বাগমারায় বাচ্চুর স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল প্রশাসন

বাগমারায় বাচ্চুর স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল প্রশাসন

প্রকাশিত: ১১-০৬-২০১৯, সময়: ১৯:৪৪ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবেনা মর্মে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গোপনে দীঘি খনন করতে গিয়ে প্রশাাসনের নজরের পড়লো বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার লিখিত অনুমতি না নিয়েই ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে শুরু করে দীঘি খনন। আবাদী জমির ফসল নষ্ট করে দিব্যি গোপনে মেশিন ব্যবহার করে খনন কাজ চালাতে থাকে।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে উপজেলা নিবার্হী অফিসার জাকিউল ইসলামের নির্দেশনায় মঙ্গলবার বিকেলে দীঘি খনন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত।

উল্লেখ্য কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে গতবারও গোপনে দীঘি খনন করতে গেলে খনন কাজ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। বছর পর পুনরায় একই স্থানে শুরু করে দীঘি খনন শুরু করে বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের পানিশাইল গ্রামে। পানিশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের কূল ঘেঁষে খনন করা হচ্ছিল দীঘিটি।

জানাগেছে উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের মাধনগর গ্রামের বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী পানিশাইল, বিলবাড়ীসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের নিকট থেকে আকার ভেদে ২০-২৫ হাজার টাকা বছর বিঘা হিসাবে লীজ নিয়ে দীঘি খনন শুরু করে। প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারনে গত বছর বন্ধ হয়ে যায় খনন কাজ।

এবছর আবারও শুরু করলে দ্বিতীয় বারের মতো অভিযান চালায় প্রশাসন। এদিকে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে শটকে পড়ে মালিক সহ গাড়ি চালক। দীঘি যেন কোন ভাবেই খনন করা হয় সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।

দীঘিটি খনন করা হলে বন্ধ হয়ে যেতো পানির স্বাভাবিক প্রভাহ। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি সহ বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার মুখে পড়তো পানিশাইল, বিলবাড়ি, রঘুপাড়া, বারুইপাড়া সহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন। যেখানে দীঘি খনন শুরু করেছে সেখান দিয়েই রয়েছে পানি নিষ্কাশনের খাল বা দাঁড়া। দীঘি খনন কাজ বন্ধ করার ফলে জলাবদ্ধতার হাত থেকে যে রক্ষা পেলো কয়েকটি গ্রামের শত শত পরিবার।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি গতবছর যে দীঘিটির খনন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল সেখানে আবারও বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী দীঘি খনন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দীঘি খনন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেই সাথে ড্রেজারের যন্ত্রাংশ খুলে আনা হয়েছে। সেখানে আবারও দীঘি খননের চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেই জানান তিনি।

উপরে