ঈদে নেটওয়ার্ক যন্ত্রনাই মোবাইল গ্রাহকেরা

ঈদে নেটওয়ার্ক যন্ত্রনাই মোবাইল গ্রাহকেরা

প্রকাশিত: ০৬-০৬-২০১৯, সময়: ০০:১৫ |
Share This

আসাদুজ্জামান মিঠু : পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ বুধবার উদযাপিত হয়েছে। ঈদের দিন নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে গ্রামঞ্চলে প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি বেশির ভাগ মোবাইল গ্রাহক। ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার বিকাল থেকেই নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখ্ াদেয়,চলে ঈদের দিন পর্যন্ত। এতে ফেশবুক, ইমেল, ইমু, ম্যাসেনজার ব্যাবহার করতে পারেনি কোন গ্রাহক এমনকি মোবাইলেও কথা বলতেও পারেনি বেশির ভাগ সময়। ঈদের দিন এমন সমস্যায় পড়ায় নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলো উপর বেশ ক্ষুদ্র গ্রামের গ্রাহকেরা।

গ্রাহকেরা জানান, ডিজিটাল যুগে কয়েক বছর আগেই পা রেখেছে রাংলাদেশ। আকাশে উঠছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। ইন্টারনেটর মাধ্যমে দেশে স্যোসাল মিডিয়ার বেড়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার এখন হাতে মুটোয় মোবাইল ফোন॥ টু-জি থেকে হয়েছে ফোর জি। ঘরে বসে-শুয়ে থেকেই এখন সারাবিশ্ব হাতের নাগালে পাচ্ছেন মানুষ।

এমন সব সুযোগ সুবিধা শহরের বসবাসকারী মোবাইল গ্রাহকেরা পাচ্ছে খুব সহজেই পেলেও এমন সুযোগ সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামে বসবাসকারী গ্রাহকেরা।

রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক যন্ত্রনার কারণ উঠে উঠেছে গ্রাহকের কাছে। মোবাইল বাড়ির মধ্যে রাখলে সারাদিন নেটওয়ার্ক থাকেনা। অন্য কোথাও কল করতে হলে আসতে হয় বাড়ির বাইরে খোলা আকাশের নিচে, তবুও শোনা যায় না কথা। আর ইন্টারনেট তো চলেই না বললেই চলে। এমন অভিযোগ গ্রামের শত শত গ্রাহকের।

শুধু ঈদ নয়, গ্রামের গ্রাহকেরা এমন সমস্যাই দীর্ঘদিন ধরে পার করলেও দেশের সিম কোম্পানি গুলোর তেমন কোন মাথা বেথা নাই বললেই চলে।

সরেজমিন, ঈদের দিন বুধবার রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির খাড়ীকল্লা-নারায়নপুর-একান্নোপুর ও টেটনাপাড়া মুণ্ডুমালা পৌর এলাকার পাঁচন্দ, গোরাঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫ টি গ্রামের মোবাইল গ্রাহকদের সাথে কথা হয়। এসব গ্রামে গ্রাহকেরা ব্যবহার করেন গ্রামীণ,বাংলালিং রবি.টেলিটকসহ বিভিন্ন কোম্পানির কয়েক হাজার সিম। এসব গ্রামে ফাকা মাঠেও নেটওয়ার্ক ঠিক মত পাওয়া যায়না। আর বাড়ি মোবাইল থাকলে সারাদিন মোবাইলে কেউ কল দিতে পারেন না দু:খিত বলতে থাকে সব সময়।

এমন নেটওয়ার্ক সমস্যা শুধু তানোর উপজেলার ১৫ টি গ্রামেই নয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ জেলাসহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলে গ্রামের গুলোতে এমন নেটওয়ার্ক যন্ত্রনাই ভুগছেন হাজার হাজার মোবাইল গ্রাহকেরা।

এর মধ্যে তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা গ্রামের জোবায়ের ইসলাম খান নামের এক মোবাইল গ্রাহকের সাথে কথা হয়। তিনি জানান নেটওয়ার্ক নিয়ে নানান বিরক্তির কথা। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে এসেছি। ঈদের দিন বন্ধু বান্ধব এমনকি আত্মীয়-স্বজন দের সাথে কথা বলবো কিন্তু সারাদিনও মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহরের পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নের ব্যবাপক কাজ করেছেন। ঘরে বসে ইন্টারনেটসহ নানা প্রযুক্তি যাতে গ্রামের মানুষ হাতের নাগালে পাই সে লক্ষ্য অর্জন করেছেন। কিন্ত সিম অপরেটর কোম্পানী গুলো গ্রামে সে ভাবে কাজ করছেনা।

একই উপজেলা পাঁচন্দর গ্রামের বাদশা নামের অন্যএক ব্যাক্তি বলেন, তিনিও ঢাকা থেকে গ্রামে ঈদ করতে এসেছেন। এমন সমস্যা শুধু ঈদ না সারা বছরেই গ্রামে এমন সমস্যা লেগেই থাকে।

তিনি আরো বলেন, বাড়িতে মোবাইল থাকলে নেটওয়ার্ক থাকেনা। কোন জরুরি কাজে আত্মীয়-স্বজ্বন আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনা। আমরাও যদি রাতে কোথাও কোন দরকারে ফোন করতে হয় তবে, বাড়ির বাইরে গিয়ে কথা বলতে হয়। তাও একবার কল নয়, কয়েকবার ডায়াল করে কথা বলতে হয়। তবুও ভাল ভাবে কথা শোনা যায়না।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউপির গোলাম মোস্তাফা বলেন, দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধিপাচ্ছে। সিম কোম্পানী গুলো বাড়াইছে তাদের নেটওয়ার্ক টাওয়ারের সংখ্যাও। কিন্ত তাদের টাওয়ারের রেঙ্জ একাবারে কম ও নিন্মমানের মনে হয়।

কারণ গ্রামে একটি নেটওয়ার্ক টাওয়ারের মাত্র এক কিলোমিটার দুর গিয়ে আর নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। বাড়িতে থেকে কথা বলা যায়না। দেশের বিভিন্ন শহরে তাদের সেবার মান বাড়ালেও গ্রামের গ্রাহকেরা তা পাচ্ছেনা। তাই জরুরি ভিক্তিক কোম্পানী গুলোকে গ্রামের গ্রাহকের সেবার মান বাড়ানোর অনুরোধ করছি।

উপরে