উন্নয়নে এগিয়ে ১৬, পিছিয়ে ১৭ নং ওয়ার্ড

উন্নয়নে এগিয়ে ১৬, পিছিয়ে ১৭ নং ওয়ার্ড

প্রকাশিত: 09-07-2018, সময়: 14:25 |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) উত্তর দিকের সর্বশেষ দুইটি ওয়ার্ড ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। এর মধ্যে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডটি অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে থাকলেও রয়েছে বেশকিছু কাঁচারাস্তা ও দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা। অন্যদিকে অগ্রগতির দিক থেকে অনেকটায় পিছিয়ে রয়েছে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডটি। কাঁচা রাস্তাসহ, দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ওয়ার্ডটি। নাগরিক সুবিধাসহ ওয়ার্ডবাসীর রয়েছে নানা অভাব অভিযোগ।

সেনানিবাস, বিসিক শিল্প নগরী, জিন্নাহনগর, মথুরডাঙা, বখ্তিয়ারাবাদ, সুজানগর ও কয়েরদাড়া এলাকাগুলো নিয়ে রাসিকের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। যার ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৫শ ৮ জন। পরপর তিনবার নির্বাচিত হওয়া কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ গুছিয়ে নিয়েছেন ওয়ার্ডটিকে। শিল্প নগরী হওয়াতে উন্নয়নে বেশ এগিয়ে রয়েছে এই ওয়ার্ডটি। রোববার সরাসরি সুজানগর, মালদাসহ ওয়ার্ডের অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে নাগরিক সুবিধার সিংহভাগই পান বলে জানান এলাকাবাসী।

বখতিয়ারাবাদ এলাকার সাজু আহমেদ বলেন, রাস্তাঘাট, ড্র্রেন, বিদ্যুৎ পোল, গ্যাস, পানি, বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ সকল নাগরিক সুবিধা আমরা পাই। আমাদের সকল সুবিধায় নিশ্চিত করেছেন কাউন্সিলর। আমাদের এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।

ওয়ার্ডের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জনপ্রিয় কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ। চলতি মেয়াদে ড্রেন নির্মাণ, রাস্তা রিপেয়ারিং সহ নতুন রাস্তা নির্মানে দুই কোটি টাকার মত কাজ করা হয়েছে। চলমান রয়েছে আরও চার কোটি টাকার কাজ। এর মধ্যে বিসিক এলাকায় পুকুর, মন্দির সংস্কার, রাস্তা কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে আরও চার কোটি টাকার।

মশা নিধনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ছাড়াও ওয়ার্ডের শিশুদের বিকাশে তিনি গ্রহণ করেছেন বিশেষ ব্যবস্থা। অফিসের সাথেই নিজস্ব উদ্যোগে তিনি গড়ে তুলেছেন ছয়টিরও মত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো শিশুদের জন্য প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম, সুরের ভুবন সংগীত বিদ্যালয়, শিশু বিকাশ কার্যক্রম, নামাজ ও ইসলামিক লাইব্রেরী কক্ষ ও আপোষ মীমাংসা কক্ষ।

এছাড়াও ওয়ার্ডের বেকার সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন এনজিও’র মাধ্যমে মহিলা ও যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। সিটিসির মাধ্যমে কম্পিউটার, বুটিক, সেলাই মেশিনের কাজ করে স্বনির্ভর হয়েছে অনেকেই। এছাড়াও ব্র্যাকের মাধ্যমে চলমান রয়েছে আত্মকর্মসংস্থানের প্রশিক্ষন।

ওয়ার্ডের জনগনের চাওয়া পাওয়া নিয়ে বেলাল আহমেদ বলেন, নতুন মহল্লা গড়ে ওঠার কারনে সেই এলাকাগুলোতে রাস্তাঘাট, ড্রেন ও পোলের চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও ড্রেন পরিষ্কারের জন্য পর্যাপ্ত লোক নেই। যত ড্রেন আছে তার জন্য আরও লোকের প্রয়োজন। এছাড়াও ওয়ার্ডের নিজস্ব কবরস্থানের প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

খেলাধুলা ও বিনোদন শিশুদের মানসিক ও দৈহিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্য ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ ও সাতার শেখার জন্য পুকুরের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন এই কাউন্সিলর। ভবিষ্যতে নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের বাকি কাজগুলোও সম্পন্ন করে সর্বোত্তম ওয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে জানান এই হ্যাটট্রিক কাউন্সিলর।

এবারের নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন চারজন। এরা হলেন, বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল আহমেদ, সৈয়দ মন্তাজ আহমেদ, কাব্বার আলী ও নজরুল ইসলাম।

অন্যদিকে ১৪ হাজার ৬শ জন ভোটারের ওয়ার্ড ১৭ নম্বর। নগরীর তালপুকুর, দক্ষিন নওদাপাড়া, মধ্য নওদাপাড়া, উত্তর নওদাপাড়া, বালুর মোড়, রায়পাড়া, ভাড়ালীপাড়া, ওমরপুর, মাষ্টারপাড়া, পাঁচানীপাড়া, চকপাড়া, নতুন চকপাড়া, দুরুলের মোড় এলাকাগুলো নিয়ে বিস্তৃত এই ওয়ার্ডটি।

বিস্তৃত এই ওয়ার্ডটির রয়েছে হাজারো সমস্যা। রাস্তাঘাট কাঁচা, দূর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ এই ওয়ার্ডের সমস্যাগুলোর অন্যতম। এছাড়াও বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়াও বিভিন্ন সনদপত্র নিতে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন ওয়ার্ডবাসী।

অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর মুনজুর হোসেন বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ফি এর বাইরে একটি টাকাও নেয়া হয়না। যেই টাকাটা সরকারিভাবে লাগে সেই টাকায় নেয়া হয়। আর গত এক বছর ধরে আমি নিজস্ব টাকায় তা করে দিচ্ছি।

ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও সমস্যা তুলে ধরে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যত ওয়ার্ড আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি আমি। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, ড্রেন, ব্রীজ নির্মাণ ও পোলের কাজ, রাস্তাঘাট লাইটিং। চার কোটি ৪২ লাখ টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও অনুমোদিত রয়েছে ত্রিশ কোটি টাকার কাজ।

ওয়ার্ডের সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বলতে গেলে রাশিয়া। আয়তনে বড় হওয়ায় চাহিদাও বেশি রয়েছে। এই ওয়ার্ডে কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে। বরাদ্দ বেশি না হলে ওয়ার্ডকে সাজানো সম্ভব নয়। আগামীতে নির্বাচিত হলে অবহেলিত এই ওয়ার্ডটির রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন সহ সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চান তিনি।

এবারের নির্বাচনে বর্তমান কাউন্সিলর মুনজুর হোসেন সহ মনোনয়ন দাখিল করেছেন শাহাদাত আলী শাহু, আইয়ুব আলী ও জিল্লুর রহমান।

এদের মধ্যে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েনে সাবেক কাউন্সিলর সাহাদত আলী শাহু। সকল প্রকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত সহ সাতদফা নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়ে ওয়ার্ডবাসীর কাছে যাচ্ছেন শাহু। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলাবদ্ধতা, নাগরিক সুবিধা সহ বেকার সমস্যা দূরীকরণে কাজ করব। দরকার হলে নিজ খরচে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করব। ওয়ার্ডবাসীর যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সকল প্রকার করনীয় কাজ তিনি করবেন বলে জানান।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে ওয়ার্ড দুইটি। গ্রাম্য এলাকার মত নয়, সিটি কর্পোরেশনের মতই সুযোগ সুবিধা চান ওয়ার্ডবাসী। আর এই চাওয়া পূরণে যোগ্য ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে চান তারা।

উপরে