রাজশাহীর মাঠে মাঠে আলু উঠানোর হিড়িক

রাজশাহীর মাঠে মাঠে আলু উঠানোর হিড়িক

প্রকাশিত: ১২-০৩-২০১৮, সময়: ১৮:২৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর মাঠে মাঠে আলু তোলা ও সংরক্ষনের হিড়িক চলছে। প্রান্তিক আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের মহাযজ্ঞ দেখা দিয়েছে ক্ষেতে ক্ষেতে। চাষি পরিবার পার করছেন ব্যস্ত সময়। তবে দাম না থাকায় প্রান্তিক চাষিরা হতাশায় ভুগছেন।

রাজশাহীর কোল্ড স্টোরেজ গুলোতে শুরু হয়েছে আলু সংরক্ষণ কার্যক্রম। এবারে সংরক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী চাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু মজুত করছেন। রাজশাহীতে ছোট-বড় প্রায় ৩৮টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারের ধারণ ক্ষমতা ৫০ কেজি ওজনের প্রায় ৬৪ লাখ বস্তা। কিন্তু এবারে কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা আলুর আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে।

এবারে ৪০ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন ভাল হলেও কাংখিত দাম না থাকায় প্রান্তিক চাষিদের মুখে হাসি নেই। বর্তমানে জমি থেকে প্রায় ৮ টাকা প্রতিকেজি আলু বিক্রি করছেন চাষিরা। এতে বাজার মূল্য এবং উৎপাদন খরচ একই সমান। এর চেয়ে কম হলে বিশেষ করে প্রান্তিক চাষিরা লোকসানের মুখে পড়বেন।

তিন ধরনের চাষি আলু উৎপাদন করে থাকেন। প্রান্তিক চাষি, ব্যবসায়ী কাম চাষি এবং হিমাগার কাম চাষি। উঠতি মৌসুমে আলুর দাম কম থাকলে প্রান্তিক চাষিরা বিপদে পড়েন। তারা অনেকটা স্থানীয়ভাবে ঋণ নিয়ে আবাদ করে থাকেন। আবাদের দাম ভাল থাকলে ঋণ শোধ হয়। আর দাম না থাকলে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকে। অবশেষে পৈত্রিক কিছু বিক্রি করে দেনা শোধ করতে হয়।

ব্যবসায়ী কাম আলু চাষি ও হিমাগার পক্ষের চাষিরা উঠতি সময়ে আলুর দাম আকাশছোঁয়া হলেও বিক্রি করেন না। ব্যবসায়ী কাম চাষিদের অনেকেই হিমাগারের কাছে থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করে থাকেন। ঋণ নেয়ার কারণে হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন এসব চাষিরা। তাই বাধ্য হয়েই হিমাগারে আলু মজুত রাখেন তারা। কিছু আলুর আবাদ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন যারা তারা আরো লাভের আশায় কখনোই উঠতি মৌসুমে আলু বিক্রি করেন না। আর হিমাগার পক্ষের চাষিদের উঠতি সময়ে আলু বিক্রির প্রশ্নই আসে না। কারণ আলু মজুত রাখার জন্যই প্রয়োজনের অধিক আলু রক্ষনে হিমাগার বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ৩৮টি হিমাগারে সেসব আলু সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে বেশিরভাগ হিমাগার মালিক এবার বস্তায় ৫০ কেজি করে আলু নিচ্ছেন। প্রতিটি হিমাগার চত্তর এখন আলুর বস্তাতে ঠাসা। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যে এসব হিমাগারে প্রায় ৬৪ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করতে হবে। তাই মাঠে চাষি পরিবার এবং হিমাগারে কর্তপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বহন শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমনটিই জানালেন আমান কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক।

সরোজমিনে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি এলাকার নন্দনহাট বিলে দেখা যায় শ্রমিকদের নিয়ে আলু তোলা ও সংরক্ষণ কাজে ব্যস্ত রুপবান আলী। আলুর কেমন দাম, লাভ হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বেশী জমিতে আলু করেন তারা উঠতি সময়ে বিক্রি করেন না। প্রান্তিক চাষিরা আলুর ভাল দাম না থাকায় হতাশায় ভুগছেন।

আলুর দামের বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা দেব দুলাল ঢালী বলেন, বাজার দেখভালের বিষয়টি কৃষি বিভাগের ওপর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে বাজার মনিটরিং-এর ওপরে। তবে আবাদ ভাল হওয়ায় এখন পর্যন্ত চাষিরা লাভে আছেন।

আরও খবর

  • পবায় নকল নবীস বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে নিহত
  • পুঠিয়ায় আমের ট্রাকে ফেনসিডিল, ২ যুবক গ্রেপ্তার
  • তানোরে যৌতুক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার
  • রাসিকে প্রচারণার বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে ইসি
  • বাগমারায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
  • পুঠিয়ায় গ্রেপ্তার বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে
  • গোদাগাড়ীতে গাছের চারা বিতরণ
  • গোদাগাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ৭৫ মাদকসেবীর কারাদন্ড
  • রাজশাহীতে আম ১২ টাকা কেজি!
  • রাজশাহীতে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
  • ব্যাংক কর্মকর্তার প্রতারণায় প্রতিবন্ধী পরিবার নিঃস্ব
  • বাঘায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে নিহত ১
  • বাঘায় মেয়ের হত্যার অভিযোগে বাবার মামলা দায়ের!
  • আ.লীগ সভানেত্রীকে মেম্বারের কু-প্রস্তাব, থানায় অভিযোগ
  • চারঘাটে ফেন্সিডিল ও ওয়ারেন্টভূক্তসহ ৫ আসামী আটক


  • উপরে