রাজশাহীতে প্রতিদিন পরিবহনে লাখ টাকার চাঁদাবাজি

রাজশাহীতে প্রতিদিন পরিবহনে লাখ টাকার চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: 12-06-2019, সময়: 14:53 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগরীর ভেতর আগে তিনটি স্থানে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা হতো। রাজশাহী ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এই চাঁদা তুলত। তিন স্থানের মধ্যে সম্প্রতি নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ের চাঁদা তোলা বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তারপর থেকে শুধু নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল ও তালাইমারী মোড়ে চাঁদা তোলা হতো। কিন্তু কয়েকদিন থেকে রাজশাহী ট্রাক টার্মিনালের সামনেও চাঁদা আদায় শুরু হয়েছে। ট্রাক টার্মিনালের ‘টার্মিনাল ফি’ ছাড়াও দুই শ্রমিক সংগঠনের নামে টোকেন দিয়ে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ট্রাক ট্রার্মিনালের সামনেই নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ট্রাক টার্মিনালের ভেতরে ট্রাক থেকে ‘টার্মিনাল ফি’ আদায় করা হচ্ছে। আর টার্মিনালের বাইরে সড়কে ট্রাক ও বাস থেকেও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে আলাদা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকদের মৃত্যুকালীন অনুদান, কন্যাদায়, শিক্ষাবৃত্তি ও চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে টোকেন দিয়ে ট্রাক ও বাস থেকে ওই চাঁদা তোলা হচ্ছে।

অথচ চাঁদাবাজি বন্ধে গত ১২ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ওই চিঠিতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের মেয়র, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার, একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক ও জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) চিঠি দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।

এর পরের দিনই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় চার চাঁদাবাজকে আটক করে কারাদণ্ডও দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর সেখানে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়। কিন্তু বন্ধ হয়নি নগরীর অন্য স্থানগুলোতে চাঁদা তোলা। এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ফলে এখন আবার নতুন করে ট্রাক টার্মিনালের সামনে চাঁদা তোলা শুরু হয়েছে।

সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে শ্রমিক নেতারা চাঁদা তুলে তুলছেন। প্রতিটি বাস থেকে এখন নেওয়া হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। আর ট্রাক থেকে নেওয়া হয় সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন ট্রাক থেকে চাঁদা ওঠে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। আর বাস থেকে ওঠে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। গড়ে মোট টাকার পরিমাণ প্রায় এক লাখ। অথচ দুই শ্রমিক সংগঠনের তহবিলে এসব অর্থ জমা হয় নাম মাত্রে। নানা খরচের অযুহাতে চাঁদার সিংহভাগ অর্থ শ্রমিক নেতারা লুটপাট করেন বলেই অভিযোগ সাধারণ শ্রমিকদের।

তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি বলেন, শ্রমিকদের কোনো সরকারি-বেসরকারি অনুদান নেই। তারা আহত হলে চিকিৎসা করাতে হয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে অনুদান দেয়া লাগে। মেয়ের বিয়ে হলে অনুদান দিতে হয়। আরও নানা খরচ আছে। তাই পরিবহন থেকে টাকা আমরাই তুলি এবং সেটি জমা হয় সংগঠনের তহবিলে।

আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার সালমা সুলতানা আলম বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন থেকে একটি চিঠি এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সেখান থেকে যেভাবে নির্দেশনা পাওয়া যাবে সেভাবে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

উপরে