সর্বত্র ঈদের আমেজ

সর্বত্র ঈদের আমেজ

প্রকাশিত: ০৯-০৮-২০১৯, সময়: ২৩:৫৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র তিন দিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা। ঈদ উপলক্ষে এখন সর্বত্র ঈদের আমেজ। আর তাই রাজশাহীর মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে ঈদ কেনাকাটা। উপচে পড়া ভিড় কোরবানির পশুর হাটগুলোতেও। ঈদের ছুটির প্রথম দিন হওয়ায় অনেকেই ছুটেছেন পশুর হাটে। কিনেছেন পছন্দের মত কোনবানির পশু। তবে তা বিগত বছরের মত জমজমাট নয় বলে দাবি বিক্রেতাদের।

ঈদ-উল-আযহায় ঈদের কেনাকাটা বরাবরই কম হয় বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। কোরবানীর পশু কিনতে চলে যায় অনেক টাকা, সেকারনেই এমনটা হয় বলে মনে করছেন তারা। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঈদের বেচাকেনা। নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

ঈদে মহিলা ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন সালাম ম্যাচিং কর্ণারের প্রোপাইটার শাহিন ইসলাম। তিনি বলেন, মহিলাদের পোশাকের মধ্যে বোরখা, লেহেঙ্গা, হিজাব, স্কার্ফসহ সব ধরনের কাপড়ই আমরা ক্রেতাদের দিচ্ছি।

বাজারে মেয়েদের পোষাকগুলোর মধ্যে রয়েছে জিপসি, টপস, ফ্রগ, কোটি, ওয়ান পিস, লেহাঙ্গা, ফ্লোরটাচ ইত্যাদি। সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পোষাকগুলো।

ছেলেদের পোষাকের মধ্যে শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবীর বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে পোষাকগুলো। এছাড়াও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বুটিকসের তৈরী বাহারী নকশা, জরি, চুমকীর কাজ করা পোষাক। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এ পোষাকগুলো।

শাড়ীর দোকানগুলোতেও মোটামুটি বেচাকেনা চলছে। ক্রেতারা বিভিন্ন ধরণের শাড়ী কিনছেন বলে জানিয়েছেন শাড়ী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সারাহ শপার্স ওয়াল্ড। তারা জানান, ক্রেতারা মূলত জামদানি শাড়ি বেশি কিনছেন। তবে বেসারসী, পার্টি ও বিয়ের শাড়ীও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লেহেঙ্গা, থ্রি-পিচ, শেরওয়ানী ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে।

রাজশাহী আর ডি এ মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রাজধানী কর্ণারের প্রোপাইটার বলেন, ঈদে বাচ্চাদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে, বড়দের পোশাকের চাহিদা কম। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে বেচাকেনা আরো একটু বেশি হবে বলে জানান তিনি।
মার্কেটে বাচ্চাদের পোষাক কিনতে আসা বদিউল বলেন, কোরবানীর পশু কেনার কারনে হাতে তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। ফলে পরিবারের বড়দের জন্য পোষাক কিনছি না। বাচ্চাদের পোষাক কিনতে এসেছি।

এদিকে, কোরবানীর কারনে ক্রোকারীজ ও ফ্রিজের দোকানগুলোতে ক্রেতা সমাগম বেশি হচ্ছে। কোরবানীর মাংস সংরক্ষনের ব্যাপারে একটু বেশি মনোযোগী প্রতিটি মানুষ। মাংস রান্না করা, সংরক্ষন করার জন্য ক্রোকারীজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ফ্রিজ কিনছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

ক্রোকারিজ পণ্য বিক্রেতারা জানান, আমাদের বেচাকেনা কদিন আগেও এরকম ছিল না। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে বলে জানান এ বিক্রেতা।

একজন ক্রেতা জানান, এ ঈদে শিশুদের পোশাকের দাম একটু বেশি। তারপরেও অন্যান্য জিনিস কেনার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে না। সর্বপরি ঈদের বাজার ভাল বলে জানান এ ক্রেতা।

উপরে