নতুন সম্ভাবনার নাম মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর : বদলে যাবে অর্থনীতির চাকা

নতুন সম্ভাবনার নাম মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর : বদলে যাবে অর্থনীতির চাকা

প্রকাশিত: ২৪-০৪-২০১৮, সময়: ১৩:১০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। যা ‘ভিশন -২০৪১’ পূরণে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে। জাপানের অর্থায়নে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় লক্ষ্যমাত্রায় নির্মাণ হবে এই গভীর সমুদ্রবন্দর। প্রকল্প পরিচালক জাফর আলম জানান, এ বন্দরে শুল্কায়নসহ কাস্টমস সুবিধা নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বন্দর-কাস্টমস-জাইকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে।(চবকের) কর্মকর্তারা জানান, বন্দরটির নির্মাণ প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি, দুটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং এবং একটি এপ্রাইজল মিশন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে জাইকার সঙ্গে ঋণ নেগোসিয়েশন কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রকল্পটিকে ঘিরে ব্যবসায়ী যারা বন্দর ব্যবহার করে থাকেন তাদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদের সৃস্টি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ফোরাম নেতা চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ও সার্ক চেম্বারের নেতা মাহবুবুল আলম মনে করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নৌবাণিজ্য পাল্লা দেওয়া, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই পোর্ট। বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমদ মিন্টু মনে করেন, ভবিষ্যতে নৌ বাণিজ্যের বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে এই গভীর সমুদ্রবন্দরটি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের জওহরলাল নেহেরু পোর্টে জাহাজ ভেড়ে সর্বোচ্চ ১৩১০০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে, চেন্নাই বন্দরে কনটেইনার জাহাজ ভেড়ে ৬৮০০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে, কলম্বো পোর্টে ১৯২০০ টিইইউএস কনটেইনার নিয়ে জাহাজ ভেড়ে। অপর দিকে আমাদের দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে আড়াই হাজার টিইইউএসের বেশি কনটেইনার নিয়ে কোনো জাহাজ ভিড়তে পারে না। এ অবস্থায় অধিক ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ার স্বার্থে মাতারবাড়ীতে ডিপ সিপোর্ট নির্মাণ জরুরি। মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে দ্বিগুণ বেশি ধারণ ক্ষমতার জাহাজ হ্যান্ডলিং করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরের চাপ কমবে।

মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখবে। এর ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভিশন -২০৪১’ লক্ষ্য অর্জনে বিশেষ অবদান রাখবে । বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী ।

উপরে