এসি বাসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

এসি বাসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

প্রকাশিত: ০৮-১১-২০১৮, সময়: ১৫:৫৯ |
Share This

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : নিরিবিলি স্থানে দাঁড়িয়ে আছে ঝকঝকে একটি এসি বাস। কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন কিশোরী এসে উঠে পড়লেন দাঁড়ানো বাসে। বসলেন নিজ নিজ আসনে। চালক সুইচ চেপে গেট লক করে চালু করলেন বাস। বাসের ইঞ্জিল চালু করলেও এক কদমও চললো না বাসটি। ইঞ্জিল চালু রেখেই দাঁড়িয়ে থাকলো ঘন্টার পর ঘন্টা।

এ বাস সে যাত্রীবাহী বাস নয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এটি। বাসের ভেতরে আসনের সামনে একটি করে রয়েছে কম্পিউটার। সেই কম্পিউটারে বসেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা নিচ্ছে প্রশিক্ষণ। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে রাজশাহীর তানোর উপজেলা চত্বরে। প্রধানমন্ত্রীর ২০২১ ভিশন ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করতে গ্রামের প্রত্যান্তঞ্চলের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন সূচনা আনতেই এমন উদ্যোগ।

রাজশাহী বিভাগীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বাদে রাজশাহী বিভাগের ৬২ উপজেলায় ১০৬০ জন শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রতিটি উপজেলায় ৪০ জন করে শিক্ষার্থীর তালিকা করে এক মাস মেয়াদি কোর্স হিসাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ইতি মধ্যে বিভাগের ২৬ উপজেলায় প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এটি ২০২১ সালের মধ্যে বিভাগের সকল উপজেলায় প্রশিক্ষণের কাজ শেষ হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে আছে বাস। বাসের ভিতরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১০ জন শিক্ষিত যুবক-যুবতী নিজ নিজ আসনে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন। আর তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন রেমন ইবনে ইসলাম নামের এক প্রশিক্ষক।

সেখানে কথা হয় তার সাথে, তিনি জানান, এখানে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত যুবক ছেলে-মেয়েদেরকে এমএস অফিস, গ্রাফিক ডিজাইন, ইন্টারনেট আউট সাইডসহ নানা ধরনের প্রোগ্রাম শিখানো হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার তথা যুব উন্নয়নের এমন উদ্যোগে বেশ খুশি তারা। তারা জানান, বিনা পয়সায় তারা কম্পিউটার সকল প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। এছাড়াও কোন ঘরে নয়, শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের মধ্যে এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাই এক নতুন অধ্যায় পেয়েছেন তারা।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদেকুজ্জামান জানান, উপজেলার প্রতিটি ইউপি চেয়াম্যানদের কাছে তাদের ইউনিয়ন এলাকা থেকে পাঁচ জন করে শিক্ষিত যুব-যুবতীর নামের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তাদের দেয়া তালিকায় ধরে ২০ জন মেয়ে ও ২০ জন ছেলে এ প্রশিক্ষণে আওতায় নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, প্রশিক্ষণের পরে তাদের একটি সনদ দেওয়া হয়। এ সনদের মান প্রায় ৬ মাসের ডিপ্লোমা কোর্সের মত। যে কোন সরকারি বেসরকারি চাকুরীতে তারা এ সনদ দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা এ সনদ দেখিয়ে অল্প সুদ ঋণও তুলতে পারবে। যা দিয়ে গ্রামের অবহেলিত যুব সমাজের বেকার সমস্যা দূরসহ প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকার রাখবে।

Leave a comment

আরও খবর

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩টি আসনে নৌকা চান ৪৪ জন
  • রাজশাহীতে নৌকায় চড়তে চাইছেন ৪৫ জন
  • ৩০০ আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির
  • পুঠিয়ায় দুইটি পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার
  • আ.লীগের কাছে ১০০ আসন চায় জাপা
  • ২০ আসনের জন্য অলির আল্টিমেটাম
  • প্রথম দিনে বিএনপির ৭৫০ ফরম বিক্রি
  • রাজশাহী-১ আসনের মনোনয়ন তুললেন ব্যারিষ্টার আমিনুল
  • প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী না দেওয়ার প্রস্তাব ড. কামালের
  • নৌকা প্রতীক নিয়ে বাবা-মেয়ের লড়াই
  • খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে যা বললেন নেতারা
  • পদ্মার চরে সবজির বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
  • নওগাঁ-৪ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বকুল
  • দাম না থাকায় মাথায় হাত মরিচ চাষিদের
  • রাজশাহী-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে চান ১০ নেতা


  • উপরে