শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতির আশঙ্কায় রাজশাহীর কৃষক

শৈত্যপ্রবাহে ক্ষতির আশঙ্কায় রাজশাহীর কৃষক

প্রকাশিত: ০৫-০১-২০১৮, সময়: ১৬:৫৩ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সাথে সাথে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কমেছে তাপমাত্রা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ছিন্নমুল মানুষের জীবন আরো দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। পাশা-পাশি বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

কৃষির ক্ষেত্রটা জলবায়ুর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। অভিজ্ঞ চাষিরা বলছেন এ আবহাওয়ায় আম, আলু, সরিষা, ধানের চারা, মশুর ও সবজির ক্ষতি হবে।

স্থানীয় লোকজন জানান, একটানা শৈত্য প্রবাহ এবং পৌষের কন-কনে শীতের কারণে রাজশাহীর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এবং ফসল উৎপাদনকারিরা। বিশেষ করে আম, আলু, ধানের চারা, মশুর, সরিষা ও সবজি চাষিরা দুঃচিন্তায় পড়েছেন। তারা বলছেন, যদি এ ভাবে একটানা সত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান অর্থকরি ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ধানের বীজতলার চারা মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

রাজশাহীর আম প্রধান অঞ্চল বাঘা উপজেলার কৃষক আলী আকবর বলেন, এখন আমগাছে মুকুল হওয়ার সময়। কিছু-কিছু বাগানে যথারীতি মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ কারনে আমরা কৃষকরা বাগানে বালাইনাশক প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। যাতে করে গাছে গরম ধরে এবং দ্রুত মুকুল বের হয়। তিনি বলেন, যদি এভাবে শৈত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে ঘন কুয়াশায় গাছের পাতাসহ মুকুল ঝরে যাবে । এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা।

জেলার পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের বোরো চাষি আফাজ উদ্দিন সরকার জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের চারা পুড়ে মরে যায়। তিনি এবারে সাতবিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সেই অনুযায়ী বোরো ধানের বীজ বোপন করেছেন। তিনি বলেন, গতবার অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। তবে এখনো তার বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি।

তথ্য মতে, বুধবার রাত থেকে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তে শুরু করেছে ঘন কুয়াশা। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ছিল ৬ থেকে ১০ ডিগ্রীর মধ্যে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমশীতল হাওয়া। এতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। বিশেষ করে রাজশাহী এলাকার যে সমস্ত এলাকায় নদী রয়েছে সেই এলাকার মানুষগুলো শীতে থর-থর করে কাঁপছে। অনেকেই খরকুটা জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছে। কোন জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেহ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দুর্ভোগ বেড়েছে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ-বালাই।

আবার পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে পদ্মা তীরবর্তী চরাঞ্চলবাসির। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, শীত যতটা না কাবু করছে, তার চেয়ে বেশি কাবু করছে হিমেল হাওয়া। যেন শরীরে তীরের মত এসে বিঁধছে ঠান্ডা। এর ফলে একদিকে কষ্ট পাচ্ছে হত দরিদ্র মানুষ-অপর দিকে নষ্ট হচ্ছে সবুজ ভান্ডার হিসাবে খ্যাত চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, শৈত্য প্রবাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটায় সভাবিক। তবে এখকন পর্যন্ত ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। আর এ অবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আমরা প্রতি শীত মৌসুমে এ রকম অবস্থার মুখোমুখি হয়। কুয়াশা জনিত আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে কৃষকদের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ নানা পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আরও খবর

  • নৌকার গণসংযোগে ডা: শিমুলের চিকিৎসা সেবা
  • প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বিমানের নারী কেবিন ক্রুরা
  • আমরা কি অপদার্থ, ফখরুল
  • সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে ২০০ লাশের সন্ধান!
  • ‘খালেদার সুচিকিৎসায় সরকার সব ব্যবস্থা নেবে’
  • জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করাই প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য : রিজভী
  • ‘দেশে আসুন, আপনার ভয় কি?’
  • সৌদি রাজপ্রাসাদের কাছে খেলনা ড্রোন, গোলাগুলি-বিস্ফোরণ
  • ধুনটে বজ্রপাতে প্রতিবন্ধীর যুবকের মৃত্যু
  • নলডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু
  • কলারোয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত
  • পাকিস্তানে ১৩০০০ নিরাপত্তা পুলিশ প্রত্যাহার
  • গাইবান্ধায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ৪
  • গাইবান্ধায় দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
  • ধুনটে কলেজছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা
  • উপরে