কী হবে ৫ ডিসেম্বরে?

কী হবে ৫ ডিসেম্বরে?

প্রকাশিত: ৩০-১১-২০১৯, সময়: ২০:২০ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিনই জানা যাবে তিনি জামিন পাচ্ছেন কিনা। এদিকে ৫ ডিসেম্বর ঘিরে নানান রকম বক্তব্য দিয়েছে বিএনপি নেতারা। তাদের মন্তব্য ঘিরে নানান রকম রহস্য তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গণে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার বলেছেন, আগামী পাঁচ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে দেশের মানুষ সত্যটা জানতে পারবে।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, ‘ওনার স্বাস্থ্যের অবস্থা এতো ভয়ংকর এতো ভয়াবহ যে, এই মুহূর্তে তাকে ওখান থেকে বের করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা দরকার। গতকাল একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলছিলাম, তিনি জানালেন, যে ড্যামেজ তার হচ্ছে সেটা আর ফিরে আসবে না। মধ্যে তার বাঁ হাত, বা সাইটটা প্যারালাইসট। কারো সাহায্য ছাড়া তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। অথচ তাদের সরকারি কর্মকর্তা পিজি পরিচালক বলছে বলছেন তিনি ভালো আছেন, আগের চেয়ে এখন ভালো। ধিক্কার দেই আমি, জ্ঞানহীন এই মানুষদের। যারা সত্যকে গোপন করে তাদের এখানে থাকার অধিকার নেই।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের জোট এবং আমরা কখনই সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনীতি করতে চাই। এটা বারবার বলেছি এবং প্রমাণিত হয়েছে। সন্ত্রাসী তো এই সরকার, তারা এই পথে বাধা সৃষ্টি করছে। গত নির্বাচনে তারা সন্ত্রাস করে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এখনো সন্ত্রাস করে জোর করে মানুষকে দাবিয়ে রেখে তারা টিকে থাকতে চাচ্ছে।’

এদিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে।

অন্যদিকে বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তারা (বিএনপি) যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তবে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ফলে এই দিনটিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সঙ্গতকারণে সেদিন আদালতের কি আদেশ হয় তা দেখতে কৌতূহলী রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। জানা গেছে ওইদিনকে ঘিরে উচ্চআদালতের ভেতরে-বাইরে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ নভেম্বর। এদিন হাইকোর্টের সামনে বিক্ষোভ করে বিএনপির সমর্থক ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’। এ সময় বিএনপির কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। গাড়ি ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কর্মীদের সঙ্গ পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যার পাল্টা জবাবও দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ।

Leave a comment

উপরে