রাজশাহীতে পদ্মার তীররক্ষা প্রকল্প এলাকায় বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা

রাজশাহীতে পদ্মার তীররক্ষা প্রকল্প এলাকায় বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ২০-০৭-২০১৯, সময়: ১৬:১৫ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার সোনাইকান্দি এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। শনিবার দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ও পবা উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা পরিদর্শন করে পদ্মা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প এলাকায় সব ধরণের বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

বালু উত্তোলনের কারণে সোনাইকান্দি এলাকায় পদ্মার তীররক্ষায় নতুন নির্মিত বাঁধে ধস নামায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে মদনপুর, কসবা ও চরহরিপুর মৌজার বালুমহাল লিজ নিয়ে আনোয়ার হোসেন নামের এক বালু ব্যবসায়ী সোনাইকান্দি এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। লিজ নেয়া বালুমহালের বাহির থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি পদ্মার তীররক্ষা নতুন বাঁধে ধস নামে।

কিন্তু মাস খানেক আগেই শতর্ক করে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে চিঠি দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে বলা হয়। এর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে বারবার তাগাদা দিলেও তিনি বালু উত্তোলন চালিয়ে যান। এছাড়াও এর আগে স্থানীয় চারজন জনপ্রতিনিধি সোনাইকান্দি বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এর পরও বালু উত্তোলন বন্ধ করেননি বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে সোনাইকান্দি এলাকায় পদ্মা তীররক্ষা প্রকল্পের নির্মিত নতুন বাঁধে ধস নামে। ফলে সে এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার তিনি নিজেসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বালু উত্তোলনের কারণে নতুন বাঁধে ধস নেমেছে সেহেতু নদীর তীররক্ষা প্রকল্প এলাকা থেকে সব ধরণের বালু উত্তোলনের উপর নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে পদ্মা নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের ৬০০ মিটার (অর্ধ কিলোমিটারের বেশী) দুর যদি এই বালুমহালের এলাকা থাকে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবে। চিঠি দিয়ে বালুমহাল ইজারাদার আনোয়ার হোসেনকে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আফিস আহমেদ জানান, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে সোনাইকান্দি হতে বুলনপুর পর্যন্ত এলাকা রক্ষর জন্য নদীর তীর প্রতিরক্ষার প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সোনাইকান্দি এলকায় অবস্থিত বালুমহাল থেকে উত্তোলিত বালু বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়। গত ১১ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও বালুমহাল ইজারাদার আনোয়ার হোসেনকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় নতুন নির্মিত পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস নামে।

তিনি আরও বলেন, ধস নামা স্থানে বালুর বস্তা ও মাঠি ফেলে রাখা হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমের আগে এটি আর নির্মাণ করা সম্ভাব নয়। তবে ওই স্থানের ধস আর যেন বাড়তে না পারে তার জন্য রক্ষানবেক্ষন কাজ করা হচ্ছে। এতে সরকারের বেশ কিছু অর্থ গচ্চা যাবে বলেও জানান তিনি।

পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে বার বার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও তিনি উত্তোলন বন্ধ বা রাস্তাটি অপসারণ করেনি। এ কারণে নতুন নির্মিত বাঁধে ধস নামে। এ ধস নামায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পুরো প্রকল্পটি। বিশেষ করে পদ্মার পানি আরও বাড়লে সেখানে আরও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারের কয়েক লাখ টাকা গচ্চা যাবে বলে জানান তিনি।

‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর থেকে সোনাইকান্দি পর্যন্ত সংরক্ষণ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয় গত প্রায় আট মাস আগে। কংক্রিটের ব্লক দিয়ে বাঁধাই করার কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রথম ধাপে পাঁচটি প্যাকেজে বুলনপুর থেকে হাড়ুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ৬৫০ মিটার তীর রক্ষার কাজ করা হয়।

আর দ্বিতীয় ধাপে হাড়ুপুর থেকে পবার সোনাইকান্দি পর্যন্ত দুই হাজার ২৫৫ মিটার নদীর তীর রক্ষার কাজ চলছে। এই কাজ শেষের পর পদ্মাপাড়ের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি এলাকার স্থায়ী সংরক্ষণ হবে।

পুরো প্রকল্পের ব্যয় ২৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩১ কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা নদী ড্রেজিংও করা হবে। এর ফলে রাজশাহী শহরের পাশে নদীতে সারা বছর পানির প্রবাহ থাকবে। নদী তীর রক্ষা ও ড্রেজিংয়ের পর ওই এলাকায় পাকা সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ারও ভাবনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

উপরে