রাজশাহীতে প্রকাশ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই

রাজশাহীতে প্রকাশ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই

প্রকাশিত: 14-05-2019, সময়: 16:50 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় মৌসুমী সেমাই কারখানাগুলোর আবারো তৎপরতা শুরু করেছে। এসব কারখানায় প্রকাশ্যেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল সেমাই। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হলেও থেমে নেই ভেজাল ও নিম্নমানের সেমাই তৈরী। তবে বিএসটিআই বলছে, মানহীন সেমাই কারখানাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।

বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, রাজশাহীতে অন্তত: অর্ধশতাধিক মওসুমী সেমাই কারাখানা আছে। যেগুলো ঈদকে সামনে রেখে সেমাই উৎপাদন করে। তাদের উৎপাদিত লাচ্ছা ও সেমাই ( রোলেক্স) রোজার মাঝামাঝি সময় থেকে নগরী ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়। রাজশাহী বিসিকসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত: ৫০টির মত অস্থায়ী সেমাই কারখানা। এছাড়া প্রাণ, নর্থবেঙ্গল, দিনার, বিশাল, বনফুল, বেলিফুল, রুচিতা, পপুলার, মিষ্টিবাড়িসহ ১০ থেকে ১৫টি স্থায়ী কারখানা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে এসব কারখানা কয়েকদিন ধরেই সেমাই উৎপাদন করছে। অস্থায়ী কারখানাগুলোতে গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৮০ খাঁচি (প্রতি খাঁচিতে ১৮ কেজি) সেমাই উৎপাদিত হচ্ছে।

এসব কারখানায় উৎপাদিত লাচ্ছা ও সেমাই রাতের আঁধারেই চলে যাবে খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে। দেখা গেছে, অস্থায়ী কারখানাগুলোতে খুব গোপনে সেমাই তৈরি করা হচ্ছে। বিসিক এলাকায় গড়ে ওঠা সবগুলো কারখানার ক্ষেত্রেই স্টিল, প্লাস্টিক, লোহাসহ বিভিন্ন কারাখানার দুই-একটি রুম ভাড়া করে অথবা কারখানা মালিক নিজেই অস্থায়ী সেমাই কারখানা গড়ে তুলেছেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এসব সেমাইয়ে মেশানো হচ্ছে নিম্নমানের উপাদান ও ক্ষতিকারক রঙ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অস্থায়ী সেমাই কারখানার কয়েকজন মালিক স্বীকার করেন, শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটি কারখানায় সেমাই উৎপাদন করলে চাহিদা পুরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাছাড়া সবাই কমবেশি সেমাই-এ ভেজাল দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থায়ী কারখানাগুলো ওই তালিকা থেকে বাদ যাবেনা বলেও জানান তারা।

তবে আজ নগরীর বিসিক এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হয়। এখানে মানহীন লাচ্চা সেমাই তৈরীর দায়ে প্রাণ ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর কারখানায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত ৪০ হাজার টাকা এবং রাতুল বেকারীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বিএসটিআই আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম জানান, ভেজাল ও নিম্নমানের সেমাই প্রস্তুুতকারী কারখানাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে। রোজা শুরুর আগে থেকেই নগরীতে প্রায় প্রতিদিন ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে বিএসটিআই।

তিনি আরো জানান, অভিযানে রমজানের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য যেমন, মুড়ি, ছোলা, ফলমূল, ভোজ্যতেল, সেমাই, মাছ ও মাংসের বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রণ না ঘটে সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ওজনে কারচুপিকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো রোজার মাস জুড়েই এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

 

উপরে