয়াড় বিওপি বিট খাটাল মালিক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, রাজশাহী সীমান্তে ভারতীয় গরু-মহিষ আমদানির জন্য ছয়টি বিওপি বিট খাটাল রয়েছে। এর মধ্যে চরমাঝারদিয়াড়র বিওপি চেকপোষ্ট বিট খাটাল হয়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার গরু-মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। কিন্তু এ বিট খাটালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের শুল্ক ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, সীমান্তপথে আসা ভারতীয় গরু বিট খাটালে আনার পর প্রতি গরু থেকে ৫০০ টাকা শুল্ক এবং খাটাল ব্যবস্থাপনা কমিশন বাবদ গরু প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা আদায়ের বিধান রয়েছে। এই হিসাবে প্রতি জোড়া গরু থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ টাকা আদায় করা যেতে পারে। এর বেশি আদায় করা হলেই আইনের লঙ্ঘন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিট খাটাল অনুমোদন নীতিমালা-২০১৪তেও এ কথাই বলা আছে।

উপরে