এবার টমেটোতে আশার আলো দেখছেন গোদাগাড়ীর চাষিরা

প্রকাশিত: ০৮-১০-২০১৭, সময়: ২৩:১৮ |
Share This

নিজস্ব প্রতিবেদক : টমোটো চাষ সবচেয়ে বেশী হয় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী এলাকায়। কয়েক বছরে এই চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে উপজেলাজুড়ে। জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ টমেটো চাষ এ উপজেলাতে হয়ে থাকে। গত বছর দাম না পেয়ে লোকসান গুনতে হলে এবার লাভের প্রত্যাশাই মাঠে নেমে পড়েছেন চাষিরা। বিশেষ করে এবার কৃষকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে গোদাগাড়ীতে নির্মিত প্রাণ-আরএলএফ এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। যেখানে টমেটো প্রক্রিয়াজত করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, এ বছর রাজশাহী জেলায় টমেটো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলাতেই ২ হাজার ৫শ’ হেক্টর। ইতোমধ্যেই আগাম জাতের এই শীতকালীন টমেটো গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। কোন কোন ক্ষেতে ছোট ছোট টমেটো দেখা যাচ্ছে। টমেটো ঘিরে প্রতি বছরই গ্রামীণ এই জনপদে ঘুরতে থাকে অর্থনৈতিক চাকা। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না।

মৌসুমের শেষ দিকে টমেটোর দাম কম থাকে। কিন্তু এবার আর সেই শঙ্কা নেই রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চাষিদের। টমেটোর রাজধানীতে গড়ে উঠছে প্রাণ-আরএলএফ এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। আসছে মৌসুমেই কৃষকদের টমেটো নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করবে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে টমেটো চাষে মাঠে নেমেছেন বরেন্দ্রের এ অঞ্চলের টমেটো চাষিরা। লোকসানের শঙ্কা না তাকায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার প্রত্যাশা করছে কৃষি দপ্তর।

সরোজমিন দেখা গেছে পুরো উপজেলা জুড়েই টমেটোই ব্যস্ত চাষিরা। কেহ এখনো টমেটো রোপনের জমি তৈরী, কেহ টমেটো চারা রোপন, আবার কেহ টমেটোর ক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেদিকেই চোখ যায় টমেটোর ক্ষেতই দেখা যায়। টমেটোর গাছে এলাকা সবুজময় হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন কারনে এবারে চাষ কম হচ্ছে।

গত ২০১৬-১৭ মৌসুমে রাজশাহীতে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর টমেটো। ২১ দশমিক ২ টন হারে উৎপাদন হয়েছে ৬৬ হাজার ৫৩২ টন। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে এ অঞ্চলে উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড এক লাখ ২১ হাজার ৭২২ টন টমেটে। সেই বার আবাদ হয়েছিলো ৪ হাজার ৯২৬ হেক্টর। গড় ফলন ছিলো ২৪ দশমিক ৯৬ টন। তবে সার-কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি এবং নায্যমূল্য না পাওয়ায় থেকেই ধীরে ধীরে জেলায় কমেছে টমেটো চাষ। আমের পরপরই গুনে মানে দেশসেরা রাজশাহীর টমেটো। এ টেমেটো পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতি মৌসুমে বাণিজ্য হয় কোটি টাকার। টমেটো চাষ করে এরই মধ্যে ভাগ্য ফিরিয়েছেন অনেকেই।

উপজেলার গোপালপুর আমানাতপুরের বাসিন্দা সেলিম রেজা। প্রায় ১০ বছর ধরে টমেটো চাষ করছেন তিনি। তাকে ক্ষেতেই পাওয়া গেলো শ্রমিকদের নিয়ে ক্ষেত পরিচপর্যায়। সেলিম জানালেন, বছর দশেক আগে ৭ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন তিনি। লাভজনক হওয়ায় পরের বছর চাষ করেন ১০ বিঘা। সংসার খরচা মিটিয়ে লাভের টাকা দিয়ে ১৪টি মহিষ কিনে খামার গড়েন। তৃতীয় বছর থেকে টানা তিন বছর লোকসানে বাধ্য হয়েছেন মহিষ বিক্রি করতে। গত বছর থেকে দুই-আড়াই বিঘা টমেটো চাষ করেন।

উপজেলার টমেটো চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচা মিলিয়ে প্রতি বিঘা টমেটো চাষে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ হাজার টাকা। আর তা থেকে আয় হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

চাষিরা জানান, ক্ষেত থেকে টমেটো ওঠে ৮ দফা। প্রথম দফায় প্রতিমণ টমেটো বিক্রি হয় এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। পরের তিন দফায় দাম কমে দাঁড়ায় এক হাজারের নিচে। শ্রমিক খরচা না ওঠায় শেষ দফায় ক্ষেত থেকে টমেটো তোলেননা অনেকেই। তবে এর আগের দুই দফা প্রতিমন টমেটো বিক্রি হয় ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়।
তবে চাষিদের সেই দুর্ভোগ কাটছে। টমেটোর সহজলভ্যতায় উপজেলার গোপালপুর আমানাতপুরে গড়ে উঠছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। গত মৌসুমে আমের পাল্প তৈরীর মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আসছে মৌসুমে টমেটো পাল্প তৈরী করবে প্রাণ। এতে টমেটো চাষিদের মাঝে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক সারওয়ার হোসেন বলেন, তাদের কারখানায় প্রতিদিন ৬০০ টন টমেটো পাল্প তৈরী হবে। কারখানাটি পুরোপরি চালু হলে প্রায় ৭ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। গতি আসবে এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে। তিনি বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে টমেটোর নায্য দাম পাননা চাষিরা। ওই সময় তারা সরবরাহকারীদের মাধ্যমে টমেটো নেবেন। এর বাইরেও চুক্তির আওতায় থাকা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল নেবেন তারা। কারখানায় সরবাহের আশায় গোদাগাড়ী অঞ্চলের কৃষকরা আরো বেশি টমেটো চাষে ঝুঁকছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি। তিনি বলেন, টমেটো চাষ লাভজনক হওয়ায় ব্যাপক ছড়িয়েছে এ এলাকায়। এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিনত হয়েছে এটি। গোদাগাড়ীতে উৎপাদিত আগাম টমেটো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়। তিনি বলেন, এবার টমেটো চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার কথা। কেবল এবারই নয় ফসলের নায্যমূল্য পেলে আরো বেশি টমেটো চাষে নামবেন চাষি। পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে কৃষকদের পাশে থাকবে কৃষি দপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের হিসেবে, ২০১৫-১৬ মৌসুমে রাজশাহীতে টমটো চাষ হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ হেক্টর। সেই বার ২৩ দশমিক ১৩ টন হারে উৎপাদন ছিলো৭৫ হাজার ৫৪৩ টন। একই গড়ে এর আগের মৌসুমে উৎপাদন হয় ৮৮ হাজার ৩৬৮ টন টমেটো। সেই বার চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৪ হাজার ১৩০ হেক্টর টমেটো ক্ষেত থেকে উৎপাদন হয়েছে ৯৮ হাজার ৭০৭ টন। ওই বছর প্রতিহেক্টরে গড় ফলন ছিলো ২৩ দশমিক ৯ টন। এর আগের মৌসুমে টমেটো চাষ হয় ৩ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে। ২৩ দশমিক ৭ টন হারে ফলন হয়েছে ৮১ হাজার ৯৬১ টন।

Leave a comment

আরও খবর

  • আ.লীগ ছুটছে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে
  • একক প্রার্থীর বিষয়ে জোর দিলেন তৃণমূলের নেতারা
  • নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতিতে জাপা
  • আওয়ামী লীগের সহসম্পাদকের তালিকায় ৯৩ জন
  • যানজটে আটকে গেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন
  • রাবির ভর্তিযুদ্ধে সোয়া লাখ শিক্ষার্থী
  • টানা বৃষ্টিপাতে রাজশাহীর কৃষকের ঘরে ‘কান্না’
  • অধিক সময় টানা দেশ শাসনে আ.লীগ
  • বড় শহরগুলোতে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে
  • যেসব গুণে মিলবে নৌকার মনোনয়ন
  • নব্বই থেকে লাখপতি
  • রাজশাহীতে শামুকখোলের সুখের নিবাস
  • ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের শিকার উত্তরা গণভবন : নেপথ্যে গাছ ও মাছ
  • সাপাহার হাসপাতালে ২৭ চিকিৎসকের ২৫ জনই নাই
  • রাজশাহীর ৯ পৌর-ইউপিতে ভোটের হাওয়া
  • উপরে