রাজশাহী নিয়ে যেমন ভাবছেন সাংসদ বাদশা

রাজশাহী নিয়ে যেমন ভাবছেন সাংসদ বাদশা

প্রকাশিত: ২৪-০২-২০১৯, সময়: ১৫:০২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘‘স্বপ্ন ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সুন্দর শহর গড়তে হলে পরিকল্পনার বিকল্প নেই। রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে হলে যে পরিকল্পনা থাকা দরকার তা আছে। সিটি করপোরেশনে এখন মেয়র হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন থাকায় এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠেছে। দুজনে এখন রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।’’

কথাগুলো বলেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে সাংসদ বাদশা বলেন, ‘‘রাজশাহীকে একটি ভিন্নধর্মী আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছি। পদ্মাপাড়ের এই প্রচীন শহরকে উত্তরাঞ্চলের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’’

ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। সেখানে দেখা যায়, রাজশাহীতে শিল্পের বিকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া এ অঞ্চলের বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলেই রাজশাহী হবে উত্তরের রাজধানী বলে মনে করেন তিনি।

বাদশা বলেন, ‘‘উন্নয়নের জন্য এখন গার্মেন্টস খুব গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। কিন্তু গার্মেন্টসগুলো শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে গড়ে উঠছে। ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাঁচ শতাংশ শুল্ক ছাড় পান। সরকার এ অর্থ ভর্তুকি দেয়। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে গার্মেন্টস কারখানা গড়ে তুলতে হলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক মওকুফের প্রয়োজন। একাদশ সংসদের এই পাঁচ বছরে তিনি শুল্ক মওকুফের ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করবেন, যেন এখানে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকা-চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জের মতো এলাকা থেকে পোশাক রপ্তানির জন্য বন্দর কাছে। কিন্তু রাজশাহী থেকে দূরত্ব বেশি। এই দূরত্ব বিবেচনায় রাজশাহী থেকে রপ্তানির জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা দিলে ঢাকা থেকে শত শত গার্মেন্টস কারখানা রাজশাহী অঞ্চলে উঠে আসবে। কারণ, এ অঞ্চলে জনবলের অভাব নেই। ঢাকার চেয়েও সস্তাতে পাওয়া যায় শ্রমশক্তি।’’

তবে শিল্পায়নের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাও দরকার বলে মনে করেন বাদশা। তিনি বলেন, ‘‘রাজশাহী বিমানবন্দর গো-চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। আমি সেটা চালু করেছি। এখন সেটাকে কার্গো বিমান চলাচলের উপযোগী করতে চাই। পাশাপাশি নদী খননের মাধ্যমে নৌপথ সৃষ্টি এবং আব্দুলপুর থেকে রাজশাহী পর্যন্ত রেললাইনকে ডুয়েল গেজ করতে ভূমিকা রাখতে চাই। এসব হলে এ অঞ্চলের পণ্য দেশ-বিদেশের যে কোনো প্রান্তে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।’’

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘‘প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার রাজশাহী থেকে বিচ্ছিন্ন। রাজশাহী থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাওয়া যায় না। এই দাবি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রধান দাবি রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামে অতিদ্র্বত ট্রেন দিতে হবে। এটি যেন সম্ভব হয় তার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।’’

বাদশা বলেন, ‘‘রাজশাহীর সকল ধর্মীয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। হাইটেক পার্ক করে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। রাজশাহীর হরিয়ান সুগার মিলে অনেক জায়গা রয়েছে। তার ভেতর দিয়েই গেছে রেললাইন। সেখানে রেলের কন্টেইনার পোর্ট করা যেতে পারে। তাহলে পাবনার ঈশ্বরদীর বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। এটি করার জন্য তিনি সরকারের কাছে প্রস্তাব করবেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘রাজশাহী থেকে ভারতের হাওড়া পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চালুও তার একটি স্বপ্ন। এটি পূরণে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রস্তাবে দুই দেশেরই রেলপথ বিভাগ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে চিঠি চালাচালিও চলছে। রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে রাজশাহী।’’

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘‘রাজশাহীতে যা উন্নয়ন হয়েছে তা সরকার আর রাজশাহীবাসীর আকাঙ্খার ফসল। আমি রাজশাহীর সংসদ সদস্য হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। রাজশাহী শিক্ষা নগরী। এই শিক্ষা নগরীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছি। আরও কয়েকটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই। এখন সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রেও রাজশাহীকে বিকশিত করতে হবে। রাজশাহী শুধু শিক্ষা নগরী থাকবে না, শিল্প নগরীতেও পরিণত হবে। সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই তিনি কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেন। তখন কারখানাটি বেসরকারিকরণ বোর্ডের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। সেখান থেকে তিনি কারখানাটি আবার পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে এনেছেন। এখন এই কারখানার জন্য রেশম গুটির উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চাই। কারখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে রাজশাহীর রেশমের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।’’

আরও খবর

  • আট খাতকে গুরুত্ব দিয়ে রাসিকের মাস্টারপ্ল্যান
  • ছাত্রলীগের ৫ নেতা বহিষ্কার
  • স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহননে মোহনপুরের ওসি ক্লোজড
  • চাল আমদানি বন্ধের সুপারিশ
  • আম নজরদারিতে ৭ দিনের মধ্যে কমিটি চায় হাই কোর্ট
  • বালিশ কেনা-তোলার খরচ শুনে হাসলেন দুই বিচারপতি
  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন রুমিন
  • যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা
  • বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১১
  • দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ফের ক্ষমতায় মোদির বিজেপি
  • মন্ত্রিসভায় প্রথম পুনর্বিন্যাস
  • চাল আমদানি বন্ধ করার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
  • রাজশাহীর পদ্মায় ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  • বয়সের ফ্রেম দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে নিরুপায় করা যাবে না : হাইকোর্ট



  • উপরে