ডেঙ্গু হুমকিতে রাজশাহী নগরবাসী

ডেঙ্গু হুমকিতে রাজশাহী নগরবাসী

প্রকাশিত: ০৭-০৮-২০১৯, সময়: ২১:৪৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসকারি প্রায় সকল লোকজন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার হুমকির সম্মুখিন বলছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। দপ্তরটির রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে থেকে ইস্যু করা একটি চিঠিতে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এডিস মশার বিস্কৃতি, ঘনত্ব ও প্রজনন স্থান নির্নয় ও ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশনকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ নিয়ে একটি স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি জরিপ প্রতিবেদনও সিটি করপোরেশনে দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন ও ছাত্রীনিবাসের সামনেই মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকার বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পাত্রে ও দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ারে এবং রাস্তার ধারে পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য নিজে উদ্যোগে কীটতত্ববিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে গত পাঁচদিন ধরে মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। নগরের ১০০ স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষর পর ১৪ স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে গঠিত কীটতত্ববিদদের তিন সদস্যের একটি কমিটি গত পাঁচ দিন ধরে রাজশাহীতে এডিস মশার উপস্থিতি নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশে পাশেসহ নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা এসব নমুনা থেকে এডিস মশার লার্ভার ব্যাপক উপস্থিতি পেয়েছেন।

এই কমিটির প্রধান হচ্ছেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জেলা কীটতত্ববিদ তায়েজুল ইসলাম। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর (টেকনিশিয়ান) আব্দুল বারী ও রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর উম্মে হাবিবা।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক-স্বাস্থ্য গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, রাজশাহীতে এডিস মশার উপস্থিতি আছে কি না, এ ব্যাপারে তার কাছে কী তথ্য আছে, সরকার থেকে জানতে চাইলে তিনি যাতে এডিস মশার ঘনত্ব, প্রজনন ক্ষেত্র ও বিস্তার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিতে পারেন এ জন্য তিনি গত ১ আগস্ট তিনজন কীটতত্ববিদকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। এই কমিটি গত ২ আগস্ট থেকে কাজ শুরু করেন। পাঁচ দিনে তারা নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সন্দেহজনক জায়গাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

তার মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফালগুনী ছাত্রীনিবাসের সামনে আইসক্রিমের বক্সে জমে থাকা পানিতে ও অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে নারকেলের মালায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তারা এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে। একইভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে পড়ে থাকা ভাঙা বেসিন ও ওয়ার্ডের পাঁচটি জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এই দল নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে নগরের উপশহর এলাকার রংধনু টাওয়ারের পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ড্রামে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে, একই এলাকার ২২৪ নম্বর বাড়িতের পরিত্যক্ত পাত্রে, তিন নম্বর সেক্টরের ১৬৪ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে ও পরিত্যক্ত কর্কশীটে ও ২০১ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে এই লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে।

নগরের আট নম্বর ওয়ার্ডের সিপাইপাড়া এলাকার মারুফের বাড়ির সামনের নারকেলের মালায়, একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে ফুলের টবে, চার নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুরের মাসুদ রানার বাড়ির প্লাস্টিকের পাত্রে, সেলিনা বেগমের বাড়ি ফুলের টবে ও মিলনের বাড়ির টায়ারে ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া নগরের শিরোইল এলাকা থেকে ভদ্রা পর্যন্ত রাস্তার পাশে হাঁটু সমান উুঁচ করে যেসব পাইপ পুঁতে রাখা হয়েছে, তার ভেতরে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

নগরের শিরোইল এলাকার ব্যবসায়ী সেলিমের টায়ারের দোকানের টায়ারে নাসির হোসেনের দোকানের ব্যাটারির সেলে জমে থাকা পানি ও শুকুর আলী নার্সারির মাটির পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেও তৈরি হয়েছে এডিস মশার লার্ভা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনের সামনে থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যক্ষ নওশাদ আলী বলেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনটি গত আট দশ বছর ধরে পরিত্যাক্ত রয়েছে। ওই বাসায় তিনি থাকেন না।

রাজশাহী মহানগর এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশে যখন এডিস মশা আছে তখন রাজশাহীতেও থাকতে পারে। তবে সেই মশাটি ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না অর্থাৎ মশাটি ডেঙ্গুর জীবনু বহন করছে কি না সেটাই কথা।

তবে আক্রান্ত হলে তা পরীক্ষার ব্যবস্থা এখানে নেই। সেই জন্য তাদের উচিত মাঠপর্যায়ের তথ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়রকে হস্তান্তর করা। তাহলে মেয়র ওই মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে পারেন। বাড়িতে হলে তাদেরও সতর্ক করতে পারেন।

উপরে