রাজশাহীতে বালুমহাল চালু ও শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি

রাজশাহীতে বালুমহাল চালু ও শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশিত: ০৭-০৮-২০১৯, সময়: ১৩:৩৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুর বৈধ বালুমহাল চালু ও গ্রেপ্তার আট শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। বুধবার সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা এ স্মারকলিপি দেন। বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর রহমান স্মারকলিপি গ্রহন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ^াস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ‘মেসার্স আমিন টেডার্স’ এর প্রোপাইটার ও মহানগর আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টু, বালু ব্যবসায়ী ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, ২৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, ২৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সন্তন কমান্ডের সভাপতি আলিমুজ্জামান সজল।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইজারা নেয়া বৈধ বালুমহালটি বন্ধ দিয়ে প্রায় এক হাজার শ্রমিককে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এ বালুমহালের সঙ্গে জড়িত ৮০ জন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বৈধ বালুমহাল থেকে আটজন শ্রমিককে ধরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বিনা অপরাধে তারা এখন কারাগারে। তাদের জামিনের আবেদন করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের কপি প্রয়োজন। কিন্তু সেটিও আমাদের দেয়া হচ্ছে না। দ্রুত বালুমহালটি চালু করাসহ শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের ইজারা দেয়া চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুর বালুমহাল বন্ধ করে দেয়। এ সময় সেখান থেকে আটজন শ্রমিককে ধরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এর পর থেকে শ্রমিকরা কারাগারে রয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চলতি বছর দরপত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘মেসার্স আমিন টেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদীর চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুর মৌজার ১২০ একরের বালুুমহাল দুই কোটি দুই লাখ টাকায় ইজারা নেয়। দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী ইজারার অর্থ জেলা প্রশাসনে পরিশোধ করা হয়। গত ১৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাল নিশান টাঙ্গিয়ে দিয়ে চিহ্নিত করে এই বালুমহালটি বুঝিয়ে দেয়া হয়। এর পর থেকে জেলা প্রশাসনের বুঝিয়ে দেয়া লাল নিশানের ভিতর চরশ্যামপুর মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এছাড়াও বালু পরিবহনের জন্য কাজলা মৌজায় তালাইমারি সড়ক ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে টোল ইজারা নেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এই বালুমহাল বন্ধের জন্য আরেক বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। হাইকোর্ট তদন্ত করে আইন মেনে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ ও লিখিত অভিযোগের পর জেলা প্রশাসন থেকে চারটি তদন্ত করা হয়। তদন্তে নিয়মের মধ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়। জেলা প্রশাসন থেকে হাইকোর্টেও এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। কিন্ত এর পরও জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বৈধ বালুমহালটি বন্ধ করে দিয়ে আটজন নিরিহ শ্রমিককে ধরে নিয়ে গিয়ে সাজা দিয়েছে।

Leave a comment

উপরে