রাজশাহীতে উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্রীকে গাজীপুর পুলিশে হস্তান্তর

রাজশাহীতে উদ্ধার অপহৃত স্কুলছাত্রীকে গাজীপুর পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশিত: ১৩-০৭-২০১৯, সময়: ০১:৩৬ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : অপহরণের শিকার হয়ে রাজশাহীতে উদ্ধার স্কুলছাত্রীকে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গাজীপুর থানার অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালাম ভুঁইয়া ও তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে মতিহার থানা পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুশ জানান, গাজীপুর থানা পুলিশকে জানানোর পর তার বাবা সেখানে একটি মামলা করে। সে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তার বাবা-মাসহ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী পৌঁছায়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকাল ৮টার সময় তাদের কাছে হস্তান্তর কারা হয়েছে।

এদিকে মামলাটি নিয়ে গাজীপুর ও রাজশাহী পুলিশ তার এ বক্তব্যের তেমন সত্যতা পাচ্ছে না। ফলে এই ‘অপহরণের’ ঘটনা নিয়ে ধন্ধে পড়েছে দুই থানার পুলিশ। গাজীপুর পুলিশ বলছে, তিন স্কুলছাত্রীর অপহরণের মতো কোনো ঘটনার খবর তারা পাননি। ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক।

কারণ, রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটি আরও যে দুই ছাত্রীর কথা বলেছে তারা অপহরণের শিকার হয়নি। ওই ছাত্রী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বৃহস্পতিবার তারা ক্লাস করেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী সাথে মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এ মামলায় অপহরণের কোন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি ওই মেয়ের কোন বক্তব্যের কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখনও রাজশাহী থেকে ঢাকার পথে রয়েছে। তারা পৌঁছালে এ নিয়ে আইন অনুযায়ী মামলার প্রক্রিয়াকরা হবে।

গাজীপুর থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালাম ভুঁইয়া জানায়, তারা এখনও পথে রয়েছে। তার সাথে মেয়ের বাবা ও মা রয়েছেন। থানায় পৌঁছে বাকি আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুশ জানান, মেয়েটির ভাষ্য অনুযায়ী রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তল্লাশি করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। এখন উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে গাজীপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শ্রীপুর থানায় অপহরণের যে মামলা দায়ের হয়েছে তার এখন এই মামলার বাকি আইনি প্রক্রিয়া শেষ করবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী মোড়ের একটি ফার্মেসির দোকানের সামনে গিয়ে বসে পড়ে ১৪ বছরের ওই মেয়েটি। মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় থাকে। স্থানীয় মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামে। মেয়েটির বাবা-মা গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

ফার্মেসি দোকানে গিয়ে মেয়েটি বলে, তাকে এবং তার স্কুলের আরও দুই ছাত্রীকে সকালে স্কুল যাওয়ার পথে জোর করে সাদা রঙের একটি বড় মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়ে। রাজশাহী আসার পর তার জ্ঞান। তালাইমারী মোড়ে গাড়িটি যানজটে পড়লে সে লাফ দেয়। তবে অপর দুই স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। তারাও তার মতো স্কুলের ইউনিফরম পরে আছে। আর গাড়িতে অন্তত ১৩ জন অপহরণকারী রয়েছে বলেও জানায় সে।

মেয়েটির কথামতো রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তল্লাশি শুরু হয়। একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয় গাজীপুর জেলা পুলিশকে।

উপরে