বাঘায় ১৯৯ বৃদ্ধ ও এতিম নিয়ে দুশ্চিন্তা

বাঘায় ১৯৯ বৃদ্ধ ও এতিম নিয়ে দুশ্চিন্তা

প্রকাশিত: ১৫-০৫-২০১৮, সময়: ১৬:০২ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : পবিত্র মাহে রমজান মাসকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন নামে গড়ে ওঠা এতিম খানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার। তিল তিল করে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩০ জন বৃদ্ধ ও ১৬৯ জন এতিম সন্তান। বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় পার হয়েছে বিগত বছরের পবিত্র এই রমজান মাস। কিন্তু এ বছর রমজান মাসের জন্য এই এতিমদের জুটছেনা একটু ভালো খাবার ও নতুন পোশাক। এ রমজান মাসকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত কেউ এগিয়ে আসেনি বৃদ্ধ ও এতিমদের সহযোগিতায়! তবে পরিচালক বিভিন্ন জায়গা থেকে যত সামন্য সহযোগিতা নিয়ে প্রতিদিনের তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তারা তিন বেলা খেতে পেলেও সামনে রমজান মাসের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে পারছেনা। রমজান মাসের খাবার ও পোশাকের জন্য পরিচালক পড়েছেন বেকায়দায়। তাই বৃত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে রমজান মাস উপলক্ষে একটু ভালো খাদ্য ও নতুন পোশাকসহ আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রতিষ্ঠান পরিচালক।

জানা যায়, রাজশাহী শহর থেকে ৫২ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত সরেরহাট গ্রাম। এই গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি এতিমখানা। যার নাম দেয়া হয়েছে সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন। বর্তমানে এতিমখানায় বৃদ্ধের সংখ্যা ৩০ জন ও এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এতিমদের মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন। এই সব বৃদ্ধ ও এতিমরা কেউই তার নিজের নয়। ৩২ বছরে পৈতৃক ১৭ বিঘা জমি বিক্রয় করে তাদের রক্ষা করে চলেছেন। এতে দেশের মানুষের ভালবাসা ছাড়া কি-ই-বা পেয়েছেন। সাথে পেয়েছে কেবল একটি খেতাব “সাদা মনের মানুষ” তাতে তো আর বৃদ্ধ ও এতিমদের পেট ভরেনা। কিন্তু তাদের পোশাক ও আর্থিক অভাবে বেকায়দার রয়েছে বৃদ্ধ ও এতিমদের নিয়ে। তিনি বৃদ্ধ ও এতিমদের রক্ষার্থে একটু সহযোগিতার হাত বাড়াতে দেশবাসির কাছে আকুল আবেদন করেছেন।

এতিমখানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার প্রথমে স্ত্রী মেহেরুন্নেসার মোহরানা বাবদ অর্থে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে চালু করেন এতিমখানা। আয় বলতে মেহেরুন্নেসার সেলায় ফোঁড়া ও শমেস ডাক্তারের চিকিৎসা থেকে আসা কিছু অর্থ।

বৃদ্ধ ও এতিমদের রক্ষার্থে আশ্রয়হীনদের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে হয়ে পড়েন গৃহহীন। তিনি পল্ল¬ী চিকিৎসা থেকে উপার্জিত অর্থে নিজেই পরিবার নিয়ে পড়েন বিপাকে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে উঠে আসেন এতিমখানায়। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শিশুদের দেখা শুনা ও তাদের জন্য রান্না করেন তিন সন্ধ্যা। এখন মেহেরুন্নেসা সেখানকার একজন সেবিকা। বিনিময়ে দুটো খেতে পান মাত্র। বর্তমানে এতিমখানায় বৃদ্ধ ও এতিমদের নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সবাই এক সাথে দিন রাত কাটান।

এতিমখানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার বলেন, নিজের স্ত্রীর, ছেলে-মেয়ের, সরকারি, বেসরকারি ও ব্যাক্তিগত ভাবে যে সহযোগিতা পায়, তা দিয়ে ছয় মাস চলে। আর ছয় মাস বিভিন্ন দোকানে বাঁকি রাখতে হয়। বছর শেষে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ঋনের মধ্যে থাকতে হয়। সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা পেলে অন্তত এই ঋণ থেকে মুক্তি পেতাম। বর্তমানে ৫২ শতাংশ জমির উপর এতিমখানাটি উপজেলা সদর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে সরেরহাট গ্রামে অবস্থিত। সহযোগিতা পাঠানোর বিকাশ নম্বর ০১৭১৮-৫৪২৪৫৪।

আরও খবর

  • রামেক হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির ৪৫তম সভা
  • বাসুপাড়ায় জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্র কমিটির সদস্যদের মাঝে পরিচয় পত্র বিতরণ
  • চারঘাটে দুই মাথাওয়ালা পুত্র সন্তানকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আহাজারি
  • রাজশাহীতে মাদকসহ আটক ৩৬
  • বাঘায় হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে দুই ছাত্র উধাও
  • রাজশাহী পুলিশের জালে নারীসহ গাড়ী চোর সিন্ডিকেটের ৫ সদস্য
  • রাবিতে ভর্তিচ্ছুকের গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই
  • সাংবাদিক স্বপনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
  • রাজশাহীতে আনসার ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
  • রাজশাহীতে ‘শেকড়ের সন্ধানে’ মেগা কনসার্টে চেতনার শপথ
  • বোমা হামলা মামলা রায়ের বিরুদ্ধে মহিলা দলের মানববন্ধন
  • বাগমারার একডালায় বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন
  • পবা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আয়নাল সম্পাদক লুৎফর
  • বাঘায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৮ জেলের অর্থদন্ড!
  • রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা রোববার, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন


  • উপরে