‘আব্বুর লাশ আসলে আম্মুর পাশে দাফন করব’

‘আব্বুর লাশ আসলে আম্মুর পাশে দাফন করব’

প্রকাশিত: ২১-০৩-২০১৮, সময়: ১৯:৪০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ঘুরতে নেপাল যাচ্ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আখতারা বেগম। গত ১২ মার্চ, সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন মারা যান, তাদের মধ্যে তারা দুজনও রয়েছেন।

১৯ মার্চ, সোমবার ২৩ জন বাংলাদেশির সঙ্গে নজরুল ইসলামকে ছাড়াই লাশ হয়ে দেশে ফেরেন আমৃত্যু একসঙ্গে চলা আখতারা বেগম। এরপর গত ২০ মার্চ, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর কামারুজ্জামান চত্বরের কাছাকাছি একটি গোরস্থানে আখতারা বেগমকে সমাহিত করা হয়। তাদের সন্তানদের ইচ্ছা ছিল, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-মাকে একসঙ্গে দাফন করবেন। কিন্তু বাবা নজরুল ইসলামের লাশ চিহ্নিত না হওয়ায় তা সম্ভব হলো না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) রাজশাহী ব্রাঞ্চের সিনিয়র প্রিন্সিপল অফিসার ছিলেন। তার স্ত্রী আখতারা বেগম রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষক। সম্প্রতি তারা দুজনেই অবসরে যান। তাদের দুই মেয়ে নাজনীন আক্তার কাঁকন ও নারগিস আক্তার কনক।

প্রাথমিকভাবে নজরুল ইসলামের লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে কাঁকন ও কনক জানান, কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় শিকার এক ব্যক্তির শরীরে টেইলার্সের একটা ট্যাগ পাওয়া গেছে। যে টেইলার্সের ট্যাগটা পাওয়া গেছে, ওই টেইলার্স থেকেই তাদের বাবা নজরুল ইসলাম প্যান্ট বানাতেন। বিষয়টির খোঁজ নিতে রাজশাহীর ওই টেইলার্সে ইউএস-বাংলার প্রতিনিধি গিয়েছিলেন। আর এই ট্যাগ দেখেই তারা ধারণা করছেন, তার বাবাকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো ডিক্লারেশন দিচ্ছে না নেপাল কর্তৃপক্ষ।

কাঁকন বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমেই সরকারকে বলতে চাই, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবাকে আর কতদিন এভাবে দেশের বাইরে রাখা হবে? আব্বু দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, অথচ উনার লাশটাই বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে। আমরা অপেক্ষায় আছি, আব্বুর লাশ আসলে রাজশাহীতে আম্মুর পাশেই দাফন করব। আম্মুর পাশে জায়গা রাখা হয়েছে। কিন্তু এখনো আব্বুর লাশ আসছে না, এটা অনেক কষ্টের।’

কাঁকন ও কনক জানান, ২০ মার্চ, মঙ্গলবার সকালে তাদের মায়ের লাশ দাফন হয় রাজশাহীতে। গণমাধ্যমে তারা খবর দেখে ভেবেছিলেন, তাদের বাবার মরদেহ পেয়ে যাবেন। তাই মায়ের জানাজা শেষে তারা ঢাকাতে ফিরে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন গণমাধ্যম থেকে তারা যে তথ্য পেয়েছিলেন সেটার সত্যতা নেই। এর আগেও তার বাবাকে নিয়ে গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে নেপালে গিয়েছিলেন কাঁকন-কনকের মামা অধ্যাপক ডা. মইনুদ্দিন চিশতী। তাদের মামা একা যাওয়ায় ডিএনএ টেস্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ তাহলে শুধু তার মায়ের লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হতো, বাবারটা হতো না। তাই তার মামা দুই দিন পরই ফিরে আসেন। এখন তারাও পাসপোর্ট-ভিসা করে রেখেছেন, নেপাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ টেস্ট করতে বললেই তারা দুই বোন রওনা দেবেন বলে জানান।

আরও খবর

  • ‘রাজশাহীর উন্নয়নের অভিযাত্রায় নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন’
  • রাজশাহীতে মহিলা পরিষদের পাঠচক্র
  • আরএমপি’র ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’ শীর্ষক আলোচনা সভা
  • গোদাগাড়ীতে পানি নিষ্কাশনের জায়গা বন্ধ করে দোকান ঘর নির্মাণ
  • আরএমপির পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী
  • বরেন্দ্রের ভূ-গর্ভস্থে সরে যাচ্ছে বালু-পাথর
  • দুর্গাপুরের আওয়ামী লীগের উঠান বৈঠক
  • রাজশাহীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী সদস্যকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
  • রাজশাহীতে ড্রেন থেকে গাভী উদ্ধার করলো ফায়ার সার্ভিস
  • গোদাগাড়ী উপজেলা আদিবাসী যুব পরিষদের কমিটি গঠন
  • বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চলে ভুট্টার বাম্পার ফলন!
  • রাজশাহীতে মেয়রের ভাই ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার
  • রাজশাহীতে বৈশাখী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
  • রাজশাহীতে সেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল
  • ‘এখন সার-বীজ পেতে কৃষককে জীবন দিতে হয় না’
  • উপরে