তানোরে পানির মধ্যেই খাল খনন

তানোরে পানির মধ্যেই খাল খনন

প্রকাশিত: ১৮-০৮-২০১৯, সময়: ১৭:৩০ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর তানোর উপজেলার পানি থৈ থৈ একটি খালে এবার নতুন করে খনন শুরু হয়েছে। কয়েক বছর আগে বরেন্দ্র বহুমূখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খনন করা খালটি এখন পানিতে ভরে থাকলেও সেখানেই পূণ: খনন শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় উপজেলার কাঁসারদীঘি খাল খনন কাজের মেয়াদ শেষ হয় ২৫জুন। সময় শেষ হলেও এবার ভরা খালে খনন শুরু হয়েছে। পানির মধ্যে তড়িঘড়ি করে এসকেভেটর দিয়ে মাটি খনন কাজ চলছে। সেখান থেকে মাটি কৃষকের চাষাবাদি জমির উপর ফেলায় এরইমধ্যে ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা। এ প্রেক্ষিতে এলাকার শতাধিক কৃষক নিজেদের জমি রক্ষা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এরপরেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনন কাজ করছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে খালের দুপাশে থাকা বিএমডিএ’র বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কাটা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় তানোর উপজেলার কাঁসারদীঘি খালে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪ কিলোমিটার পূন:খাল খনন কাজের অর্ডার পায় নাটোরের ঠিকাদার মোল্লা সরওয়ার মোর্শেদ মুক্তা। কাগজে কলমে কাজ শুরু কথা লেখা রয়েছে ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল। কাজটি শেষ হবার কথা ২৫ জুন। কিন্তু এখনো সে কাজ শেষ হয়নি। মাঝে বন্ধ থাকলেও এখন ভরা খালেই চলছে খনন।

বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, কাঁসারদীঘি খালটির তানোর পৌর এলাকার ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভূক্ত। খালটি ২০০৮ সালে খনন করা হয়েছে। এরপর খালের দুই ধারে ২০১০ সালে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়। তবে বিএমডিএ’র খনন করা খালের উপর আবারও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খনন কাজ চলছে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আলাদা বিভাগ আর বিএমডিএ আলাদা। তাই তাদের বিষয়ে কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, কৃষকদের জমিতে মাটি ফেলার কারণে অনেক কৃষক ফোন করছে। এখানে আমারও তো কিছইু করার নেই।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তানোর পৌর এলাকার ৭ ও ৮নম্বর ওয়ার্ডের রায়তান বরশো ও আকচার পূর্ব দিকে এবং বুরুজ গ্রামের দক্ষিন দিকে দুটি এসকেভেটর মেশিন দিয়ে পানিভর্তি খাল খননের কাজ চলছে। খালের দুই পাশে থাকা কৃষকের জমিতে খনন করা মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। ফলে জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। খালটি প্রায় ৪ ফুটের মত প্রস্থ’ হলেও খনন করা হচ্ছে কয়েকগুন বেশি। এ কারনে খালের দুপাশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালাও কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সেই গাছগুলো বিক্রির জন্য মাঝ খানের ছাল তুলে লালকালি দিয়ে নম্বর করা হয়েছে। খালে রয়েছে পানি। অথচ খালের দুই পারের মাটি কাটার কারনেই জমির ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও খালটি আগে বিএমডিএ খনন করে গাছ রোপণ করেছিল। পানি ধরে রাখার জন্য ক্রসড্যাম নির্মাণ করা আছে।

কৃষক মজিদ জানান, তার ১২ বিঘা জমির উপরে খালের মাটি পড়েছে। এসব জমিতে কোন ভাবেই চাষাবাদ করা যাবেনা। আকচা গ্রামের কৃষক মোকলেসুরের ১৫ কাঠা, ইয়াসিনের ২৫ কাঠা, সবুজ সরকারের ৩বিঘা, বুরুজ গ্রামের আনসারের ৫ বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারা বলেন, জমি নস্ট করে খাল খনন করা হলে নিজেদের জমি রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগে উল্লেখ, তানোর-রাজশাহী সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে রয়েছে খাল। সেই খাল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড খনন করা হচ্ছে। সেই খাল খননের মাটি কৃষকের জমির উপর ফেলে চাষাবাদের অনুপোযোগী করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। মাটি ফেলার কারনে অনেকের পুরো জমি ভরাট হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে এলাকার শতাধিক কৃষক লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু জানান, কৃষকরা এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁরা বলেছে জমির উপরে যে মাটি পড়বে তা পরে সরিয়ে ফেলবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ আহম্মেদ বলেন, বিএমডিএ খালটি খনন করেছিল এটা সত্য। খালটি গভীর নয়। তাই ঠিকাদারের মাধ্যমে খালটি পুন: খনন কাজ শুরু হয়েছে। সময় সিমার মধ্যে ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোন বিল দেয়া হয়নি। খালটি খনন হলে এলাকার কৃষকদের চাষাবাসে সুবিধা হবে। খাল খননের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপরে