রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে

রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে

প্রকাশিত: ০৪-০১-২০১৯, সময়: ২৩:১১ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ফলে ভোরে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম তাপমাত্রায় স্থবির হয়ে উঠছে জনজীবন। বেলা বাড়ার পরও সূর্য উত্তাপ না ছড়ানোর কারণে কমছে না শীত। আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন অবস্থা বিরাজ করবে আরও কয়েকদিন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, দিনের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। আর ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে।

রাজশাহীতে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। শুক্রবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু এখন আবার তাপমাত্রা কমছেই। তবে এ মৌসুমে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

এদিকে তাপমাত্রা কমতে থাকায় পদ্মাপাড়ের ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে। উত্তরের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালে ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে ভোরের সূর্যের দেখা মিললেও থাকছে না উত্তাপ। ফলে সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে থাকা শীতার্ত মানুষগুলোর শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে খড়কুটো জ্বালাতে হচ্ছে।

শীতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা আক্রান্ত হচ্ছেন ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে। হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতক শিশুর সংখ্যাও। তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অ্যাজমায় আক্রান্ত রোগিরা। ফলে শীতে অ্যাজমা রোগির সংখ্যা বাড়ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।

রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, শীত বেড়ে যাওয়ায় সব বয়সের মানুষ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগির সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এসব রোগির মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

ঢাকা আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে রাজশাহীর পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন শেষে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বয়ে যেতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এ সময় দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

বাঘা : প্রয়াত শিল্পী ভুপেন হাজারিকা তার কন্ঠে গেয়ে ছিলেন ‘হাড় কাঁপানি শীতের কামড় পৌষ মাসে রই, মাঘের শীতে বাঘ পালায় বিয়ের কথা নয়’ ! কিন্তু এবার পৌষ মাসেই জেঁকে বসেছে শীত। আর সেই শীতে থর-থর করে কাপতে শুরু করেছে পদ্মা বিধৌত বাঘা উপজেলার মানুষ। সূর্যের লুকচুরি খেলায় এ আঞ্চলে বেড়ে গেছে শীতের প্রকপ। ফলে নদীতীরবর্তী ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় আবারও কাবু হয়ে পড়েছে। সেই সাথে উত্তরের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু এক লাফে আবারও নেমেছে। এদিক থেকে রাজশাহীর পূর্ব দক্ষিণ কর্ণারে অবস্থিত নদী তীরবর্তী বাঘা উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষগুলো তীব্র শীতে প্রচন্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিশেষ করে উত্তরের হিমেল হাওয়া এবং সূর্যের দেখা না পাওয়ায় মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে একেবারেই কম। ফলে সকালে যেমন মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে দেরি করে, তেমনি সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই মানুষ ঘরমুখী হওয়ার কারণে উপজেলার প্রধান প্রধান রাস্তা ও মার্কেটগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ছে। অনেক সময় খোলা আকাশের নিচে থাকা শীতার্ত মানুষগুলোর শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে খরকুটো জ্বালাতে হচ্ছে।

লোকজন বলছেন, প্রচন্ড শীতে এই উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভাসহ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে চরাঞ্চলে মানুষ। তারা শীতে থর-থর করে কাঁপছে। ফলে পুরো উপজেলা ব্যাপী দৈনন্দিন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সদরে অবস্থিত শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড। নিম্ন আয়ের মানুষদের পাশা-পাশি মধ্য বিত্তরাও ছুটছেন উপজেলার মাজার গেট তথা ঐতিহাসিক তেঁতুল তলায় অবস্থিত ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকান গুলোতে। আর উচ্চ বিত্তরা ছুটছেন বড়-বড় সপিং কমপ্লেক্সসহ শহরের বস্ত্র বিতান গুলোতে। শীত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্রের দামও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বাঘার পদ্মা বিধৌত সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে চরাঞ্চলবাসি। শীত যতটা না কাবু করছে, তার চেয়ে বেশি কাবু করছে হিমেল হাওয়া। যেন শরীরে তীরের মত এসে বিঁধছে ঠান্ডা। এর ফলে একদিকে কষ্ট পাচ্ছে হত দরিদ্র মানুষ-অপর দিকে নষ্ট হচ্ছে সবুজ ভান্ডার হিসাবে খ্যাত চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, শীতজনিত কারনে গত দুই দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ডাবল হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগ ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।

আরও খবর

  • সব বিমানবন্দরে ডগ স্কোয়াড
  • রাসিকের মাস্টারপ্ল্যান হবে দেশের রোল মডেল : মেয়র
  • দেশে প্রথম লোহার খনির সন্ধান
  • মান্দায় মাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণ
  • লিবিয়ায় জিম্মি রাজশাহীর ৪ যুবকের পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা
  • পবায় চার ঘন্টায় ৪০০ ভোট
  • পবাতেও ভোটার উপস্থিতি কম
  • পাবলিক পরীক্ষার সময়সহ বেশ কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
  • চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ভূমিকম্পে নিহত ১২
  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়
  • ‘বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল’
  • ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে
  • মন্ত্রিসভার রদবদলে যা জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
  • বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টে অস্থিরতা
  • সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে : প্রধানমন্ত্রী



  • উপরে