রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভঙ্গ করে কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভঙ্গ করে কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ

প্রকাশিত: ০৩-১২-২০১৮, সময়: ১২:৩৬ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একজন সেকশন অফিসার এবং লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার পদে নিয়োগের এই সুপারিশ করেছে নিয়োগ বোর্ড। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেকশন অফিসার (অর্থ) পদে কোনও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অথবা বাণিজ্যে বিবিএ পাস,অথবা চার/পাঁচ বছরের স্নাতক (সম্মান), অথবা তিন বছরের স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, অথবা স্নাতক পাসসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের সব পর্যায়ে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমান গ্রেড থাকতে হবে, তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ও অভিজ্ঞদের জন্য যেকোনও একটি শর্ত শিথিলযোগ্য। শিক্ষাগত যোগ্যতার ন্যূনতম পর্যায় ঠিক রেখে এসএসসি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পর্যন্ত একাডেমিক পরীক্ষায় নির্ধারিত শ্রেণি বা গ্রেডের স্থলে কেবলমাত্র একটি পর্যায়ে নিম্নতর শ্রেণি বা গ্রেড গ্রহণযোগ্য হবে।

জানা গেছে, গত ৮ জুলাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাডহক ভিত্তিতে কয়েকজন স্টাফ নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। শর্তানুযায়ী অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ করা প্রার্থীদের ছয় মাসের মধ্যে স্থায়ী করতে হবে। যদি তা না সম্ভব না হয়, তাহলে আরও ছয় মাস নিয়োগ এক্সটেনশন করা যাবে। বিধি অনুযায়ী, জাতীয় দৈনিকে দুটি বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এরপর লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, মো. আবদুস সোবহান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অ্যাডহক ভিত্তিতে সেকশন অফিসার হিসেবে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাকে। এই পদে নিয়োগের শর্ত হলো— প্রার্থীকে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, তিন বছরের অনার্সসহ মাস্টার্স,অথবা চার বা পাঁচ বছরের অনার্স অথবা গ্র্যাজুয়েশনসহ মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনও তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।

কিন্তু মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়াই সেকশন অফিসার হিসেবে আবদুস সোবহানকে নিয়োগের সুপারিশ করে নিয়োগ বোর্ড। যদিও সিন্ডিকেটে নিয়োগের সুপারিশটি পাস হলেই তার নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ইসমাইল হোসেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস করছেন, কিন্তু মাস্টার্স পাস করেননি। শুধু তাই নয়, ইসমাইল হোসেনকে প্রথমে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছয় মাস পর এক্সটেনশন চাইলে তাকে আবারও একইপদে ছয় মাসের এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চাকরি স্থায়ী না হলেও বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ১১তম গ্রেডের এই অস্থায়ী কর্মকর্তাকে নবম গ্রেডে (প্রথম শ্রেণি) লিয়াজোঁ ও প্রটোকল অফিসার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী না হলে বিভাগীয় প্রার্থী হতে পারবেন না। অথচ উচ্চতর স্কেলে তাকে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নিয়োগ বোর্ডের প্রধান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক যাওয়াদুল হক বলেন, ‘এখনও নিয়োগের কাজ শেষ হয়নি। নিয়োগ দেবে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এ ব্যাপারে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিজ্ঞাপন ছিল, সেখানে মাস্টার্স বলা আছে। কিন্তু সেখানে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স ও যোগ্যতা শিথিলযোগ্য বলা হয়। আর যাকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে, তিনি ইতোমধ্যে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। তিনি জরুরি একজন স্টাফ। তাকে ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যাবে না। তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চাকরি করেছেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার জন্যই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরকম ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ইচ্ছে করলে তাকে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে পারেন।’

অধ্যাপক যাওয়াদুল হক আরও বলেন, ‘নিয়োগ আমরা দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ড হয়েছে। নিয়োগের বিষয়টি সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এটা সিন্ডিকেটের এখতিয়ার। সিন্ডিকেট ইচ্ছা করলে দিতেও পারে— নাও দিতে পারে। এই ডিসেম্বর মাসেই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করবেন ভিসি। সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত না হলে তিনি নিয়োগ পাবেন না।’

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) সহযোগী অধ্যাপক মো. নওশাদ আলী নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নিয়োগ টিকবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। আমি জেনেছি মাস্টার্স পাসের শর্ত পূরণ হয়নি, গ্র্যাজুয়েশন করা বিভাগীয় প্রার্থীকে নিয়োগ কমিটি সিলেকশন করেছে। দেখা যাক বিষয়টি নিয়ে কী দাঁড়ায়।’

উল্লেখ্য, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রায় ৪০টি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ (আইএইচটি) চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাসে অস্থায়ী ভিত্তিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। এই প্রতিষ্ঠানে ৯টি অনুষদের অধীনে ৮৫টি ডিসিপ্লিনে চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়া হবে। সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন

Leave a comment

আরও খবর

  • মৃত নারীর জরায়ু থেকে জন্ম নিল শিশু
  • ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ
  • ঘরোয়া এই ৬টি উপাদান দিয়ে বুকের কফ মাত্র ২ দিনে দূর করুন
  • রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভঙ্গ করে কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ
  • শিবগঞ্জ ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
  • বিশ্ব এইডস দিবস আজ
  • রাজশাহীর চরখিদিরপুরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
  • রাজশাহীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে নিঘাত পারভীনের হেলথ ক্যাম্প
  • গাঁজা থেকে ক্যান্সারের ওষুধ, মিলবে সফলতাও!
  • রাজশাহীতে স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার
  • রাজশাহীতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালিত (ভিডিও)
  • নিয়মিত অর্গানিক খাবার কমায় ক্যানসারের আশঙ্কা
  • শীতকালীন ৪ সবজি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
  • নারীদের জন্য যে পাঁচ স্বাস্থ্য পরীক্ষা অতি জরুরি
  • ছেলে সন্তানের জন্মদাত্রী মায়েরা বেশী অবসাদের ভোগেন : গবেষণা


  • উপরে